চাহিদা বুঝে লবণ গ্রহণ, নইলে হবে ক্ষতির কারণ

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-04-21 21:48:59 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স।

সাধারণ লবণ ছাড়াও বিভিন্ন খাবার থেকেও সোডিয়াম গ্রহণ করে দেহ।

অতিরিক্ত খাওয়া ক্ষতিকর জেনে অনেকেই লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেন। তবে অন্যান্য খাবার থেকেও ‘সোডিয়াম’ দেহে শোষিত হচ্ছে কি-না সে হিসেবে থাকে না।

সোডিয়াম স্বাভাবিক ভাবে প্রাকৃতিক খাবার থেকে মেলে।

এক চা-চামচ লবণে ২.৪০০ মি.লি. গ্রাম সোডিয়াম থাকে। আবার ‘টেবিল সল্ট’ আর খনিজ-সমৃদ্ধ লবণ এক নয়।

সাধারণভাবে বোঝাতে গেল খাবার টেবিলে যে লবণ থাকে, অর্থাৎ বাজার থেকে রান্নার জন্য প্যাকেটজাত যে লবণ কেনা হয় সেটাই টেবিল সল্ট।

যা আসলে সামুদ্রিক লবণ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত করা। এতে ৯৭ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে, যা রাসায়নিকভাবে উৎপন্ন হয় এবং এই লবণ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানহীন।

এতে থাকে অ্যালুমিনিয়াম যা স্মৃতিভ্রংশ রোগ হওয়ার কারণ। তবে আয়োডিন মেশানো থাকে এসব লবণে যা গলগণ্ড রোগ হওয়া থেকে বিরত রাখে।

তাই দেহে সোডিয়ামের চাহিদা বুঝে লবণ গ্রহণ করা উচিত।

স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে সোডিয়ামের চাহিদা ও এর প্রয়োজনীয়তা এবং গ্রহণের পরিমাণ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দেওয়া হল।

সোডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা বোঝা

লবণে পাওয়া যায় এমন একটা উপকারী উপাদান হল সোডিয়াম। যা পেশিকে আরাম দিতে, তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পানি স্বল্পতা দূর করতে, নিম্ন রক্ত চাপ প্রতিরোধ করতে, এমনকি স্নায়ু সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

দৈনিক ২,৩০০ মি.গ্রা. সোডিয়াম গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যা এক চা-চামচ লবণ থেকেও পাওয়া যায়।

দুঃখজনক হলেও আমরা দৈনিক এর চেয়ে বেশি পরিমাণে সোডিয়াম গ্রহণ করি। ফলে নানান স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ও কিডনির সমস্যা দেখা দেয়।   

লবণ গ্রহণের পরিমাণ কমানো বা বিকল্প গ্রহণ

* উচ্চ সোডিয়াম সমৃদ্ধ খবার যেমন- রুটি, বিস্কুট, নোনতা ওয়েফার, পপকর্ণ, বোতলজাত খাবার, নোনতা বাদাম, আচার, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও মোড়কজাত খাবার ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।

মনোসোডিয়াম গ্লুটামেইট ও সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট মেশানো খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

যেমন- প্রক্রিয়াজাত মাংস, প্যাকেটজাত সুপ, ফ্রোজেন খাবার, ‘ইন্সট্যান্ট নুডুলস’, সোডা পানি, বোতলজাত লেবু পানি বা লেমোনেড, বাজারে বিক্রি হওয়া বোতলজাত আচার, জেলি, সালাদ ড্রেসিং সয়া সস ইত্যাদি।

* কৌটাজাত সবজি ও ফলের পরিবর্তে তাজা সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।

* রান্নায় লবণের পরিমাণ কমাতে ব্যবহার করা যায় বিভিন্ন ভেষজ যেমন- আদা, হলুদ, থাইম, দারুচিনি, তুলসি, পার্সলে, রোজমেরি ইত্যাদি।

* সালাদের বাড়তি লবণ কমাতে ‘সালাদ ড্রেসিং’ ব্যবহার না করে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার, লেবুর রস বা দইয়ের মেশানো ‍উপকারী।

* সকালে এক গ্লাস পানিতে এক চিমটি ‘হিমালয়ান পিংক সল্ট’ গুলিয়ে পান করতে পারেন। এটা শরীরে আর্দ্রতা ধরে রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

* খাবারে স্বাদ বাড়াতে বাড়তি লবণ যোগ না করে বরং গাজর, শসা, ‘সি উইড’ ও অন্যান্য ভেষজের তৈরি গাঁজানো আচার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। এতে বাড়তি লবণ গ্রহণের ঝুঁকি কমে।

 

আরও পড়ুন

লবণ কমালে রক্ত চাপ নাও কমতে পারে  

লবণ সমাচার  

আয়োডিন থাকলেও অস্বাস্থ্যকর হতে পারে লবণ  

লবণের বিশেষ ব্যবহার  

লবণ কম গ্রহণে হৃদযন্ত্রে ঝুঁকি  

লবণের অপকারিতা  

লবণের পরিবর্তে লবণাক্ত উপাদান  


ট্যাগ:  লাইফস্টাইল  খাদ্য ও পুষ্টি