পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিবরণী সবার জন্য প্রযোজ্য না

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-10-03 21:55:55 BdST

bdnews24

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার আয়ের সীমা যদি চার লাখ টাকা অতিক্রম না করে তাহলে তার জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত বিবরণী দাখিল বাধতামূলক না।

তবে করদাতা চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিবরণী আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে পারবেন।

গত আয় বর্ষ পর্যন্ত এই সীমা ছিল তিন লাখ টাকা। অর্থ আইন ২০২০-এ তা এক লাখ টাকা বাড়িয়ে চার লাখ টাকায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এর ফলে অনেকেই এই বিবরণী দাখিল করা থেকে বেঁচে যাবেন।

তবে জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত বিবরণী দাখিলের বিষয়ে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।

যেমন, যেসব করদাতার শুধু বেতন খাত থেকে আয় রয়েছে তাদের জন্য কয়েক বছর আগে মাত্র তিন পৃষ্ঠার একটি রিটার্ন ফরম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

এই তিন পৃষ্ঠার রিটার্ন ফরমের সঙ্গে জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত বিবরণী নেই। অর্থাৎ, আপনি যদি এই রিটার্ন ফরমে রিটার্ন দাখিল করেন তাহলে আপনাকে জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিবরণী দাখিল করতে হবে না।

আবার কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হলে তার আয়ের উৎস বা আয়ের পরিমাণ যাই হোক না কেনো, তাকে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী বাধ্যতামূলকভাবে দাখিল করতে হবে।

জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণীতে করদাতার সারা বছর ধরে যে ব্যয় হয়েছে এবং কর পরিশোধ করেছেন তার তথ্য উল্লেখ করতে হয়।

ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে করদাতা এবং তার পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণ পোষণ, বাড়ি ভাড়া, গাড়ি থাকলে তার খরচ, ইউটিলিটি বিল, সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ যাবতীয় ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ করতে হয়।

তবে আপনি যদি নিজের বাড়ি বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়িতে থাকেন তাহলে তা লিখে দেবেন। এবং এই বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য যেসব ব্যয় হয়েছে তাও লিখে দেবেন।

দৈনন্দিন খরচের বাইরে আরও কিছু খরচ হয়ে থাকে যার মধ্যে রয়েছে উৎসব, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, উপহার, ভ্রমণ, অনুদানসহ অন্যান্য বিশেষ ব্যয়। এসব ব্যয়ও আপনাকে উল্লেখ করতে হবে।

যেহেতু আমরা অনেকেই সংসারের জন্য যে ব্যয় করি তা লিখে রাখি না তাই সারা বছর ধরে কত খরচ হয়েছে তা হুবহু লেখা সম্ভব হয় না। আমাদের আনুমানিক ভিত্তিতে লিখে দিতে হয়। যেহেতু অনুমান নির্ভর লিখতে হয় তাই জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিবরণী এবং পরে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয়ের বিবরণী মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

করযোগ্য আয় বের করে কর গণনা অনেকেই করতে পারলেও উপরে উল্লেখিত দুইটি বিবরণী পুরণ করতে গিয়ে তাই অনেকেই হিমশিম খান।

ব্যয়ের হিসেব দেওয়ার পর করদাতার আয়ের উপর উৎসে কর্তনকৃত কর এবং নিজের পরিশোধ করা আয়কর যোগ করে মোট কর পরিশোধের পরিমাণও আলাদাভাবে জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিবরণীতে লিখতে হয়।

আপনার যখন ব্যয়ের তথ্য এবং কর পরিশোধের তথ্য দেয়া হয়ে গেল তখন আপনি এই দুই অংক যোগ করলেই সারা বছর ধরে আপনার জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের পরিমাণ পেয়ে যাবেন। এবং এই অংকটাই পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয়ের বিবরণীতে লিখতে হয়।

তাই আপনি যখন রিটার্ন তৈরি করবেন তখন ধাপে ধাপে তৈরি করুন। তাহলে আপনার রিটার্ন তৈরি করা সহজ হবে।

লেখক: জসীম উদ্দিন রাসেল, আয়কর পরামর্শক এবং প্রশিক্ষক।

আরও পড়ুন

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে যারা কর রেয়াত পাবেন  

এক পৃষ্ঠার রিটার্ন ফরম যাদের জন্য প্রযোজ্য  

২০২০-২১ কর বর্ষে ব্যক্তি করদাতার করের বোঝা কমবে