নীচু মনের সহকর্মীর সঙ্গে মানিয়ে চলার উপায়

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-26 16:38:38 BdST

bdnews24

অভদ্র, বদমেজাজি, হিংসাপরায়ন সহকর্মীকে সামাল দেওয়ার রয়েছে উপায়।

কর্মক্ষেত্রে কাজের জন্য মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তার ওপর সহকর্মীদের মধ্যে কেউ যদি হয় অভদ্র, বদমেজাজি, হিংসাপরায়ন তবে পরিবেশ আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।

কাজের প্রয়োজনে সবার সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তবে সহকর্মীর ব্যবহার খারাপ হলে কী করবেন?

মানসিক স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল অভদ্র সহকর্মীদের সামাল দেওয়ার উপায়।

আপনার আচরণ হবে দৃঢ়: সহকর্মী যদি আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন, বাকবিতণ্ডা বাঁধে তবে সেই পরিস্থিতিতে আপনাকে শান্ত ভঙ্গিতে সামলাতে হবে। নিজেই রেগে না গিয়ে ভদ্র ভাষায় আপনার মত প্রকাশ করতে হবে। তবে ভদ্রভাবে হলেও আপনার কথাগুলো হতে হবে দৃঢ়।

নিজের ব্যবহার নিয়েও ভাবতে হবে: সহকর্মীকে অভদ্র বলার আগে নিজের আচার আচরণ কেমন সেটাও বিবেচনায় আনা উচিত। আপনার কোনো কথায় কোনো পরিস্থিতি বাজে মোড় নিয়েছে কি-না সেদিকে নজর রাখতে হবে। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ বিবেচনার পর নিজের কোনো মতামত প্রকাশ করার আগে মাথায় রাখতে হবে আপনার উপস্থাপনায় যাতে পেশাজীবী ভাব বজায় থাকে। অন্যদের মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে এবং সেই মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আপ্যায়ন: মাঝে মধ্যে সহকর্মীদের খাওয়ানও জরুরি। সেটা হতে পারে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া কোনো খাবার কিংবা রেস্তোরাঁ থেকে কোনো কিছু অর্ডার করা। দুপুরের খাবারের দাওয়াত দিতে পারেন কিংবা অফিস শেষে চা-কফির দাওয়াত দিতে পারেন। এতে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব শিথিল হতে পারে। আর সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা প্রকাশ পাবে।

পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখা: সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলায় চেষ্টাগুলো যদি সফল নাই হয়, তবে শেষ পর্যন্ত একটা পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখতেই হবে। এই পর্যায়ে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরির আর কোনো চেষ্টা করবেন না ঠিক, তবে কাজের প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে আলাপের সময় নিজেকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কারও বন্ধু হতে চাওয়ার অতি চেষ্টা হিতে বিপরীত হতেই পারে। তাই এই পর্যায়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক শুধুই কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এর বাইরে আর কিছুই নয়।

গালগল্প বাদ: সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ কিংবা পেশাগত যেমনই হোক না কেনো গুজব, পরচর্চা ইত্যাদি থেকে সবসময় দূরে থাকা উচিত। কারণ আজ আপনি কারও গুজব নিয়ে আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন, কাল আপনাকে নিয়েও গুজব তৈরি হতে পারে। যার সঙ্গে আজ অন্যের ব্যাপারে আলোচনা করছেন এই ভেবে যে সে বিশ্বস্ততা বজায় রাখবে, কাল ওই ব্যক্তিই কোনো কারণে আপনার ব্যাপারে কথা ছড়াতে পারে। আর অফিসে পরনিন্দাকারী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কখনই ভালো কিছু নয়। তাই নিজে থেকে অন্যের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। কেউ তা করার জন্য চাপ দিলে ভদ্রভাবে সরাসরি নাকচ করে দিতে হবে।

কর্মকর্তাদের সাহায্য নেওয়া: শতচেষ্টার পরও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ যদি আপনার জন্য প্রতিকুল রয়ে যায় তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাহায্য নেওয়া ছাড়াও আর কোনো উপায় নেই। মানবসম্পদ বিভাগে (এইচআর) নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং তা নিয়ে আলোচনা করা হবে আদর্শ পদক্ষেপ। আর মানবসম্পদ বিভাগেরও উচিত হবে এই বিষয়গুলোকে একতরফা বিশে্লষণ না করে আলোচনার মাধ্যমে একটা পেশাগত সিদ্ধান্ত নেওয়া।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

সহকর্মী কতটুকু নির্ভরযোগ্য  

সহকর্মী যখন ‘প্রাক্তন সঙ্গী’  

বাচাল সহকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়  

সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ার উপায়  

সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা