২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

প্রতিদিনের স্পর্শে জীবাণু পূর্ণ জিনিস

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক,, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-08-17 16:46:56 BdST

bdnews24

মোবাইল ফোনে কথা বলছেন আর হাত ধুচ্ছেন বাথরুমের বেসিনে। হাত না হয় পরিষ্কার হল। তবে মোবাইল ফোনটাও যে জীবাণুতে ভরপুর থাকতে পারে সেটা কি ভেবে দেখেছেন?

নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসই আছে যা খালি চোখে দেখতে পরিষ্কার লাগলেও, সেগুলো থাকতে পারে জীবাণুতে পূর্ণ। যা থেকে হতে পারে নানান রোগ।

এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে প্রতিদিন কাজে লাগে এরকম কিছু জিনিসের নাম, সেগুলো পরিষ্কার রাখা ও সাবধান থাকার উপায় জানানো হল।

এটিএম মেশিন: প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে কেউই হাত ধুয়ে এসে ব্যবহার করেন না। আর বাইরের ধুলাবালি, বাতাসে ভেসে বেড়ানো বিভিন্ন জীবাণুও পড়ে এগুলোতে। তাই এটিএম মেশিন ব্যবহারের পর হাত পরিষ্কার করতে হবে।

মোবাইল ফোন: এই যন্ত্র আমাদের সবসময়ের সঙ্গী, এমনকি শৌচাগারেও। তাই শৌচাগারের কমোড কিংবা প্যানের চাইতেও ১০ গুণ বেশি নোংরা হতে পারে মোবাইল। বিশেষ করে, এতে থাকতে পারে ‘ই. কোলি’ ব্যাক্টেরিয়া যা ডায়রিয়া, পেটব্যথা ইত্যাদির জন্য দায়ি। উষ্ণ তাপামাত্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এই ব্যাক্টেরিয়া। তাই শৌচাগার ব্যবহারের পর হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফোন ব্যবহার করুন।

রিমোট কন্ট্রোল: টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনার ইত্যাদি বিভিন্ন যন্ত্রের রিমোট ব্যবহার করেন ঘরের মানুষ থেকে অতিথিরা পর্যন্ত। আর যখন ব্যবহার হয় না তখন পড়ে থাকে সোফার ফাঁকে, টেবিল কিংবা মেঝের ধুলাবালিতে। এসবই জীবাণুর আস্তানা। তাই কিছুদিন পরপর জীবানুনাশক উপাদান দিয়ে রিমোট কন্ট্রোল পরিষ্কার করতে হবে।

কম্পিউটারের কিবোর্ড: অফিস কিংবা বাসা যেখানেই হোক না কেনো কিবোর্ড অত্যন্ত নোংরা একটি অনুষঙ্গ। দিনের পর দিন ধুলার আস্তর তো জমেই, সঙ্গে আছে বিভিন্ন ব্যবহাকারীর হাতের জীবাণু, খাবার ও পানীয়র ছড়িয়ে পড়া উচ্ছিষ্ট, পোষা প্রাণির শরীরের ময়লা। তাই কিবোর্ড জীবাণুনাশক উপাদান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আর ব্যবহারের পর হাতও ধুয়ে নিন।

কিচেন স্পঞ্জ বা মাজুনি: প্রতিদিনের এঁটো বাসন, রান্নাঘরের সিঙ্ক ইত্যাদি পরিষ্কার করতে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়ে থাকে কিচেন স্পঞ্জ বা মাজুনি। খাবার তৈরির সরঞ্জাম এবং প্লেট-গ্লাস পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত এই জিনিস পরিপূর্ণ থাকে ব্যাক্টেরিয়ায়। আর ব্যাক্টেরিয়াপূর্ণ মাজুনি বা কাপড় দিয়ে প্রতিবার মোছার সময় ক্ষতিকারক জীবাণু ছড়িয়ে যায় রান্নায় ব্যবহৃত অন্য সব সরঞ্জামেও। তাই জীবাণুর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিবার ব্যবহারের পর স্পঞ্জটি সঠিকভাবে পরিষ্কার করে রাখা জরুরি।

ব্যবহার শেষে স্পঞ্জ বা কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ভালো মতো চেপে পানি ঝেড়ে শুকিয়ে নিতে হবে। আর মাঝে মাঝেই স্পঞ্জটি গরম পানিতে জীবাণুনাশক উপাদান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। আর যখন গন্ধ বের হওয়া শুরু হবে তখনই পরিবর্তন করুন।

টুথব্রাশ: প্রতিবার দাঁত মাজার পর দাঁত ও মুখের জীবাণু এঁটে যায় ব্রাশে। আর বেশিরভাগ মানুষই টুথব্রাশ রাখেন বাথরুমে বা বাথরুমের কাছাকাছি বেসিনের ওপর। ফলে যেসব ব্যাক্টেরিয়া বাতাসে ভেসে বেড়ায় সেগুলোও আটকে যায় ব্রাশে।

টুথব্রাশ শুকানোর জন্য একটি হোল্ডারে রাখা উচিত। আর সম্ভব হলে বাথরুম থেকে দূরে রাখা উচিত। অসুস্থ হলে সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং সাধারণত তিন মাস পরপর ব্রাশ বদলে নিতে হবে। পরিষ্কার রাখতে হবে টুথব্রাশের হোল্ডারটিও। এজন্য হোল্ডারটি ডিশওয়াশারে ডুবিয়ে রাখতে পারেন।

অফিসের বিভিন্ন আসবাব: অফিসের ওভেনের সুইচ, ফ্রিজের দরজার হাতল, প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের সুইচ, পানির কল সবকিছুই জীবাণুতে সয়লাব। যার প্রধান কারণ অনেকগুলো মানুষের নিয়মিত ব্যবহার। তাই এগুলো ব্যবহারের পর হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

অফিসে রাখা নিজের কাপ বা মগ: কফি বা চা পানের জন্য নিজের কাপ বা মগটি অফিসে না রেখে প্রতিদিন বাসায় নিয়ে ভালো করে সাবান বা ডিশওয়াশার দিয়ে ধুয়ে পরদিন আবার নিয়ে আসুন। কারণ অফিসে রেখে গেলে ধুলাময়লা তো লাগবেই। আর সেই ময়লা মগ অফিসের রান্নাঘরের মাজুনি দিয়ে পরিষ্কার করলেও থেকে যেতে পারে জীবাণু। কারণ অফিসের রান্নাঘরে থাকা মাজুনি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস পরিষ্কার করা হয়। আর সেটা সবসময় ভালো মতো ধুয়ে না রাখার সম্ভাবনাই বেশি।

পোষা প্রাণির খেলনা: ঘরে পোষা কুকুর, বিড়ালের খেলনা জীবাণুর আরেকটি আখড়া। এদের খেলনা নিয়ে খেলা মানেই কামড়ানো কিংবা চাটা। ফলে এদের লালার মাধ্যমে জীবাণু ছড়ায়। আর এই লালা মিশ্রিত খেলনা আরও অসংখ্য জীবাণুর বংশবিস্তার কেন্দ্রে পরিণত হয়। তাই খেলনাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

টাকা: আপনার পকেটের মুল্যবান টাকাগুলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাত ঘোরে। মানিব্যাগেও জীবাণুর কমতি নেই। তাই টাকা নাড়াচাড়া করার পর হাত পরিষ্কার করতে হবে। লালায় আঙ্গুল ভিজিয়ে টাকা গোনার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

পার্স বা ব্যাগ: শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে, প্রতিদিনের ব্যবহৃত পার্স ও ব্যাগেও প্রচুর পরিমাণে ব্যাক্টেরিয়া থাকে। কারণ ব্যাগ নিয়ে অনেক জায়গায় যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়। আর সেখানকার জীবাণু লেগে যায় ব্যাগে। আর সেটা তেমনভাবে পরিষ্কার করাও হয় না।

সপ্তাহে অন্তত একবার কাপড়ে ব্যবহৃত জীবাণুনাশক তরল দিয়ে ব্যাগ বা পার্স পরিষ্কার করুন।

শপিং কার্ট: সুপার শপে কেনাকাটা করার সময় বেশিরভাগ মানুষই কার্ট কিংবা ঝুড়ি ব্যবহার করেন। কাঁচা মাছ-মাংস, তরকারি, প্যাকেট, টিন ইত্যাদি সবই রাখা হয় এই ঝুড়ি কিংবা কার্টে। আর প্রতিদিন একটি ঝুড়ি ব্যবহার করেন কয়েকজন ক্রেতা, ফলে তাদের হাত থেকেও জীবাণু ছড়ায় এগুলোতে।

কার্পেট: বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, কার্পেট বা পাপোশে প্রতি স্কয়ার ফুটে প্রায় দুলাখ ব্যাক্টেরিয়া থাকে। আর এ থেকে চামড়ার রোগ হতে পারে। তাই যারা ঘরে কার্পেট বা পাপোশ ব্যবহার করেন তাদের উচিত সপ্তাহে একবার ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্রাশ লাগিয়ে পরিষ্কার করা। তারপর কাপড়-জীবাণু মুক্ত করার উপাদান ব্যবহার করা।

তোয়ালে: গোছল বা রান্নাঘরে ব্যবহৃত তোয়ালে যদি প্রায় ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় ভেজা অবস্থায় থাকে তবে ছত্রাক ও ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে শুরু করে। তাই ভেজা তোয়ালে ভালো মতো শুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

রোদে বা খোলা জায়গার বাতাসে শুকানো সবচেয়ে ভালো। তিন-চার ঘণ্টা ব্যবহারের পর গরম পানিতে ক্লোরিন ব্লিচ মিশিয়ে ধুতে হবে তোয়ালে। আর এসব করেও যদি আঁশটে গন্ধ- যা ছত্রাকের কারণে হয়, সেটা না যায় তবে বুঝতে হবে নতুন তোয়ালে কেনার সময় হয়েছে।

পোশাক: ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া হলেও অনেক জীবাণু দূর হয় না। যেমন- রোটাভাইরাস। এর থেকে হতে পারে পেটের অসুখ। তাই অন্তর্বাস বা এই ধরনের পোশাক যখন পারা যায় ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ধুতে হবে। আর শুকানোর সময় নিয়ে কার্পণ্য করা যাবে না।

রান্নাঘরের সিঙ্ক: দেখা গেছে টয়লেট সিটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ব্যাক্টেরিয়া থাকে রান্নাঘরের সিঙ্কে। কারণ হিসেবে ধরা হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়ে থাকলেও রান্নাঘরের সিঙ্কের প্রতি তেমন একটা যত্নবান নন অনেকেই। এটা বেশিরভাগ সময়ই ভেজা থাকে আর খাবারের অংশ, শাকসবজির টুকরা প্রায়ই পড়ে থাকে। যা থেকে ব্যাক্টেরিয়া জন্মায়। তাই রান্নাঘরের সিঙ্ক নিয়ম করে পরিষ্কার করা জরুরি।

প্রতি সপ্তাহে দুতিনবার রান্নাঘরের সিঙ্ক পরিষ্কার করা উচিত। বিশেষ করে রান্নার পর এবং বাসন ধোয়ার পর অবশ্যই সিঙ্ক পরিষ্কার করা দরকার। বিশেষ করে বেসিনের পানি যাওয়ার জায়গা ভালো মতো গরম পানি ও জীবাণুনাশক উপাদান দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।

তরল-সাবানের পাত্র: বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁ কিংবা বসাবাড়িতেও তরল-সাবান রাখার জন্য যে বোতল বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তা থেকেও জীবাণু ছড়ায়। শুধু ময়লা হাতেই এই বোতল বা যন্ত্র চাপ দিয়ে সাবান বের করা হয় না, ভেতরের সাবান শেষ হওয়ার আগেই যদি নতুন তরল-সাবান ভরা হয় তবে সেটা দুষিত হয়ে যেতে পারে। আর এই সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর যা ধরবেন তাতেই ছড়িয়ে যেতে পারে জীবাণু।

তাই ভালোমতো হাত ধুরে পেপার-টাওয়েল বা টিস্যু ব্যবহার করে হাত মুছুন। কেননা গরম হাওয়া দেওয়া হাত শুকানোর যন্ত্র থেকেও জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।

ছবি: নিজস্ব ও রয়টার্স।

আরও পড়ুন

ঘরোয় পণ্যে তেজস্ক্রিয়তা ও প্রতিকার  

হাত পরিষ্কারের ৬টি ধাপ  

খাবার নিয়ে ধারণা  


ট্যাগ:  প্রতিবেদন  লাইফস্টাইল  জেনে রাখুন