স্যানিটাইজারের সস্তা বিকল্প

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-09 12:53:25 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স।

হাত জীবাণু মুক্ত রাখতে সাবান পানিও কার্যকর।

শুধু করোনাভাইরাস নয়, যে কোনো রোগ-জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হাত পরিষ্কার রাখার বিষয়টা গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আর করোনাভাইরাসের কারণে ‘স্যানিটাইজার’ ও ‘মাস্ক’ ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী চড়া মূল্যে এসব পণ্য বিক্রির চেষ্টা করবে। বাজারে কৃত্রিম সংকটও দেখা দিতে পারে।

আবার ‘স্যাটিটাইজার’ কেনার মতো সামর্থ্যও অনেকের নেই।

তবে রটনা-ঘটনা যাই ঘটুক ‘স্যানিটাইজার’ ছাড়াও হাত পরিষ্কার সহজ পন্থা হল সাবান-পানি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, জীবাণু ও ব্যাক্টেরিয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে ভালো পন্থা হল বারবার হাত ধোয়া। আর এক্ষেত্রে সাবান-পানি যথেষ্ট।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত।

‘হ্যান্ডওয়াশ’ বনাম ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার’

জীবানু ধ্বংস করতে ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার’কে কার্যকরী হতে হলে তাতে পর্যাপ্ত মাত্রায় অ্যালকোহল থাকতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’য়ের দেওয়া তথ্যানুসারে, যেকোনো ভাইরাস সমূলে দূর করতে ‘স্যানিটাইজার’য়ে থাকতে হবে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল। এর নিচে হলে তা কোনো কাজেই আসবে না, শুধু হাতের ত্বকই শুষ্ক করবে।

আবার যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা অ্যালকোহল-ফ্রি স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন। খুব একটা সুরক্ষা দেয় না। এছাড়াও স্যানিটাইজারে থাকা রাসায়নিক উপাদান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল টেনে নেয়। ফলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত এবং জীবাণুর আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

এক্ষেত্রে ‘হ্যান্ডওয়াশ’ কিংবা সাবান তুলনামূলক বেশি নিরাপদ। কারণ তা যতবার খুশি ব্যবহার করতে পারেন নির্দ্বিধায়। ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ ব্যবহার করতে হবে রয়ে সয়ে।

কারণ

বর্তমানে বাজারের সব সাবানেই সব ধরনের জীবাণু ধ্বংস করার জন্য কার্যকর উপাদান থাকে। সাবান ও কুসুম গরম পানি ঢালার জন্য শুধু চাই ২০ সেকেন্ড সময়।

‘আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি’ গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছে, যেকোনো জেল কিংবা ‘হ্যান্ডরাব’য়ের তুলনায় বহমান পানি ও সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা বেশি কার্যকর। পাশাপাশি সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে ধুলা, ময়লা, ঘাম ইত্যাদিও পরিষ্কার হয়। 

তবে সাবান ও পানি দিয়ে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার নিয়মও মানতে হবে। শুধু পানিতে হাত ভিজিয়ে একটু সাবান ডলে ধুয়ে ফেললেই চলবে না।

সাবান এমনভাবে মাখাতে হবে যাতে তা নখের ভেতরে, আঙুলের ভাঁজে এবং অন্যান্য যেসব স্থানে ময়লা আটকে থাকতে পারে তার সবখানে পৌঁছায়। সাবান ও পানির মিশ্রণ দুই হাতে পৃথকভাবে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে মাখাতে হবে।

এখানেই শেষ নয়, হাত ধোয়ার পর তা ভালোভাবে শুকাতে হবে। আর সেজন্য ব্যবহার করতে হবে পরিষ্কার শুকনা কাপড় কিংবা টিস্যু।

তবে খেয়াল রাখার বিষয় হল, সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুলেই যে ভাইরাস ধ্বংস হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে বহমান পানিতে হাত ধোয়ার কারণে ত্বকের উপরিভাগে থাকা ভাইরাস ধুয়ে চলে যাবে সেকথা নিশ্চিত।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ সামলানো অসম্ভব নয় কখনই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় সর্বোচ্চ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। এতে আপনি নিজে যেমন সুরক্ষিত থাকবেন তেমনি আপনার পরিবার নিরাপত্তা বেষ্টনিও জোরদার হবে।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন-

হাত ধোয়াতে ভুল  

হাত জীবাণু মুক্ত রাখার উপায়  

হাত পরিষ্কারের ৬টি ধাপ  

করোনাভাইরাস: আপনার মোবাইল নিরাপদ তো?  

করোনাভাইরাস বনাম সোয়াইন ফ্লু  

করোনাভাইরাস থেকে দূরে থাকতে করণীয়  

করোনোভাইরাস ছড়ানো নিয়ে আশঙ্কা  

করোনাভাইরাস- আতঙ্ক নয়, চাই সাবধানতা  


ট্যাগ:  জেনে রাখুন