মহামারীর সময়ে খাবার ভাগাভাগিতে সতর্কতা

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-28 13:42:28 BdST

bdnews24

আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি খাবার বিলানো কিংবা রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

করোনাভাইরাস মহামারীর মাঝে পেরিয়ে গেল পুরো রমজান মাস ও ঈদ। এবছর পাশের বাসায় ইফতার যায়নি, নিজেদের বাসায়ও আসেনি। ঈদের দিন কারও বাড়িতে গিয়ে সেমাই, নুডুলস, চটপটি খাওয়া হয়নি। রেস্তোরাঁগুলোতে ছিলনা কোনো ইফতার প্ল্যাটারের আয়োজন। ঘটা করে পালন হয়নি কারও জন্মদিন, বন্ধুদের কেউ কারণে অকারণে ‘ট্রিট’ চায়নি। চায়ের দোকানে গিয়ে কেক কিংবা বাটারবন ভাগাভাগি করিনা যেন কতদিন হয়ে গেছে, শিঙ্গাড়ার চেহারা যেন ভুলে যাচ্ছি।

ভোজন রসিক বাঙালির নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সম্ভবত সবচাইতে বড় মাধ্যম হল দাওয়াত, খাবার ভাগিভাগি করে নেওয়া। বিনোদনের একটি প্রধান মাধ্যম হল রেস্তোরাঁ যেখানে বন্ধু কিংবা পরিবার নিয়ে খেতে খেতে জমে ওঠে আড্ডা। তবে এক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আজ সবই স্তব্ধ।

তাই বলে কি আমরা দমে যাবো? বাসায় বসেই কি প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করা যায় না? তা আসলে কতটুকু নিরাপদ হবে?

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হলো এসব প্রশ্নের উত্তর।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির খাদ্যবিষয়ক বিভাগের অধ্যাপক এলিজাবেথ এ. বিন বলেন, “খাবার ভাগাভাগি করায় করোনাভাইরাসজনীত কোনো সমস্যা নেই বললেই চলে। এমনকি খাবারের প্যাকেটের মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা নগন্য। তবে যত নগন্যই হোক আপনাকে সর্বোচ্চ সাবধান থাকতে হবে সবকিছুতেই। আবার শুধু করোনাভাইরাসই যে দুশ্চিন্তার বিষয় তা কিন্তু নয়। খাবার থেকে ভাইরাস না ছড়ালেও এই মহামারীর সময়ে খাদ্যবাহী যেকোনো শারীরিক সমস্যা নিয়ে যদি হাসপাতালে যেতে হয় তবে সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।”

বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশীর বাসার মধ্যে সৌজন্যমূলক খাবার আদান প্রদান কিংবা রেস্তোরাঁ থেকে ‘হোম ডেলিভারি, কীভাবে খাবার তৈরি করবেন, পৌঁছাবেন কিংবা নিজে গ্রহণ করবেন সেবিষয়ে মানতে হবে বিশেষ কিছু পদ্ধতি।

- কোনো খাবারে আপনার কিংবা পরিবারের কারও অ্যালার্জি আছে কি-না সেসম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

- পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বিভিন্ন পদের খাবার আলাদা করে রাখা, সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করা ইত্যাদি সব ঘরের রান্নাতেই কমবেশি মানা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি এবিষয়গুলোর দিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

- হাত ও রান্নাঘরের বিভিন্ন সমতল পরিষ্কার ও জীবাণুমু্ক্ত রাখার জন্য চাই নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা।

- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদেরকে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়াটা এই সময়ে অনেক বড় উপকার। তবে সেক্ষেত্রে উপরের বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে আরও বেশি মাত্রায়।

- রান্না করার সময় মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরা জরুরি নয়। তবে মাস্ক আর গ্লাভস যদি আনমনে হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখে এবং মানসিকভাবে সুরক্ষা দেয় তবে সেগুলো ব্যবহারে কোনো ক্ষতি নেই।

- কারও জন্য খাবার তৈরির আগে জানতে হবে সেই খাবারগুলো তারা খেতে পারবেন কি-না। যদি নিশ্চিতভাবে জানা না থাকে তবে আলাপ করে নিতে হবে। অন্যথায় খাবার নষ্ট হবে, আসতে পারে অন্য বিপদও।

- ফল ও সবজি পরিষ্কার করতে সাবান কিংবা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো পেটে গিয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। ধুতে হবে পানির কল খুলে রেখে বহমান পানিতে, পাত্রে কিংবা সিংকে জমানো পানিতে ধোয়া যথেষ্ট নয়।

রেস্তোরাঁর ডেলিভারি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভনশন (সিডিসি) বলছে, “করোনাভাইরাস ছড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে আসা তরল কণা বা ‘ড্রপলেট’য়ের মাধ্যমে। তাই শুধু খাবার নয়, সকল ডেলিভারির ক্ষেত্রেই দুটি মানুষের কাছাকাছি এসে লেনদেনটাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, বাক্সটা নয়। তাই ডেলিভারি দেওয়া কিংবা নেওয়া দুইক্ষেত্রেই মাস্ক পরতে হবে। বাক্সটি নিরাপদ স্থানে রেখে নুন্যতম ছয় ফিট দূরে সরে আসতে হবে এবং পরে গ্রহীতা সেই বাক্সটি তুলে নিয়ে যাবেন।”

বাক্স নিয়ে সতর্কতা: মূল খাবারের মোড়ক হতে হবে প্লাস্টিক, পলিথিন, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল কিংবা ধোয়া যায় এমন পাত্র। এতে পরিবহনকালে খাবার সংক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

ডেলিভারির বাক্সটি নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা থাকে তবে নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় জানিয়েছেন এলিজাবেথ এ. বিন।

“প্রথমেই তা রাখার জন্য একটি জায়গা খালি করতে হবে। সেখানে বাক্সটি রেখে ভেতর থেকে খাবারটি বের করে আলাদা পাত্রে সরিয়ে নিতে হবে। বাক্স প্রয়োজন না হলে ঢাকনাওয়ালা ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিতে হবে। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য কোনো ‘কন্টেইনার’ থাকলে তা সাবান ও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এবার যেস্থানে বাক্সটি খুলেছেন সেটি পরিষ্কার করে সবশেষে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সবক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি হয়ত অনুসরণ করবেন না, তবে যে ডেলিভারি নিয়ে আপনার সংশয় থাকবে, সেখানে অনুসরণ করা জরুরি।”

মনে রাখতে হবে, খাবার কিংবা তার মোড়ক থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা খুবই কম, তাই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। যথাসম্ভব ঘরের খাবার খান, মুখরোচক খাবার ঘরে তৈরি করা খুব কঠিন কাজ নয়।

আরও পড়ুন

খাবার জীবাণুমুক্ত করা নিয়ে ইউনিসেফ’য়ের পরামর্শ  

লকডাউন থেকে খাবার নষ্ট না করার শিক্ষা  

মহামারীর সময়ে নিরাপদে বাজার করতে  


ট্যাগ:  লাইফস্টাইল  জেনে রাখুন