বিলম্ব সুদ দিয়ে ৩০ নভেম্বরের পরেও রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-22 12:41:35 BdST

bdnews24

সময় বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই, তাই ৩০ নভেম্বর ট্যাক্স রিটার্ন জমার শেষ সময়।

ব্যক্তি করদাতাকে কর দিবসের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে ৩০ নভেম্বর কর দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবং এই দিনই হল ব্যক্তি করদাতার রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন।

করোনাভাইরাসের কারণে এই বছর রিটার্ন দাখিল করার সময় বৃদ্ধি করার দাবি কেউ কেউ করে আসছিলেন। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে এর মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সময় বাড়ানোর কোন চিন্তা নেই। তাহলে আপনাকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

অনেকেই চেষ্টা করেন এই সময় সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল করার জন্য। কিন্তু কিছু কিছু সময় তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। যদি আপনি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে না পারেন তাহলে উপকর কমিশনার বরাবর সময় চেয়ে আবেদন করতে হবে। সময় বাড়ানোর জন্য নির্ধারিত ফর্ম আছে। ফর্মে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে উপকর কমিশনারের কাছে সময়ের আবেদন করতে হবে।

উপ কর কমিশনার সন্তুষ্ট হলে আপনার সময় বৃদ্ধি করতে পারেন। তবে সময় বৃদ্ধি করলেও আপনাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য বিলম্ব সুদ দিতে হবে।

সময় বৃদ্ধির আবেদন ফর্মে দুইটি অংশ থাকে। একটি অংশ করদাতার জন্য। এবং একই তথ্যের আরেকটি অংশ কর কর্মকর্তার জন্য।

খুবই অল্প তথ্য দিতে হয়। মাত্র এক পাতার এই ফর্মে করদাতার নাম, ঠিকানা, টিন নাম্বার, সার্কেল, কর অঞ্চল, কত দিন সময় বৃধির জন্য চান, সময় বৃদ্ধির কারণ ইত্যাদি।

তার নিচে নাম লিখে স্বাক্ষরের স্থান এবং তারিখ লিখে স্বাক্ষর প্রদান করতে হয়।

এর নিচে কত দিন সময় বৃদ্ধি করা হল তা লিখে কর অফিসের অন্তর্ভূক্তি নাম্বার লিখে উপকর কমিশনারের স্বাক্ষর এবং সীল দিয়ে করদাতাকে তার অংশ ফেরত দিয়ে আরেকটি অংশ কর অফিস রেখে দেয়।

উপকর কমিশনারের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করার পর তিনি সন্তুষ্ট হলে আপনাকে দুই মাস পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করতে পারবেন।

এর পরেও যদি কেউ কোনো কারণে ব্যর্থ হন তাহলে আরও দুই মাস সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে সময় বৃদ্ধির জন্য আইজেসিটি-র অনুমোদন লাগবে।

কর দিবস অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে করদাতাকে মাসিক ২ শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ দিতে হয়। এই সুদ করদাতা উপকর কমিশনারের নিকট হতে রিটার্ন দাখলের জন্য সময় নিলেও বিলম্ব সুদ পরিশোধ করতে হয়।

বিলম্ব সুদ গণনা করা হয় মোট কর দায় থেকে উৎসে করসহ অগ্রিম কর বাদ দিয়ে যে নীট কর দায় থাকে তার ওপর। এবং কর দিবসের পরের দিন অর্থাৎ ০১ ডিসেম্বর থেকে যে দিন রিটার্ন দাখিল করেছেন ওই দিন পর্যন্ত।

লেখক: জসীম উদ্দিন রাসেল, আয়কর পরামর্শক এবং প্রশিক্ষক।

আরও পড়ুন

স্বামী, স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের আয় রিটার্নে যেভাবে দেখাবেন  

এবার সারচার্জের পরিমাণ কমবে  

রিটার্ন দাখিল করলেই কি কর দিতে হয়?  

সম্পদের বিবরণ দাখিল করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক না  

জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট বিবরণী সবার জন্য প্রযোজ্য না  

অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করলে যারা কর রেয়াত পাবেন  

এক পৃষ্ঠার রিটার্ন ফরম যাদের জন্য প্রযোজ্য  

২০২০-২১ কর বর্ষে ব্যক্তি করদাতার করের বোঝা কমবে  


ট্যাগ:  প্রতিবেদন