পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

চাকরিতে বেতন নিয়ে আলোচনা করার পন্থা

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-02-25 11:13:52 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স

নতুন চাকরিতে মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেতন নিয়ে আলোচনার করার কয়েকটি পন্থা জানা থাকলে ঘাবড়ানোর সম্ভাবনা কমবে।

চাকরির শুরুতে বেতনে নিয়ে ‘দর কষাকষি’ করতে গিয়ে অনেকেই দিশা খুঁজে পান না কী বলবেন।

কত চাওয়া উচিত? যদি বেশি চেয়ে ফেলি? যদি অনেক কম চেয়ে ফেলি?- এমন নানান প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে।

তবে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিলে সব পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। আর বেতন নিয়ে প্রস্তুতি সম্পর্কিত কিছু পরামর্শ জানানো হল জীবনযাত্রা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা: যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগেই থেকেই কিছু সাধারণ জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে কিংবা আগে করেছে এমন কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে তাদের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। কাজের পরিধি এবং প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা সম্পর্কিত নিয়মাবলী জানাই হবে মুখ্য উদ্দেশ্য।

পাশাপাশি বেতন ব্যতিত ওই প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের আর কী সুযোগ সুবিধা দেয় সেটাও জানার চেষ্টা করতে হবে। এদের মধ্যে থাকবে চিকিৎসা ভাতা, অবসর ভাতা, বেতন বৃ্দ্ধির নিয়ম, কাজের ভিত্তিতে এবং বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দেওয়া বোনাস ইত্যাদি বিষয়।

আত্মবিশ্বাস: প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার পর আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজের ওপর ভরসা না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মী আপনার ‍উপর আস্থা পাবেন না। বরং তাদের শক্ত কথার নিচে চাপা পড়ে আপনার যোগ্যতার তুলনায় কম বেতনেই আলোচনা শেষ হবে।

নিজের যোগ্যতা উপস্থাপন: যে পদের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন সেই পদের জন্য নিজে কতটা যোগ্য সেটাই উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে চেষ্টা করতে হবে নিজের পারদর্শীতার উপর জোর দেওয়া এবং সেগুলো কীভাবে ওই পদের জন্য উপযুক্ত সেটা উপস্থাপন করা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কীভাবে আরও পারদর্শী হবেন সেটাও তুলে ধরতে হবে।

অন্যান্য সুযোগ ধরে রাখা: চাকরির বাজার বরাবরই অনিশ্চয়তার খেলা। তাই একটি সুযোগের উপর সকল আস্থা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। আর ইন্টারভিউতে অন্যান্য সুযোগ আছে সেটা কৌশলে এবং ভদ্রভাবে বুঝিয়ে দিতে পারলে বেতন নিয়ে দর কষাকষিও মসৃণ হতে পারে।

সঠিক সময়: বেতন ভাতা নিয়ে আলোচনা বরাবরই শেষের দিকেই হয়, আর তা আপনার জন্যই মঙ্গল। এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হবে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করা। আর সেটা করতে সফল হলে বেতন ভাতা বিষয়ক আলোচনা বেশ সহজ হয়ে আসবে।

অন্যান্য সুযোগ ‍সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা: সব প্রতিষ্ঠানে বাড়তি সুযোগ সুবিধা থাকে না। তবে আপনি যেখানে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন সেখানে এমন কিছু আছে কি না সে বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে নেওয়া ভালো। আর্থিক বিষয় ছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটি, অসুস্থতার ছুটি, অবৈতনিক ছুটির নিয়ম, বেতন বৃদ্ধির হার, পদন্নোতির সুযোগ, কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার সময় ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে নিতে হবে।

আলোচনা নেতিবাচক হলে: পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইন্টারভিউ যারা নিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ দিন, আপনার পেশাগত জীবনের পরিচিতজনদের মধ্যে তাদেরকে যোগ করুন। সুযোগ কখন কোথা দিয়ে আসে তা কেউ বলতে পারে না। কে জানে হয়ত কয়েক বছর পর আরও ভালো পদের জন্য তাদেরই মুখোমুখি হতে পারেন।

আরও পড়ুন

যেভাবে বুঝবেন চাকরিটা ছাড়ার সময় হয়ে গিয়েছে  

কর্মজীবনের অন্ধকার দিক  

ইন্টারভিউতে যা করা যাবে না  

চাকরির সাক্ষাৎকারে যেমন সাজ  

কর্মক্ষেত্রের ইতিবাচক মনোভাব ফেরাতে