২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬

নিজেই যখন সমস্যার কারণ

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-22 19:11:23 BdST

bdnews24

সঙ্গীকে দোষ দেওয়ার আগে নিজেকেও একবার ঝালিয়ে নিন।

সম্পর্কে নিজের দোষগুলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। নিজের ভুলগুলো বোঝার চাইতে সঙ্গীকে দোষারোপ করে নিজেকে নির্দোষ বানিয়ে এড়িয়ে যাওয়া খুবই সহজ।

‘আমি আর পারছি না। তোমার সঙ্গে থেকে মনে হচ্ছে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলছি। যেন আমি এক ঝড়ের মাঝে আছি যার কোনো শেষ নেই।’

এই ধরনের কথাগুলো তিক্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নয়। একটি সম্পর্ক ধরে রাখার পেছনে অনেক কিছু করতে হয়। আর আপনি নিজেই যদি হন স্বার্থপর, নিজের অবস্থান নিয়ে দ্বন্দ্বে ভোগেন তবে আপনার সম্পর্কে থাকার যোগ্যতা নেই।

সবসময় নিজের কথাই যদি চিন্তা করেন তবে আরেকজন মানুষ কীভাবে আপনার উপর নির্ভরশীল হবে?

কীভাবে বুঝবেন সমস্যা আপনার মাঝে? সম্পর্কবিষয়ক এক ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অবলম্বনে জানানো হলো এমন কিছু উপায়।

প্রিয় উত্তর ‘না’: সম্পর্ক শুধু প্রাপ্তি দিয়ে টেকে না, তার জন্য ত্যাগও স্বীকার করতে হয়। পরিস্থিতি যাই হোক, আপনার সিদ্ধান্ত যদি বেশিরভাগ সময় নেতিবাচক হয় তবে সমস্যাটা আপনার। আপনার সঙ্গীর আবদার যতই অসঙ্গতিপূর্ণ বা বিরক্তিকর হোক না কেনো, আপনার তা শোনা উচিত। সঙ্গীর প্রতি আপনার মানসিকতা উদার হওয়া চাই।

অন্তর্ঘাতি চিন্তাভাবনা: সঙ্গীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত কলহ বাঁধলে এবং আপনার মাথায় যদি সবসময় তাকে নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা ঘুরপাক খায় তবে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করেতে হবে এমনটা কেনো হচ্ছে? আপনার সঙ্গী আসলে কী করেছে? একটি সুখী সম্পর্কে আপনার নেতিবাচক চিন্তাভাবনা অন্তর্ঘাতি পরিস্থিতি ডেকে আনলে অবশ্যই সেখানে আপনিই দায়ী। 

সঙ্গীর ওপর দায়িত্ব চাপানো: ঘরের কাজ, বাইরের কাজ এবং সম্পর্ক ধরে রাখার কাজ সবকিছুই দায়িত্ব এবং তা দুজনেরই। সম্পর্ক থেকে নিজের জন্য সবকিছু নেওয়াটা সহজ, এমনকি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন না যে আপনিই এমনটা করছেন। যদি নিজে বসে থেকে সঙ্গীকে এটা ওটা করতে বলেন এবং বিনিময়ে নিজে কোনো সাহায্য না করেন তবে আপনি একজন ভালো সঙ্গী নন। ভাবতে হবে সঙ্গীর জন্য আপনি প্রতিদিন কী করতে পারেন, তা যত সামান্যই হোক না কেনো। কারণ সেটাই হবে আপনার প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

অনুভূতি চেপে রাখা: নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সঙ্গীকে না জানানো সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত। ব্যাপারগুলো নিয়ে আলাপ করতে হয়ত আপনার ভালো লাগে না, কিন্তু যখন আপনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন, আপনার উপায় নেই। আলাপ করতেই হবে, পালিয়ে বাঁচতে চাইলেই বিপদ ডেকে আনা হবে। আর সেই পরিস্থিতির জন্য আপনিই দায়ী হবেন।

ভুল স্বীকার না করা: সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল নিজের দোষ স্বীকার করা। আপনি যদি নিজের কাজের দায়ভার নিতে না পারেন তবে সম্পর্ক টিকবে না এটাই স্বাভাবিক। আর ভুল করলে ক্ষমা চাওয়া মানসিক পরিপক্কতার পরিচয় দেয়। যদি নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে না পারেন তবে আপনার সম্পর্কে যাওয়া উচিত নয়।

অপরের সামনে সঙ্গীর বদনাম: সঙ্গীর সামনে সবকিছু ঠিকঠাক আছে এমন ভান করলেন আর তার আড়ালে গিয়ে বন্ধুদের সামনে তার খারাপ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন, এবার নিজেই চিন্তা করে দেখুন সঙ্গীকে আপনি কতটা ভালোবাসেন। এমনটা যদি কেউ আপনার সঙ্গে করে, তাকে কি আপনি ভালোবাসতে পারবেন?

আন্ততুষ্টির জন্য নাটকীয়তা: শুধু রোমাঞ্চের জন্য হাতে ধরে সমস্যা তৈরি করা বিকৃত মানসিকতা। যদি মনে করেন এতে সম্পর্কের উত্তেজনা প্রবল হচ্ছে তবে সেই উত্তেজনার আগুনে সম্পর্কটাই ঝলসে যেতে পারে মুহূর্তেই।

পুরানো ঘটনা ভুলতে না পারা: পুরানো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার তিক্ততা সৃষ্টি করার কারণ হল নিজের সম্পর্কের প্রতি আপনার প্রবল নিরাপত্তাহীনতা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পুরানো সমস্যাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আর তাতে ব্যর্থ হলে সম্পর্ক ক্রমেই ভেঙে পড়বে। ভুলে গেছেন বললে আসলেই ভুলে যান, আর ভুলতে না পারলে তা নিয়ে আলোচনা করুন।

সততায় ভয়: আপনার সঙ্গী যদি আপনার সামনে কঠিন সত্যগুলো তুলে ধরতে ভয় পায় তবে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না, ক্রমশ ঘোলাটে হবে। তাই এই সময়গুলোতে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ আপনার রাগের কারণে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা অপ্রিতিকর হলে ভুগতে হবে দুজনকেই।

পরিবর্তন চান সঙ্গীর মাঝে, নিজের মাঝে নয়: সম্পর্কে দুজন মানুষ একে অপরের মত করে পরিবর্তীত হবে, এটাই স্বাভাবিক। দুজনের মাঝেই মানিয়ে নেওয়ার ও নিজেকে বদলে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে, শর্তহীনভাবে। সঙ্গীকে পুরোপুরি নিজের মতো করে বদলে নেবেন এমন মন মানসিকতা নিয়ে সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

সম্পর্কে টানাপড়েনের লক্ষণ  

সম্পর্কে ভালো শ্রোতা হবেন যেভাবে  

বিচ্ছেদ ঠেকাতে