শীতের আমেজে সাজেক ভ্রমণ

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-29 16:23:51 BdST

শীত আসলেই পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নামে। শীতের আমেজে সাজেকের আর্কষণ বাড়ে।

শীতের শুরুতে হীম আমেজে সাজেক ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন সাংবাদিক পর্যটক সমির মল্লিক।

শীতের আমেজে ঘুরে আসলাম সাজেক থেকে। পুরো সময়টায় শীতের রাতে পাহাড়ে চূড়া কুয়াশায় আচ্ছন্ন। শীতের শেষ বিকেল পেরিয়ে পশ্চিমের আকাশ বিদায়ী সোনার সিংহ-সূর্যদেবতা তখন পাহাড়ের কোলে হেলে পড়ছে মাত্র। সূর্যের সোনালি রংয়ে মোড়ানো সবুজ পাহাড়। দিন শেষ আর শুরুতে এই রং যেন পুরো পাহাড়কে সোনায় মুড়িয়ে রাখে।

উপত্যকা পেরিয়ে ক্রমশ পাহাড়ের ভাঁজ যেন আকাশচুম্বী হয়েছে ওখানে। আর এই দীর্ঘ উপত্যকা জুড়ে আরণ্যের সীমানা। সাজেকে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই নৈর্সগিক নিরবতা পাহাড়ের চারপাশে। কেবল মৌসুমী হাওয়ার মতো তীব্র বাতাস ছুটে আসছে নীচের পাহাড়গুলো ছুঁয়ে। সাজেকের কংলাক পাড়া আশপাশের পাড়াগুলো থেকে সবচেয়ে উপরে বিধায় বাতাসের ঝাপটা যেন ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

নক্ষত্র আর মিল্কিওয়েতে ভরা কংলাক, সাজেকের আকাশ। থোকায় থোকায় আকাশে জ্বলছে তারার দল। অত্যন্ত নির্জনতা পাহাড় চূড়োর পাড়া কংলাক। মৌসুমী হাওয়ায় থেমে থেমে বয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের চূড়োয়। আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চেনা রাতকেও অচেনা মনে হয়।

হিম শীতল বাতাসের বুকে মাচাংয়ে পেতেছি তাবু, রাতটা তাবুতে কাটাব। পাহাড়ের রহস্যের ডানা মেলতে হিম হওয়া রাতে, হাজার ফুটের পাহাড় পেরিয়ে রাতের দিগন্তে পূর্ণিমায় শীতল আলো। জোছনার আলোয় ঢেকে আছে পুরো প্রকৃতি অরণ্য।

রুইলুই থেকে কংলাকের উঁচু জমির নিচের মূল উপত্যকা। উপত্যকায় রেখার মতো ছড়িয়ে আছে সাজেক, পাইলিং পাড়াসহ বেশ কিছু পাহাড়ি গ্রাম।

পূর্ণিমা রাতে পাড়াগুলোতে সৌরবিদ্যুৎতের আলো জ্বলছে। গভীর অরণ্যে যেন ঢেকে রেখেছে পুরো উপত্যকা। রাতের আকাশে মেঘ উড়ে যাচ্ছে থেমে থেমে। যেন মেঘ গ্রাস করে নিচ্ছে চন্দ্রের মায়াবী আলো। নিঃশব্দের মতো জেগে আছে পুরো অরণ্য প্রকৃতি। পাহাড়ের নির্জনতায় কেবলই জেগে থাকা পাখিরা। রাতে অদূর থেকে ভেসে আসে অচেনা পাখির ডাক। রাত জাগা পূর্ণিমা, রাতে পাখির ছন্দ যেন অরণ্যের চেনা রূপ।

সাজেকের কংলাকের চূড়ায় বসে এমন রাত পাওয়ায় সত্যিই বিমুগ্ধ করে। রুইলুই ও কংলাক পাড়ায় বসবাসরত লুসাই আর ত্রিপুরা বসতিগু্লাতে তখন ঘুমের রাজ্য। গভীর রাতে যেন পূর্ণিমার আলো গাঢ় পাহাড়ের গ্রাম-অরণ্য-প্রকৃতি।

কংলাক চূড়া থেকে পাখির মতো চোখে পড়ে ধবধবে পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত পুরো উপত্যকা। রাতের আহার পর্ব শেষ করে তাবুতে বসে দেখছি ধীরে ধীরে মেঘ জমছে উপত্যকার ভাঁজে ভাঁজে। মেঘের সাদা রংয়ে ঢেকে যাচ্ছে সবুজ বনানী। পূর্ণিমা রাতে মেঘ যেন বৃত্তের মতো চারপাশ থেকে ঘিরে রাখছে পাহাড়ের গ্রাম কংলাককে।

১৮শ’ ফুটের এ পাড়া যেন সাজেক ভ্যালি’র মুকুট। পুরো সাজেক উপত্যকার সর্বোচ্চ চূড়ার কংলাক পাড়া রাঙামাটিরর ছাদ, কংলাক থেকে মেঘ মুক্ত আকাশে সুদূরের কাপ্তাই লেকের জলধারা। তাবুতে শুয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে নীল মেঘের সমুদ্র পেরিয়ে পাহাড় দর্শনের জন্য সাজেক উপত্যকার সর্বোচ্চ চূড়া কংলাক যেন অন্যন্য।

চূড়া থেকে দাঁড়িয়ে পাখির চোখে ভোরের মেঘ দেখে বিস্মিত হবে যে কেউ। সকালের মেঘমুখর পাহাড়ি জনপথ আর শেষ বিকেলে পশ্চিমের মেঘের সোনার সিংহ, সূর্যাস্তের বিরল রূপ এখানে ধরা দেয় অনায়সে। পূর্ণিমায় রাতের মায়াবী সৌন্দর্য ষোলআনাই কংলাকের চূড়ায় ধরা দেয়।

প্রয়োজনীয় তথ্য: ঢাকা বা চট্টগ্রাম এসি/ননএসি বাসে খাগড়াছড়ি পৌঁছাতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে রির্জাভ চান্দের গাড়ি বা মাহেন্দ্র পিকে সরাসরি সাজেক যাওয়া যায়। ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০৫৫৬-৭১০০৪৩/০১৮১৫-৮৫৬৪৯৭ নম্বরে।


ট্যাগ:  লাইফস্টাইল  বেড়ানো