‘কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম’য়ে ভোগার লক্ষণ

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক,, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-26 17:33:57 BdST

bdnews24

চোখের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি কমে যায় কর্মক্ষমতাও।

দিনের একটি বড় সময় কাটে কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোনের পর্দায় দিকে তাকিয়ে। এ থেকেই দেখা দেয় ‘কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম’ বা ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’।

এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হলো স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে।

কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম কী?

চোখে ঝাপসা দেখা, চোখে ক্লান্তি, ঘাড় ব্যথা, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা ভোগা ‘কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম’য়ের উপসর্গ। লম্বা সময় কোনো বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা কারণে চোখের পেশির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। অন্যান্য সকল পেশির মতোই চোখের পেশিতেও অতিরিক্ত চাপ পড়লে তা দূর্বল হতে থাকে।

তবে সমস্যা হল এই বৈদ্যুতিক পর্দা থেকে আমাদের নিস্তার নেই। ছোট্ট শিশুর বিনোদন থেকে শুরু করে অফিসের কাজ পর্যন্ত সবখানেই আছে এই স্মার্টফোন ও কম্পিউটার। তাই এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রশমিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম’য়ের হাত থেকে সুরক্ষা মিলতে পারে, কমানো যেতে পারে দৃষ্টিশক্তির ক্ষয়। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি খেলে চোখ ভালো থাকে। এছাড়াও এতে থাকে ‘লুটেইন’ ও ‘জিয়াক্সনথিন’ নামক পুষ্টি উপাদান যাদের আছে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ ও ‘অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি’ উপাদান যা চোখ ভালো রাখে। 

অনুশিলন করুন ‘টোয়েন্টি টোয়েন্টি’ নিয়ম

না ক্রিকেট খেলতে হবে না, ‘কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম’ থেকে বাঁচতে ২০ মিনিট বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার পর কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড দূরে তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে চোখ আরাম পাবে, মাথাব্যথা এড়ানো যাবে।

বৈদ্যুতিক ডিভাইসের সামনে সময় কাটানোর পরিমাণ কমাতে হবে। তবে অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই তা সম্ভব নয়। তাই বিকল্প উপায় হল বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে ক্লান্তি অনুভব করলে বিরতি নিতে হবে এবং দূরে তাকিয়ে থাকতে হবে।

সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ

প্রতিদিন সবুজ শাকসবজি খাওয়া সম্ভব না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ‘সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করতে পারেন। শাকসবজি কিংবা ‘সাপ্লিমেন্ট’ যাই বেছে নিন না কেনো, প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ গ্রাম ‘লুটেইন’ ও ‘জিয়াক্সানথিন’ গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে।

নীলচে আলোর প্রভাব কমানো

বৈদ্যুতিক পর্দা থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কাজের সময় হয়ত এই নীল আলো এড়ানো সুযোগ নেই। তবে অলস সময় কাটানোর সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্র এড়িয়ে চলতে পারেন।

চশমা ব্যবহার

দৃষ্টিশক্তি কমে গেলেই যে চশমা ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। বরং দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকতেই যদি ‘পাওয়ার’ নেই এমন ‘প্রটেক্টিভ লেন্স’ ব্যবহার করা হয় তবে চোখের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যাবে অনেকটাই। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা কম্পিউটার কিংবা যেকোনো বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকেন তাদের উচিত এমন চশমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা।

চশমা ছাড়াও নীল আলো চোখে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এমন ‘কন্ট্যাক্ট লেন্স’ ব্যবহার করতে পারেন। আবার কম্পিউটারের পর্দার সামনে ‘ব্লু লাইট ব্লকিং গ্লাস’ ব্যবহার করতে পারেন যা নীল আলোকে থেকে ‍সুরক্ষিত রাখবে।

ছবি: রয়টার্স।

চোখের বিশেষ যত্ন  

চোখ বেশি রগড়ালে যা হয়

চোখের ক্ষতি থেকে সাবধান  


ট্যাগ:  লাইফস্টাইল  দেহঘড়ি