পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

করোনাভাইরাস: কাপড় পরিষ্কারে সাবধানতা

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-04-23 21:18:12 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স

করোনাভাইরাস কাপড়ে কতদিন সক্রিয়া থাকতে পারে তা এখনও সুনিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তবে কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ঘরে ‘কোভিড-১৯’য়ের রোগী থাকলে তার জামা-কাপড় পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বেশি সাবধান হতে হবে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল জামা-কাপড় পরিষ্কার করা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবে জামা-কাপড় পরিষ্কারের ক্ষেত্রে উচ্চ তাপমাত্রা উপকারী হতে পারে। কাপড় পরিষ্কার করা আর জীবাণু মুক্ত করায় তফাৎ আছে। পরিষ্কার করার মাধ্যমে সংক্রামক ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ছড়ানো হয়ত থামানো যায়, তবে তা ধ্বংস হয়না।

জীবাণু মু্ক্ত করতে এমন রাসায়ানিক উপাদানের ব্যবহার আবশ্যক যা ওই জীবাণুকে মেরে ফেলতে পারে। তাই বিভিন্ন শক্ত সমতলের মতো কাপড়ও পরিষ্কার করার পর তা জীবাণু মুক্ত করতে হবে, অর্থাৎ তাতে থাকা ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়াকে মারতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সিডিসি (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন) বলে, করোনাভাইরাসবাহী ‘ড্রপলেট’য়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুভাবেই ছড়াতে পারে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি তাই বিভিন্ন সমতল ও নিত্য ব্যবহার্য কাপড়ও জীবাণু মুক্ত করতে হবে।

করোনাভাইরাসবাহী ‘রেসপিরাটরি ড্রপলেট’ হাঁচি-কাশির সময় পরিধেয় জামা-কাপড়েও পড়ে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে ধাতব, কাচ ও প্লাস্টিক সমতলে এই ধরনের ভাইরাস প্রায় ৯ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তবে এই সমতলগুলো যেভাবে জীবাণু মুক্ত করা যায়, কাপড়ের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়।

‘দ্য ল্যান্সেট মাইক্রোব’য়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় এর গবেষক বলেন, “মসৃণ সমতল যেমন, কাচ ও ধাতব সমতলে করোনাভাইরাস দীর্ঘসময় সক্রিয় থাকতে পারে। কাচ, ‘স্টেইনলেস স্টিল’ ও প্লাস্টিকের ওপর ভাইরাস তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত সংক্রমণক্ষম থাকে। আবার কাঠ ও কাপড়ে সংক্রমণক্ষম থাকতে পারে দুই দিনেরও কম সময়। গবেষণায় আমরা দেখেছি করোনাভাইরাসে তাপের প্রতি বিশেষ সংবেদনশীল। ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাঁচ মিনিটেই করোনাভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।”

কাপড় জীবাণু মুক্ত করার উপায়

সাধারণত যেসব পরিষ্কারক পণ্য ব্যবহার করে কাপড় পরিষ্কার করা হয় সেগুলোই ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিষ্কারকে ব্লিচিং পাউডার থাকলে তা জীবাণু মু্ক্ত করতে বেশি কার্যকর হবে।

‘কোয়াটেনারি অ্যামোনিয়াম’ আছে এমন পরিষ্কারক খুঁজে বের করে ব্যবহার করলে আরও ভালো। তবে কোন কাপড়ে এগুলো ব্যবহার করা যাবে কিংবা যাবে না তা জেনে নিতে হবে, অন্যথায় কাপড় নষ্ট হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে পানি ৬০ থেকে ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হওয়া উচিত। তবে কিছু কাপড় গরম পানিতে ধোয়া যায় না। তাই সাবধান থাকতে হবে। ধোয়ার পর কাপড় ভালোভাবে রোদে শুকাতে হবে।

কাপড় ধোয়ার সময় হাতে ‘গ্লাভস’ ব্যবহার করতে পারলে ভালো। তবে ‘গ্লাভস’ পরুন আর না পরুন, কাজ শেষে তৎক্ষণাত কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। এর আগে মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

চেষ্টা করতে হবে ঘরেই যতটা সম্ভব কাপড় পরিষ্কার করা। তা সম্ভব না হলে অন্যদের থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে। যে পাত্রে ময়লা কাপড় ভিজিয়েছিলেন কিংবা যে ওয়াশিং মেশিনে কাপড় পরিষ্কার করলেন সেটাও ব্যবহারের পর জীবাণু মুক্ত করতে হবে।

বাইরে থেকে ধোয়া কাপড় তুলে আনার পর আবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

আরও পড়ুন

করোনাভাইরাস: রোগ মুক্তির পরেও সংক্রমণের আশঙ্কা  

বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাসের বেঁচে থাকার সময়  

জুতার মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে  

করোনাভাইরাসের সময়ে শারীরিক মিলনের ক্ষেত্রে যা জানা জরুরি