১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করার পন্থা

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-08 13:26:34 BdST

bdnews24

শুনতে হবে, বুঝতে হবে, বাড়াতে হবে ভালোবাসার হাত।

পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুমহলে কেউ কি আছেন যে হতাশাগ্রস্ত? থাকলে আপনি হয়ত তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চান। তবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না কীভাবে সাহায্য করা যায়।

আবার ভয়ে থাকেন, সাহায্য করতে গিয়ে যদি হিতে বিপরীত হয়! এর চেয়ে বরং সবকিছু স্বাভাবকি হয়ে যাওয়ার আশায় চুপচাপ থাকেন।

এ ব্যাপারে ‘ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি ওয়েক্সনার মেডিকাল সেন্টার’য়ের মনোবিজ্ঞানী কে. লুয়ান ফান বলেন, “মানসিক সমস্যা, হতাশা, আত্মহত্যা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছি আমরা। বিভিন্ন সংস্থার এবিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।”

“একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমি ছয়টি উপদেশ দিতে চাই, যা একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করতে আপনাকে সাহায্য করবে।”

সেগুলো হল- শোনা, প্রশ্ন করা, ভালোবাসা, পদক্ষেপ নেওয়া, যোগাযোগ, তার পক্ষে কথা বলা।

শোনা: একজন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করার আগে আপনাকে তার কথা শুনতে হবে, তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি যত শুনতে চাইবেন, যে ততই আপনাকে তার মনে কথা জানাতে আগ্রহ পাবে। আর এভাবেই জানতে পারবেন তার হতাশার মাত্রা। মনে রাখবেন, আত্মহত্যার একটি অন্যতম বড় কারণ এই হতাশা।

প্রশ্ন করা: বিভিন্ন প্রশ্ন করে একজন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে আলোচনায় আগ্রহী করে তুলতে পারবেন। আর হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিটিও বুঝতে পারবে যে আপনি তার প্রতি যত্নবান। আত্মহত্যার কথা ভাবছে কি না তা সরাসরি প্রশ্নে করতে পারেন। কারণ আপনার এই প্রশ্নই তাকে ধ্বংসাত্বক চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে আনতে সাহায্য করবে, তার জীবন বাঁচাবে।

ভালোবাসা: প্রশ্ন করা এবং কথা শোনার মাধ্যমে একজন ভুক্তভোগীর কাছে আপনার যত্নশীলতা প্রমাণীত হবে। আর তার কথা যদি যত্ন সহকারে শোনেন, সহমর্মীতা দেখান তাহলে তার প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবেন। ভালোবাসার পাত্র হয়ে ওঠার অনুভূতিই হয়ত ওই হতাশাগ্রস্ত মানুষটিকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার অনুপ্রেরণা যোগাবে।

পদক্ষেপ নিন: শুধু সুখ-দুঃখের কথা শুনলেই আপনার কাজ শেষ হয়ে যায় না। তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার পর তাকে যেকোনো ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। নিজেকে আঘাত করতে পারে বা আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা যায় এমন যেকোনো বস্তু তার কাছ দূরে রাখতে হবে।

যোগাযোগ: আপনি নিজে হয়ত তাকে পুরোপুরি সাহায্য করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে যারা তাকে উপযুক্ত সহযোগিতা দিতে পারবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।

পক্ষে কথা বলা: মানসিক সমস্যার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য আপনাকেও পদক্ষেপ নিতে হবে, মাঠে নামতে হবে। আর এই কাজটা সবাই করতে পারেন।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন-

হতাশা কমাতে উন্নত খাদ্যাভ্যাস  

ঝেড়ে ফেলুন হতাশা

অ্যালকোহল দুঃখবোধ আরও বাড়ায়  

ফেইসবুকের বাজে অভিজ্ঞতা থেকে নিঃসঙ্গতা  

আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে  


ট্যাগ:  প্রতিবেদন  লাইফস্টাইল