লেপ কম্বলের বাজারদর

  • মামুনুর রশীদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-01-24 15:01:17 BdST

শীতের শেষে বিক্রি কম হলেও লেপ-কম্বলের দাম কম নয়।

গত দুই বছর ঢাকায় শীতের প্রকোপ ছিল বললে ভুল-ই হবে। শখ করে কেনা বা বানানো কম্বল, লেপগুলো হয়ত প্রয়োজনই হয়নি অনেক পরিবারের। তবে এবারের শীতকাল ছিল ভিন্ন। প্রথম শৈত্যপ্রবাহে সাত থেকে ১০ দিন ঢাকার শীত যেন উত্তরবঙ্গের শীতের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া পর্যায়ে পৌঁছে যায়। স্বভাবতই বাজারে শীতের কাপড়ের চাহিদা বাড়ে এবং দোকানিরা তড়িঘড়ি করে ভারী লেপ কম্বল যোগাড় করেন।

ঢাকার নিউমার্কেটের তমা বেডিং’য়ের দোকানি মো. রাজিবও তাই করেছেন, ক্ষণস্থায়ী বিক্রির জোয়ারে খুশিও ছিলেন।

তিনি বলেন, “প্রচণ্ড শীত পড়ায় বেশি দাম দিয়ে কম্বল কিনে এনেছি, তবে বিক্রি আশানুরুপ হয়নি। ডিসেম্বরের শুরু থেকে ২০-২২ তারিখ পর্যন্ত ধুমধাম বিক্রির পর হঠাৎই বাজারে ক্রেতা কমে গেছে। ফলে প্রচুর কম্বল গোডাউনে জমে আছে।”

বিক্রিতে ভাটা পড়ার কারণ সম্পর্কে রাজিবের মন্তব্য হল, “একটা ভালো কম্বল কয়েক বছর টিকে থাকে। আর ঢাকায় যেহেতু শীত পড়ে কম, তাই ভারী কম্বলগুলো প্রতিবছর হয়ত ব্যবহারও হয়না। তাই ভারী কম্বলের ক্রেতা খুব বেশি থাকে না। আর শীত বেশি হওয়ায় পাতলা কম্বলের ক্রেতাও এবার কম। সব মিলিয়ে ব্যবসা মন্দা, দিনে ১০টা বিক্রি করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

ভারী কম্বলের দামদর সম্পর্কেও জানিয়েছেন মো. রাজিব।

“ডাবল পার্ট’য়ের ‘ডাবল সাইজ’য়ের কম্বলের দাম দেড় হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। আর ‘সিঙ্গেল পার্ট’য়ের ‘ডাবল সাইজ’য়ের কম্বলের দাম ১২’শ টাকা থেকে সাত হাজার টাকা। চীন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, জাপান থেকে এই কম্বলগুলো আনা হয়।”

কম্বলের ভালোমন্দ বিচার করার জন্য নির্ভর করতে হবে নিজের বিবেচনার উপর। পশমগুলো নরম হতে হবে, বুনন কতটা শক্ত তা বোঝার জন্য পশমগুলো টেনে দেখতে পারেন। ‘ডাবল পার্ট’য়ের কম্বলগুলোর সেলাই ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো কম্বলই গরম পানিতে পরিষ্কার করা চলবে না। তবে ঠাণ্ডা পানিতে পরিষ্কার করা যাবে।

কমদামি কম্বলের খোঁজ পাওয়া গেল নিউমার্কেটের ভাসমান কম্বল বিক্রেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনে কাছ থেকে। সচরাচর ত্রাণ হিসেবে যে কম্বলগুলো দেওয়া হয় সেগুলো বিক্রি করেন তিনি। ব্যবসা মন্দার অভিযোগ জানান তিনিও, সঙ্গে আছে দোকান তুলে দেওয়ার অভিযোগও।

দামদর সম্পর্কে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “সিঙ্গেল পার্ট ডাবল সাইজ’য়ের কম্বলগুলোর দাম ৪শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা। ‘ডাবল পার্ট ডাবল সাইজ’য়ের দামও একই। সব ধরনের শীতে ‘রাফ ইউজ’ করা যাবে এমন কম্বলও আছে, ব্যবসায়ীরা এগুলোকে বলেন ‘ফাইভজি অ্যাম্বুশ’ কাপড়ের কম্বল, দাম এক হাজার টাকা।”

কালের বিবর্তনে লেপ ক্রমেই বাজার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ‘রেডিমেইড’ লেপ এখন আর কিনতে পাওয়া যায় না বললেই চলে, উপায় একটাই বানিয়ে নিতে হবে।

নীলক্ষেত মোড়ের পেট্রোল পাম্পের পাশে আছে কয়েকটি লেপ বানানোর দোকান।

রতন বেডিং স্টোরের কর্ণধার মোহাম্মদ আজিম আহমেদ বলেন, “লেপ বানানোর মূল উপকরণ বরাবরের মতোই কার্পাস তুলা। এই তুলারও আছে ভালো ও মন্দ দুটি ধরন। ভালোমানের কার্পাস তুলা দিয়ে একটি ‘চার বাই পাঁচ’ হাত লেপ বানাতে খরচ পড়বে প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। নিম্নমানের তুলা দিয়ে বানালে খরচ পড়বে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩শ’ টাকা।

ডাবল লেপ বানাতে তিন থেকে চার কেজি কার্পাস তুলার প্রয়োজন হয়। আর লেপের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয় মার্কিন এবং মলমল কাপড়। কভার বা লেপের খোলসের জন্য খরচ পড়বে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা।

সিঙ্গেল লেপের খরচাপাতির হিসাব দিলেন বিউটি বেডিং স্টোরের ম্যানেজার মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম।

সিঙ্গেল লেপ বানাতে তুলা লাগে দুই থেকে তিন কেজি। তুলার মানভেদে খরচ পড়বে সাড়ে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা।


ট্যাগ:  প্রতিবেদন  লাইফস্টাইল