শীতে ঘুরে আসুন লংগদু

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-12-13 10:18:49 BdST

কাপ্তাই লেকের লংগদুর কাট্টলি বিল শীত মৌসুমে অল্প খরচেই বেড়ানো যায়।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাংবাদিক পর্যটক সমির মল্লিক।

সুনীল আকাশের নিচে স্বচ্ছ জলের ধারা। দিগন্ত ছোঁয়া পাহাড়ে পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসতি। কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট কাপ্তাই লেকের লংগদুর কাট্টলি বিল অংশটি সবচেয়ে বেশি মৎস সম্পদে সমৃদ্ধ।

সুবিশাল ৭২৫ বর্গ কিলোমিটারের কাপ্তাই লেকের সবচেয়ে বেশি মাছ ধরা পড়ে কাট্টলি বিলের বিস্তৃত জলরাশিতে। তাই এটি লেকের মৎস ভাণ্ডার হিসেবেও পরিচিত।

শীত আসলেই এই বিলে আসতে শুরু করে হাজারও পরিযায়ী পাখি। শিকারীদের উৎপাত কম ও বিলে প্রচুর মাছ থাকায় প্রতি বছরই বাড়ে পরিযায়ী পাখি সংখ্যা।

এখানে জোছনা রাতে তাবু খাটানো যায়। রাতের বেলায় ছোট নৌকা নিয়ে লেকে ঘুরে বেড়ানো যায়। বাড়তি আয়োজন হিসেবে থাকতে পারে ক্যাম্প ফায়ার। তাবু খাটানো যাবে ছোট দ্বীপে। চেনা জায়গার পরিবর্তে ঘুরে বেড়ানোর এসব জায়গা বেশ আনন্দদায়ক। খরচ একেবারে কম। আড়াই হাজার টাকার মধ্যে লংগদু এক রাত থেকে ভালো মতোই ঘুরে আসা যাবে।

লংগদু থেকে একটু দূরে কাট্টলি বিল। নিঃশব্দের জলাভূমি আর নীল আকাশের নিচে জেগে উঠেছে কাট্টলি বিলের অনেকগুলো দ্বীপ। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে আসলে ভেসে ওঠে এসব দ্বীপ। জলরাশির মাঝে এই দ্বীপগুলোতে গড়ে উঠেছে মানুষের বসতি। যাদের সবার জীবন চলে মাছ ধরে।

খাগড়াছড়ি থেকে সড়ক পথে লংগদু’র দূরত্ব প্রায় ৪৯ কিলোমিটার। লংগদু থেকে দেশি বোটে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় দ্বীপ গ্রাম কাট্টলি বিলে।

নীল জলের টেউ পেরিয়ে কাট্টলি বিল যেতে চোখে পড়ে পাখির ঝাঁক। নিঃশব্দের জলরাশি মুখরিত হয় পরিযায়ী পাখি। ছোট সরালি, টিকি হাঁস, বড় সরালি, মাথা মোটা টিটি, গাঙচিল, গাং কবুতর, চ্যাগা, চখাচখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ঝাঁকে মুখরিত পুরো বিল। মাঝপথে শুধু ছোট ছোট দ্বীপ আর দূরে পাহাড়ের সারি।

মাছ শিকার আর ক্ষুদ্র ব্যবসাকে কেন্দ্র গড়ে উঠেছে কাট্টলি বিল বাজার। বর্ষা ছাড়া সারা বছরই জেলেদের নৌকা মেরামতের কাজ চলে এখানে। গড়ে উঠেছে শুটকি পল্লী। চাপিলা, শোল, কাচকিসহ নানান পদের মাছ শুকিয়ে শুটকি বানানো হয়। কোনো রকম বিষ বা কীটনাশক মেশানো ছাড়াই শুটকির জন্য প্রস্তুত করা হয়। কাট্টলি বিলের শুটকিও বেশ প্রসিদ্ধ। পাইকারের হাত ধরে রাঙামাটি হয়ে শুটকি চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

লেকের এই অংশজুড়ে মাছধরা নৌকার সারি। পানকৌড়ি আর নানান জাতের পাখির ঝাঁক বিলের চারপাশে। শীতের শেষেও এখানে রয়ে যায় পানকৗড়ির ঝাঁক।

মাঝখানের এই দ্বীপগুলোতে মাত্র দু’একটি পরিবারের বসবাস। বর্ষায় এসব দ্বীপ পানির নিচে থাকে। তাই প্রত্যেক পরিবারের যোগাযোগের জন্য একটা করে নৌকা আছে।

জলের জীবন দেখতে দেখতে চলেছি কাট্টলি বিলের দিকে। দেখি দূরের পাহাড়গুলোকে চুম বুলিয়ে নীল মেঘ অবারিত জলরাশিকে নিজের রংয়ে রাঙিয়ে দিয়ে ভেসে বেড়ায়। জলের বুকে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক।

লংগদুর বাসিন্দা আরমান খান বলেন, “শীতর সময় আসতে থাকে অতিথি পাখি। এছাড়া মাছের সন্ধানে সারা বছরই থাকে পানকৌড়ি।”

শেষ বিকেলের সোনালি সূর্য সোনা রঙা আলোয় চরাচরকে মুড়িয়ে দিয়ে মুখ লুকিয়েছে পাহাড় ঘেঁষা লেকের জলে। কাট্টলি বিল হয়ে উঠুক পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়।

প্রয়োজনীয় তথ্য:  প্রথমে যেতে হবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। দীঘিনালা থেকে মটরবাইকে লংগদু। লংগদু থেকে চাইলে দেশি নৌকায় কাট্টলি বিলে পৌঁছানো যাবে।

কাপ্তাই লেক বেশ গভীর। সাঁতার না জানলে লেকের পানিতে নামা একেবারেই উচিত হবে না। ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৮১৫-৮৫৬৪৮৭ নম্বরে।

ছবি: লেখক।


ট্যাগ:  লাইফস্টাইল  বেড়ানো