লবণ সমাচার

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-03-20 14:28:48 BdST

bdnews24

‘সি সল্ট’ এবং ‘টেবিল সেল্ট’য়ের কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। আর স্বাস্থ্যকর কোন লবণ সেই বিষয়ে বিতর্কও রয়েছে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের লবণ পাওয়া যায়। তবে এদের মধ্যে ‘সি সল্ট’ বা সামুদ্রিক লবণ আর ‘টেবিল সল্ট’ বা খাওয়ার জন্য সাধারণ লবণই রান্নায় ব্যবহৃত হয় বেশি। আর তাই হয়ত এদুটির মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সামুদ্রিক লবণে থাকে বিভিন্ন খনিজ উপাদান তাই একে বেশি উপকারী বলে মনে করেন অনেকেই। আর সেটা পুরোপুরি ভুল নয়।

সাধারণ লবণের তুলনায় সামুদ্রিক লবণ ও ‘হিমালেয়ান সল্ট’ বা গোলাপি লবণ কম মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত হয়। তাই ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান এগুলোতে বেশি থাকে।

প্রক্রিয়াজাতের পদ্ধতি

সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত করার মাধ্যমে তৈরি হয় সামুদ্রিক লবণ, যা স্বল্পমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

আর টেবিল সল্ট বা খাওয়ার জন্য যে লবণ সাধারণত বাজারে পাওয়া যায় তা সামুদ্রিক লবণ অতি মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে প্রস্তুত হয়। আবার অনেক সময় এই লবণ মাটির তলা থেকেও সংগ্রহ করা হয়।

পার্থক্য

সামুদ্রিক লবণে খনিজ থাকে বলে একে ভালো মনে করলেও আসলে সাধারণ খাওয়ার লবণেও প্রায় একই পুষ্টিগুণ থাকে। দুই ধরনের লবণেই ওজনের হিসেবে সোডিয়ামের মাত্রা সমান।

‘এনভাইরোনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি জার্নাল’য়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়, খনিজ উপাদান ছাড়াও সামুদ্রিক লবণে আরেকটি উপাদান পাওয়া যায় যা আপনার পিলে চমকে দিতে পারে। আর তা হল ‘প্লাস্টিক’। সমুদ্রের পানিতে ফেলা বিভিন্ন ‘প্লাস্টিক’য়ের জিনিসপত্রই এর কারণ।

অপরদিকে খাওয়ার জন্য বাজারে পাওয়া সাধারণ লবণ উচ্চমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত হয়। তাই এর খনিজ উপাদানের মাত্রা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক।

তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, সেটা ভালোভাবে পরিশোধিত এবং তাতে কোনো ক্ষুদ্র ‘প্লাস্টিক’ মিশে নেই।

নব্বইয়ের দশক থেকে খনিজ লবণ প্রস্তুতকারকরা লবণে আয়োডিন যোগ করা শুরু করেন।

আয়োডিন একটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান এবং ‘থাইরয়েড’ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেহে দৈনিক লবণের চাহিদা

পরিমিত মাত্রায় লবণ খেতে সবসময় বলা হয়। ‘দি ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন’ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দিনে পাঁচ গ্রামের নিচে লবণ গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়, যা এক চা-চামচের সমান।

আসল কথা হল

দুই ধরনের লবণই যেহেতু একই মাত্রায় সোডিয়াম বহন করে তাই স্বাস্থ্যের জন্য দুটাই সমান উপকারী। তাই দুই ধরনের লবণ অতি মাত্রায় গ্রহণ করা হলে অপকার হতেই পারে।

দেহের চাহিদা অনুসারে লবণ গ্রহণের মাত্রা ঠিক করা উচিত।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন-

কাঁচা লবণ ক্ষতিকর  

লবণের অপকারিতা  

বেশি লবণের কুফল  

লবণের বিশেষ ব্যবহার  


ট্যাগ:  লাইফস্টাইল  খাদ্য ও পুষ্টি