১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

মশারির দরদাম

  • মামুনুর রশীদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-23 18:20:42 BdST

রয়েছে ‘বাংলা’ ও ‘ম্যাজিক’ মশারি। ডেঙ্গুর প্রকোপে এই পণ্যের চাহিদাও বেশি।

মশারি প্রায় সব কাপড়ের দোকানেই পাওয়া যায়। সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গগুলোর মধ্যে একটি মশারি। তবে সময়ের পরিক্রমায় এর ব্যবহার শহুরে বাসা-বাড়িতে কমে গিয়েছিল অনেকটাই। বেশিরভাগ মানুষই কয়েল, ‘লিকুইড মসকুইটো রিপেলেন্ট’, অ্যারোসল ইত্যাদি ব্যবহার করতেন অতিরিক্ত মশা হলে। আর দিনে দু-দশটা মশার কামড়ের সঙ্গে শহরবাসী মানিয়েই নিয়েছিল।

তবে পরিস্থিতি পাল্টে দিল এবারের ডেঙ্গু আতঙ্ক। গত বছরের চিকনগুনিয়া প্রকোপেও যারা নড়েচড়ে ওঠেননি এবার তারাও আতঙ্কিত। যার পরিপ্রেক্ষিতে মশা মারার বা তাড়ানোর সবরকম উপকরণের বাজারেই সাড়া পড়েছে।

অনেক অসাধু ব্যবসায়ী তার সুযোগ নিয়ে বেশি দাম হাঁকছেন, ভেজাল পণ্য বিক্রি করছেন যা আমাদের দেশের চিরাচরিত দৃশ্যপট।

নিজ ঘরে মশা থেকে বাঁচার সবচাইতে সস্তা, দীর্ঘস্থায়ী, কার্যকর এবং নিরাপদ ‍উপায়টির নাম মশারি। কয়েল বা ওষুধে মশা নাও মরতে পারে, তবে চারদিক গুঁজে নিয়ে এবং ভেতরে মশা নেই সেটা নিশ্চিত করে মশারির ভেতর ঢুকে বসে থাকলে মশা যে কামড়াতে পারবে না সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আর কয়েল, অ্যারোসল ফুরিয়ে গেলেও, মশারি কখনই ফুরিয়ে যায় না।

মশারির গুণগান তো হল। এবার আসি বাজারে। ডেঙ্গুর কারণে মশারির বাজার রমরমা। যেসব দোকানি একসময় ২০ থেকে ৩০টা মশারি রাখতেন এবং সেগুলো বিক্রি হতে যেখানে কয়েক মাস লেগে যেত, তারাই এখন অন্য পণ্য কমিয়ে মশারি মজুদ করছেন।

প্রায় সব ধরনের কাপড়ের দোকানে তো আছেই, রাজধানীর প্রায় সবগুলো হাসপাতালের সামনেও রয়েছে ভ্রাম্যমান মশারির দোকান। কেউ ভ্যানে, কেউ ফুটপাতে, কেউ আবার হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন।

আমাদের দেশের বাজারের প্রেক্ষাপটে মশারি দুই প্রকার, ‘বাংলা মশারি’ আর ‘ম্যাজিক মশারি’। দুই ধরনের মশারি তৈরি হয় ‘পলিয়েস্টার’ কাপড়ের জাল থেকে। তফাৎটা হল সেলাইতে।

বাংলা মশারিতে উপরের অংশে ও নিচের দিকে আলাদা কাপড় জোড়া দেওয়া হয় যা জালের মতো নয়। আর ম্যাজিক মশারি পুরোটাই জাল-জাতীয় কাপড়ে তৈরি হয়।

যে কারণে ম্যাজিক মশারির ভেতরে ফ্যানের বাতাস প্রবেশ করতে পারে বেশি।

নিউ মার্কেটের মশারি ও পর্দার দোকান রাফি’স ক্লাসিক পর্দা হাউজের কর্ণধার মোহাম্মদ ফারুক এই তথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, “ম্যাজিক মশারির কাপড় মজবুত বেশি তবে ওজন কম। সেলাইয়ের ধরন ভিন্ন হওয়াতে এতে জোড় পড়ে কম, তাই দীর্ঘদিন টেকসই হয়।”

“বাংলা মশারির তুলনায় ম্যাজিক মশারি পরিষ্কার করাতেও কষ্ট কম। এছাড়াও দেখতে সুন্দর, ধরতে নরম ইত্যাদি ব্যাপারও আছে। সবমিলিয়ে ম্যাজিক মশারির চাহিদা বেশি।”

দামদর সম্পর্কে ফারুক জানান, “‘সিঙ্গেল’, ‘সেমি-ডাবল’ ও ‘ডাবল’ এই তিন মাপে তৈরি হয় দুই ধরনের মশারি। ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হয় এগুলোর। মাপ ছাড়াও কাপড়ের মান, ডিজাইন, ব্র্যান্ড ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে দাম। শিশুদের জন্য তৈরি ‘স্ট্যান্ডিং’ মশারির দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। মশারির ব্র্যান্ডের মধ্যে বোনাফাইড, পেপকন, আনোয়ার টেক্সটাইল, মেহেদি টেক্সটাইল, এঞ্জেলস ইত্যাদি নির্ভরযোগ্য নাম।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ফুটপাতে মশারি বিক্রি করেন মোহাম্মদ আসাদ। তার কাছে ‘সিঙ্গেল’ ও ‘ডাবল’ এই দুই মাপের মশারি রয়েছে। বাংলা এবং ম্যাজিক দুটোই আছে। বাংলা মশারি সিঙ্গেল ১৮০ টাকা আর ডাবল ২৮০ টাকা। আর ম্যাজিক মশারি সিঙ্গেল ২৫০ আর ডাবল ৩৫০ টাকা। প্লাস্টিকের শক্ত প্যাকেটে থাকা  ম্যাজিক মশারি ৪০০ টাকা। দামাদামির সুযোগ নেই এখানে। নিলে নেন, না নিলে নাই এই তার ব্যবসার নীতি। দিনে ৫০ থেকে ৬০টি মশারি বিক্রি করছেন তিনিসহ এই এলাকার একাধিক ভ্রাম্যমান মশারি বিক্রেতা।

নিউ মার্কেটের মোহাম্মদ ফারুকের বিক্রিও আগের চাইতে দ্বিগুন। মশারির কাপড়ের থানও চোখে পড়ে তার দোকানে।

জানা গেল, বাসা বাড়ির বারান্দা, জানালা, ভেন্টিলেইটর ইত্যাদি স্থানে লাগানোর জন্য গজ হিসেবে এই কাপড় বিক্রি করেন তিনি। কাপড় ভেদে দাম ৩৫ থেকে ৫০ টাকা প্রতি গজ।

দেয়ালে মশারির কাপড় এঁটে দেওয়ার জন্য ব্যবহার হয় ‘ভেলক্রো’ বা চড়চড়ি। ‘ভেলক্রো’ মজবুতভাবে বসানোর জন্য মশারির কাপড় ও ‘ভেলক্রো’র মাঝখানে রাখা হয় মোটা কাপড়ের লেইস। লেইস মশারির দোকানেই পাওয়া যাবে বান্ডেল হিসেবে, দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

তবে ‘ভেলক্রো’ কেনা এবং পুরো পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেবে দোকানের বাইরে সেলাই মেশিন নিয়ে বসে থাকা কর্মীরা। খরচ হবে চুক্তি হিসেবে।

আরও পড়ুন

মশা তাড়ানোর উপায়  

মশা করতে দূর  

পিঁপড়া দূর করতে  

পিঁপড়া দূর করতে  

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে করণীয়  


ট্যাগ:  প্রতিবেদন  লাইফস্টাইল