পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

হাঁটুর ব্যথা কমাতে

  • লাইফস্টাইলডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-06-10 19:04:30 BdST

bdnews24

খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার যোগ করে আর কিছু খাবার বাদ দিয়ে হাঁটুর ব্যথা কমানো যেতে পারে।

দাঁড়াতে, বসতে, হাঁটতে, সাইকেল চালাতে- এরকম বেশিরভাগ কাজের জন্যই হাঁটুর ওপর জোর দিতে হয়। আর হাঁটুতে সামান্য একটু ব্যথাও শারীরিক কর্মকাণ্ডে নিয়ে আসে স্থবিরতা।

ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমানোর পদ্ধতি ছাড়াও কিছু খাবার রয়েছে যা খাদ্যতালিকায় যোগ করে কিংবা বাদ দিয়ে বিভিন্ন কারণে হওয়া হাঁটুর ব্যথা সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়।

পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে হাঁটুর ব্যথা কমাতে সক্ষম এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে জানান হল।

গাজর: কমলা বর্ণের সবজি বেটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এবং এতে আছে ভিটামিন এ, যা খুব শক্তিশালি প্রদাহনাশক যৌগ সমৃদ্ধ। তাই হাঁটুর ব্যথা কমাতে গাজর খাওয়া যেতে পারে প্রতিদিন। আর এটা প্রাচীন চাইনিজ প্রতিকারক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত।

গাজর খাওয়ার ভালো উপায় হল রান্না করে খাওয়া। তবে কাঁচাও খাওয়া যায়। হাঁটুর ব্যথা কমাতে দৈনিক দুইটা করে গাজর খাওয়া ভালো।

হলুদ: রয়েছে কারকিউমিন নামক উপাদান যা প্রদাহনাশক। তাই নিয়মিত হলুদ খেলে ব্যথা হ্রাস পায়। তাছাড়া ব্যথানাশক হিসেবে আইবোপ্রোফেন ঘরানা ওষুধের সঙ্গে এর কার্যকারিতার মিল রয়েছে।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার: হাঁটুর ব্যথা কমাতে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার খুব ভালো কাজ করে। এটা পান করে ও ব্যথাক্রান্ত স্থানে ব্যবহারও ব্যথা উপশম করা যায়। দৈনিক দুই টেবিল-চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার পান করা হলে তা শরীর থেকে প্রদাহ সৃষ্টীকারী বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

একই ফলাফল পেতে এক সপ্তাহ জলপাইয়ের তেল ও অ্যাপল সাইডার ভিনিগার এক সঙ্গে মিশিয়ে হাঁটুতে মালিশ করুন। 

আদা: হাঁটুর ব্যথা দূর করতে আদা খাওয়া ও মালিশ করা উপকারী। এর জিঞ্জেরল নামক উপাদান উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রদাহনাশক।  

এছাড়াও, গবেষণায় দেখা গেছে যে, ওষুধ হিসেবে আদা খাওয়া হলে তা ওষুধের চেয়ে ভালো কাজ করে। আদা মজাদার খাবার তৈরিতে এবং চা বানাতেও ব্যবহার করা যায়। হাঁটুর ফোলা অংশে ‘প্রিমেইড’ আদার তেল ব্যবহার করে ব্যথা দূর করা যায়।  

গোটা শষ্য: গোটা বা আস্ত শষ্য খাওয়া প্রদাহের কারণে হওয়া ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে পরিশোধিত শষ্য প্রদাহ বাড়ায়।

সাদা রুটিতে শষ্যের মূল তিনটি উপাদান থাকে না। তাই লাল চাল, ওটমিল, বার্লি এই ধরনের শষ্যের খাবার খাওয়া উপকারী।

সরিষার তেল: সরিষার তেলের সঙ্গে জলপাই বা নারিকেল তেল মিশিয়ে ব্যথার ওপর মালিশ করলে অনেকটাই আরাম মিলবে।

সরিষার তেল খাবারে স্বাদ বাড়ায় এবং ব্যথাক্রান্ত স্থানে রক্ত প্রবাহ বাড়ায়। এতে প্রদাহ কমে। ভালো ফলাফল পেতে পেঁয়াজ ও রসুনের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে খান। এগুলো অ্যালিসিন সমৃদ্ধ যা প্রদাহ কমাতেও সহায়তা করে।

ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার: হাঁটুর ব্যথা কমাতে লাল মরিচ, লেবু, কমলা, মালটা ভালো কাজ করে। এগুলোতে আছে ভিটামিন সি। এটা কোলাজেন বৃদ্ধি করে যা, সংযোগস্থলে কাঠামোর সৃষ্টি করে এবং পেশির সঙ্গে হাড় সংযুক্ত করে। 

এটা এটা হাঁটুর সঙ্গে সংযুক্ত ‘টেন্ডন’, ‘কার্টিলেজ’ ও ‘লিগামেন্টেস’য়ের ব্যথা কমায়। সরাসরি ব্যথার ওষুধ না খেয়ে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া হাঁটুর ব্যথ কমাতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন

হাঁটু ও পায়ের ব্যায়াম  

হাঁটু ব্যথায় ঘরোয়া প্রতিকার  

হাঁটু ও কনুইয়ের যত্ন  

হাঁটুর ব্যথায় অস্ত্রোপচারের আগে যা ভাবতে হবে