কোমরের মেদ বাড়ার আজব কারণ

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-15 12:51:07 BdST

bdnews24

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ছাড়াও অদ্ভুত কিছু অভ্যাসের কারণেও বাড়তে পারে কোমরের মেদ।

অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন ওজন বাড়াচ্ছে তেমনি ঘুমের অভাবে বাড়ছে ক্লান্তি। ওজন বাড়ার পেছনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বাদে আরও কিছু কারণ থাকে, যা হয়ত আমাদের মাথায়ই আসেনা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হলো এমনই কয়েকটি কারণ সম্পর্কে।

লম্বা ভ্রমণ: জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রায় সবারই প্রতিদিন দীর্ঘসময় রাস্তায় কাটাতে হয় ভ্রমণ করে। আর এর সঙ্গে কোমরের পরিধি বেড়ে যাওয়ার সম্পর্কটা হল এর কারণে শরীরচর্চার জন্য সময় বের করতে না পারা। কাজের জায়গা দূরে হলে ঘর থেকে বের হতে হয় হাতে বেশি সময় নিয়ে, আবার ঘরে ফিরতেও সময় লাগে বেশি।

তবে ব্যাপারটাকে নিজের স্বার্থেও ব্যবহার করা সম্ভব। ঘর থেকে বাস কাউন্টারে রিক্সায় না গিয়ে হেঁটে যেতে পারেন। কিংবা ঘরের কাছেই বাসে না উঠে এক-দুই স্টপেজ হেঁটে গিয়ে বাসে উঠতে পারেন। আবার নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল ঘরে রেখে কয়েকদিন সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যেতে পারেন।

ক্যালসিয়ামের অভাব: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম কোমরের বেড় কমায়। তাই খাদ্যাভ্যাসে এই উপাদানগুলো না থাকলে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা, যা বয়ে আনে নানান রোগের ঝুঁকি ও সমস্যা। আবার দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে ক্যালসিয়াম। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমাতেও এর পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাই ক্যালসিয়ামের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে একই কারণে ভিটামিন ডি আপনার জন্য জরুরি। 

ডায়েট সোডা: বাড়তি চিনি ও ক্যালরি থেকে বাঁচতে অনেকেই সাধারণ কোমল পানীয় বা ‘সোডা’র পরিবর্তে ‘ডায়েট’ সোডা বা ‘ডায়েট’ কোমল পানীয় বেছে নেন। তবে ক্যালরি কমাতে গিয়ে যে পেটের চর্বি বাড়ানো হচ্ছে সে ব্যাপারে হয়ত অনেকেই জানেন না। কোমল পানীয় খেতে ইচ্ছে করার একটি কারণ হল এতে থাকা কৃত্রিম চিনি পেট ভরা অনুভূতি টের পেতে দেয়না, ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া সম্ভব হয়। তাই এই পানীয়গুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই ভালো। এর পরিবর্তে বেছে নিতে হবে ফলের শরবত, যা পুষ্টি যোগাবে এবং ওজন কমাবে।

মানসিক চাপ: মানসিক চাপগ্রস্ত থাকলে নিঃসৃত হয় ‘কর্টিসল’ হরমোন। যা পেট ও কোমরে চর্বি জমার পরিমাণ বাড়ায়। অত্যন্ত সামান্য কারণেই একজন মানুষ মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন। যেমন- ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কিংবা লম্বা সময় ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকার সময় গাড়ির হর্ন’য়ের শব্দেও আপনার মানসিক চাপ অনুভব হতে পারে। এই অবস্থায় নিজের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে নিজকেই।

ঘুমের অভাব: ক্লান্তি বাড়ানোর পাশাপাশি কোমরের বেড় বাড়ানোর পেছনেও দায় আছে ঘুমের অভাবে। রাত জাগলে স্বভাবতই ক্ষুধা লাগবে এবং এসময় অনেক স্বাস্থ্যকর খাবারও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর অস্বাস্থ্যকর খাবার হলে তো কথাই নেই। তাই সময় মতো ঘুমানো এবং সময় মতো ঘুম থেকেও ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের ভিডিও: সুস্বাদু খাবারের ভিডিও দেখতে কার না ভালো লাগে। তবে সমস্যা হল তা আপনার খাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। যার ফলাফল হতে পারে বিনা ক্ষুধাতেই খাওয়া। তাই ভরা পেটেও এসব খাবারের ভিডিও এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।

স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখার মূলমন্ত্র হল খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরচর্চার পেছনে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া। সেই সঙ্গে দূরে থাকতে হবে অস্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক চাপ, রাতজাগা ইত্যাদি থেকে। আর পর্যাপ্ত পানি করার কথা ভুলে যাবেন না কিন্তু।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

মেদ না কমার তিন কারণ  

অভ্যাসে বাড়তি ওজন  

অনিয়মিত অভুক্ত থাকা কমাতে পারে ওজন