করোনাভাইরাস: ঘরে-বাইরে শিশুর নিরাপত্তা

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-13 12:55:20 BdST

bdnews24

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ দ্য রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস (আইএফআরসি)- মিলিতভাবে নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

ঘরে এবং বিদ্যালয়ে শিশুদের করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই নির্দেশনা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ রাখার জন্যই তাদের এই প্রয়াস। এছাড়াও কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জরুরি ব্যবস্থা হাতে নেবেন সে সম্পর্কেও জানিয়েছে এই সংস্থাগুলো।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে শিশুর ওপর যে নেতিবাচক মানসিক প্রভাব পড়বে তা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। কীভাবে তা করা যেতে পারে সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়েছে ওই তিন সংস্থার সম্মিলিত নির্দেশনায়।

পাশাপাশি সন্তানের পড়াশোনার ক্ষতি পূরণ করতে ঘরেই সর্বাত্বক চেষ্টা করে যেতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনির্দিষ্টকালের মতোই বন্ধ হবে। যদি হয় তাই অভিভাবকদের উচিত হবে তাদের লেখাপড়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা।

‘ডিসটেন্ট লার্নিং’, অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনা এক্ষেত্রে যুগোপযোগী মাধ্যম হতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, পরীক্ষা ইত্যাদি চালিয়ে যাওয়া উদ্যোগ নিতে পারে।

তবে এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে বহাল তবিয়তে। তাই শিশুদের জন্য চাই জোরদার সুরক্ষা ব্যবস্থা। এরমধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শিশুদের এই ভাইরাস সম্পর্কে জানানো এবং কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হবে সেই উপায়ে হাতে কলমে শেখানো। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাইরাস প্রতিরোধক উপকরণ যেমন- ‘হ্যান্ডওয়াশ’, ‘স্যানিটাইজার’, ‘রাবিং অ্যালকোহল’ ইত্যাদির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা উচিত।

শিশুদের বেলায় কভিড-১৯ ঝুঁকি কতটা?  

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল ঘর, তার আসবাব ও শিশুদের ব্যবহার্য সকল অনুসঙ্গ নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করতে হবে।

সচেতন থাকার শিক্ষাই রোগবালাইয়ে প্রকোপ বাঁচার সবচাইতে কার্যকর হাতিয়ার। আর শিশুদের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার সবচাইতে কারযকর মাধ্যম ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই।

বন্ধ কিংবা চালু যাই হোক, ইউনিসেফ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়া থেকে দূরে রাখাতে এবং করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে।

শুধু নিজেকে নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হতে পারে স্কুলে শেখানো তথ্যগুলো। পাশাপাশি করোনাভাইরাস যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ তাই শিশুদের মধ্যে এনিয়ে ভুল ধারণা থাকলে বি্ব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে তার বিস্তারিত জানাতে হবে শিশুদের। আর কীভাবে বন্ধুদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় না রেখেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো যায় সেবিষয়েও শিক্ষা দেওয়া উচিত।

পর্যবেক্ষণে রাখার মধ্যে এই গাইড লাইনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল

- শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা। অসুস্থ বোধ করলে স্কুল যেতে না দিয়ে ঘরে রাখার পরামর্শ।

- শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাস সম্পর্কে আগ্রহ তৈরির মাধ্যমে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার অভ্যাস তৈরি করা এবং এই বিষয়ে তার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।

- কাশি বা নাক ঝাড়ার ক্ষেত্রে টিস্যু ব্যবহার বা কনুইতে চেপে হাঁচি কাশি দেওয়ার অভ্যাস করানো। পাশাপাশি মুখ, মুখমণ্ডল, চোখ ও নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখার শিক্ষা দেওয়া।

আরও পড়ুন

করোনাভাইরাস: গণপরিবহনে সতর্কতা  

করোনাভাইরাসের ভুয়া পরামর্শ এড়াতে  

কর্মক্ষেত্রে করোনাভাইরাস ছড়ানো রুখতে  

স্যানিটাইজারের সস্তা বিকল্প  

করোনাভাইরাস: আপনার মোবাইল নিরাপদ তো?  


ট্যাগ:  লাইফস্টাইল  জেনে রাখুন