পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ফুলের অসুখ

  • খায়রুল আলম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-14 13:31:35 BdST

অনেকদিন আগের কথা। পাহাড়ের ঢালে একটি বাগান ছিল৷ ফুলবাগান। বাগানে ছিল জবা, গোলাপ, সূর্যমুখি, গাঁদা ও গন্ধরাজসহ নানা ফুলের গাছ।

বাগানের পাশেই ঝরনা। স্বচ্ছ পানি। ছলাত ছলাত শব্দ। কি দারুণ! ফুলগাছগুলো সারি সারি। একটি দুটো নয়, শতাধিক। বাগানে প্রজাপতির উড়াউড়ি। লাল, নীল, হলুদ, কমলা ও সবুজ রঙের। একটি ফুলগাছ একটি পরিবার। পাশের গাছটি প্রতিবেশী। সবাই মিলে একটি গ্রাম- ‘ফুলগ্রাম’।

ভোরের আলোয় জেগে ওঠে পাখিরা। পাপড়ি মেলে ফুলগুলো। সুবাসিত হয় চারপাশ। কিন্তু আজ কেউ  জাগেনি। না ডালিয়া, না গাঁদা, না গোলাপ, না জবা গাছটা। টুনটুনি বলল- কি গো গোলাপ বুবু, সকাল হলো সেই কবে! উঠবে না!

শালিক বলে উঠল, গোলাপ বুবু শরীর খারাপ?

না গো সই, শরীর ভালো। মনটা খারাপ! মেয়েটি অসুস্থ। এভাবে চললে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়বো।

সবুজ টিয়েটি বলল- বুবু, গোলাপ মেয়ের কী হয়েছে? কাল তো কি সুন্দর ফুটেছিল! বাতাসে দোল খাচ্ছিল। নাচছিল।

আর বলিস নে বোন, ওই দেখ, গাঁদাছানাও অসুস্থ। জবাটিও। ডালিয়ার মেয়ে। গন্ধরাজের খোকা। সবার অসুখ!

তাইতো, এজন্যই বুঝি আজ কেউ জাগেনি? ভারি আশ্চর্য! একসঙ্গে সব্বার অসুখ।

হ্যাঁ রে বোন, একসঙ্গে সব্বার অসুখ। ফুলের অসুখ। গাছের অসুখ। বিষয়টি নিয়ে পাখিরা চিন্তিত। শালিক, টিয়ে, বক ও টুনটুনি।

কারণটা কী? হঠাৎ সব্বাই অসুস্থ হওয়ার কথা নয়! টুইছানা চোখ কুঁচকে ডাকে- সূর্য ভাই, ও সূর্য ভাই...ভাই...

কি রে টুই? কেমন আছিস? সাতসকালে ডাকছিস কেনো? মিষ্টি রোদ চাই, তাই না?

না গো, রোদ চাই নে, সমাধান চাই! দেখ না, ফুলের অসুখ। ফুলগ্রামের সব ফুলেরা অসুস্থ।

ওমা, সে কি অবাক কাণ্ড! শুনো তবে অসুখের কারণ। দেখনি আজকাল এখানে মানুষজন বনভোজনে আসছে। খাবার খাচ্ছে। পলিথিন, আইসক্রিমের পলি, এটা সেটা ফেলছে। এখানে সেখানে। এতে দূষিত হয় মাটি। বাতাস। পরিবেশ। ফেলে যাওয়া খাবার পঁচে গন্ধ ছড়ায়। তাইতো ফুলেরা অসুস্থ।

পাখিরা বলল- এর সমাধান কী? ফুলেরা সুস্থ হবে না! আগের মতো ফুটবে না! সুবাস ছড়াবে না!

ফুটবে গো ফুটবে, ঘ্রাণও ছড়াবে। বলছি শুনো, বাগানের নোংরা পলি, পঁচা খাবার পরিষ্কার করতে হবে। এজন্য কাক পাখিদের সাহায্য নিতে পারো। শহরের ডাস্টবিনে ময়লা থাকে। কাকপাখিরাই তো ওসব খেয়ে খেয়ে পরিষ্কার করে। তা না হলে মানুষও অসুস্থ হতো ফুলের মতো।

সূর্যের কথামতো কাকপাখিদের ডাকা হলো। পুরো বাগান পরিষ্কার হলো। গাছগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। পরদিনও সকাল হলো। পাখিরা জাগলো। ফুলে ফুলে ভরে উঠলো বাগানটা। আনন্দে উড়ছিল রঙ-বেরঙে প্রজাপতি। বাতাসে দোলছিল গোলাপ মেয়ে, গাঁদাছানা, লাল জবা, ডালিয়ার মেয়ে ও গন্ধরাজের খোকা।

সূর্য ভাই ডাকছে- ও ফুলেরা, পাখিরা শুনো সবে, বনভোজনে যারাই আসে সবার উচিত যেখানে সেখানে এটা সেটা না ফেলা। অতিরিক্ত খাবার নষ্ট না করা। কিন্তু মানুষ আমাদের কথা শুনে না। বুঝে না। তাই আমাদের কাজ, আমাদেরই করতে হবে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। আসি গো। সব্বাই ভালো থেকো। টা টা।

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!