পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

খাবারের লবণ কমানোর উপায়

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-06-14 13:17:32 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স।

খাবারে লবণ বেশি হয়ে গেলে কমানোর জন্য রয়েছে নানান পন্থা।

রসনাবিলাসের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল লবণ। মাংস, শাকসবজির বিভিন্ন পদ রান্না, ফল খাওয়া এমনটি মিষ্টি খাবার তৈরিতেও লবণ দরকার হয়। আর সবখানেই এর পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা খাবারের স্বাদ বাড়ায় কয়েকগুন।

তবে লবণের পরিমাণে গরমিল হলেও বাঁধে বিপত্তি। কম হলে অনেকসময়ই আবার যোগ করে সামালানো যায়, তবে বেশি হয়ে গেলে ঝামেলা বড় আকারের।

সেই বড় সমস্যা সমাধানে পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।

আলু লবণ টেনে নেয়

যে পদে লবণ বেশি হয়ে গেছে তাতে তিন থেকে চার টুকরা আলু যোগ করে দিলে তা নাকি লবণ টেনে নেয়, এমন ধারণা বিশ্বাস করেন অনেক রাঁধুনি। পরে ওই আলুগুলো বের করে দিয়ে তরকারির লবণ ঠিক হয়ে যায়।

তবে আমেরিকান রসায়নবিদ রবার্ট ওলক তার বই ‘হোয়াট আইনস্টাইন টোল্ড হিজ কুক: কিচেন সায়েন্স এক্সপ্লেইনড’য়ে এক গবেষণার বর্ণনা দেন। এই গবেষণায় পানিতে আলু যোগ করা আগে ও পরে ওই পানির ‘স্যালিনিটি’ বা লবণাক্ততার মাত্রা পরিমাপ করেন এবং লবণাক্ততার মাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। অর্থাৎ আলুর এই টোটকা আসলে কাজ করেনা।

তাহলে ‍উপায় কী?

পানি যোগ করে দেখেছেন তো?

ঝোল, সুপ, তরকারি ইত্যাদি পদের রান্নায় লবণ বেশি হয়ে গেলে তাতে পানি যোগ করলেই লবণাক্ততা কমে আসে। আর স্বভাবতই এই পানিতে কোনো লবণ থাকা যাবেনা। বাড়তি পানি দেওয়ার কারণে তরকারির ঘনত্ব কমে যেতে পারে, তবে একটু সময় নিয়ে জাল দিয়ে সে সমস্যাও সমাধান করে ফেলতে পারবেন।

জাল দেওয়া সম্ভব না হলে পানিতে কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে সেই দ্রবণটি তরকারিতে যোগ করে দিতে পারেন, এতে কাঙ্ক্ষিত ঘনত্ব বা ভুনাভাব ফেরত পাবেন।

ক্রিম মিশিয়েও কাজ হয়

যেকোনো ক্রিমাজাতীয় উপাদান খাবারের লবণ কমাতে পারে। তরকারিতে দেওয়ার সময় পানিতে গুলিয়ে দিলে তাতে তরকারিতে থাকা লবণ মিশে গিয়ে মোটের ওপর লবণাক্ততা কমে।

সস তৈরির সময় লবণ বেশি হয়ে গেলে তাতে ক্রিম কিংবা দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন।

টমেটো কিংবা ‘চিলি’ সসে ননীমুক্ত সাধারণ দই, টক দই কিংবা ‘সাওয়ার ক্রিম’ দিতে হবে। ক্রিমজাতীয় চিজ যেমন ‘মন্টেরি জ্যাক’, ‘সুইস’ কিংবা ‘রিকোটা চিজ’ ব্যবহার করেও খাবারের লবণ কমানো সম্ভব।

খাবারের পরিমাণ বাড়ানো

অল্প পরিমাণে রান্না করতে গিয়ে যদি লবণ বেশি হয়ে যায়, তবে তাতে আরও কিছু সবজি যোগ করে পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় বীজজাতীয় সবজি, আলু, লবণহীন ভাত। নুডুলসও যোগ করতে পারেন। কারণ তা তরকারির পানি শুষে নেয়। অতিরিক্ত লবণের কারণে পুরো পদটা অখাদ্য হয়ে যাওয়া তুলনায় কিছু বেঁচে যাওয়া নিশ্চয়ই ভালো। ভালোভাবে সংরক্ষণ করলে পরেও খেতে পারবেন।

ঝাল ও লবণ কমাতে মিষ্টি

মধু, গুড় কিংবা চিনি ব্যবহার করেও খাবারের লবণাক্ততা কমানো যায়ে, সঙ্গে ‘ফ্লেইভার’য়ের ভারসাম্যও ঠিক করা যায়। সাদা কিংবা বাদামি, দুই ধরনের চিনিই ব্যবহার করতে পারেন। তবে গাঢ় রংয়ের সসের ক্ষেত্রে বাদামি চিনি ব্যবহার করা ভালো।

লবণ কাটতে অম্ল

লেবুর রস, ‘হোয়াইট ভিনিগার’, ‘অ্যাপল সাইডার ভিনিগার’ ইত্যাদি অম্লীয় উপকরণ দিয়েও তরকারির লবণ ঠিক করা সম্ভব। অনেকসময় লবণের কমতিও দূর করতে পারে অম্লীয় এই উপকরণগুলো। তবে সেক্ষেত্রে স্বাদ বোঝার দক্ষতা থাকা আবশ্যক, অন্যথায় নতুন বিপদ হতে পারে।

 

আরও পড়ুন

উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে লবণের সম্পর্ক

কাঁচা লবণ ক্ষতিকর  

লবণ কম গ্রহণে হৃদযন্ত্রে ঝুঁকি  

লবণের পরিবর্তে লবণাক্ত উপাদান