বার্ধক্যে মায়ের যত্ন

  • তৃপ্তি গমেজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-09 16:01:51 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স।

শুধু ফেইসবুকেই নয়, মায়ের প্রতি যত্ন আর ভালোবাসার প্রকাশ বাস্তবেও প্রয়োজন।

ছোটবেলায় মা সন্তানকে আগলে রাখেন, গড়ে তোলেন। সময়ের স্রোতে সন্তান বড় হয়। ব্যস্ততা বাড়ে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের দেখভাল, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিষয়গুলো ক্রমশই আড়াল হতে থাকে সকলের কাছ থেকে।

তাই সন্তানদের উচিত মায়ের সকল বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা ও তাদের শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া।

বয়স্ক মায়ের যত্নের প্রসঙ্গে বেসরকারি চাকুরিজীবী রিমা আহসান বলেন, “আমার মা গ্রামে থাকেন। আর আমি ঢাকায় পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরি করি। চাইলেও মা বাবার সেবা যত্ন করতে পারি না।

“দূর থেকেও যতটা সম্ভব তাদের খোঁজ খবর নেওয়া, শরীর ঠিক আছে কিনা, ওষুধপত্র খাচ্ছেন কিনা, ইত্যাদির খোঁজ নিতে ভুলিনা। অফিসের পরে প্রতিদিন বাড়িতে ফোন দিয়ে কথা বলি, গল্প করি। মজার কোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমি যে তাদের থেকে দূরে থাকি, পারতো পক্ষে এটা বুঝতে দেই না।”

ইন্টারনেটের যুগে যেই প্রান্তেই থাকা হোক, চাইলেই পরিবারের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হওয়া যায়।

কানাডা প্রবাসী জনি গমেজ নিয়মিত দেশে ভিডিও মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।

“টাকা পাঠিয়ে হয়ত পরিবারের মানুষদের আর্থিক প্রয়োজনটা মেটানো যায়, তবে যদি ভিডিওতে একবার দেখা হয়, কথা হয়, তাতে মা অনেক বেশি খুশি হন।” বললেন জনি।

লিন্ডা সমদ্দার পেশায় চিকিৎসক। মা ও শাশুড়ি দুজনেরই শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখেন তিনি।

তার কথায়, “মা বাবা বয়স্ক হলে তাদের শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক যত্নের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত সকল সন্তানের। এই মহামারীর সময়ে ছোট বড় সকলেরই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া উচিত। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি রাখতে হবে বিশেষ খেয়াল।”

“মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা একা হয়ে পড়েন। শারীরিক নানান জটিলতা দেখা দেয়। অনেকে আবার মানসিকভাবেও ভেঙে পরেন। নিজেকে বোঝা ভাবতে শুরু করেন।”

“মহামারীর সময়ে অধিকাংশ বয়োজ্যেষ্ঠরা হাঁপিয়ে উঠেছেন। আগে হয়তো অনেকে হাঁটতে যেতেন, বাজারে যেতেন অথবা সমবয়সীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে পার করতেন। এখন তা আর সম্ভব নয়। ফলে অনেকেই গুটিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের।”

এমন মানসিক অবস্থা থেকে তাদের বের করে আনার পরামর্শ দেন, ডা. লিন্ডা। 

মায়েদের শারীরিক সুস্থতার প্রসঙ্গে সাভারের ‘বিজিএমইএ’ হাসপাতালের ‘ফ্যামিলি মেডিসিন’এর এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “মায়েদের শারীরিক সুস্থতার জন্য তাদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা আবশ্যক। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নানান রোগ যেমন- রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই তাদের ঠিকঠাক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।”

এছাড়াও, নারীদের বিশেষ কিছু শারীরিক রোগ যেমন- স্তন ও জরায়ুর সমস্যা দেখা দেয়। তাই মায়েদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্তন ও জরায়ুর সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ডা. লিন্ডা বলেন, “বছরে একবার যেকোনো হাসপাতাল থেকে ‘রুটিন চেকআপ’ করানো উচিত। এতে কোনো সমস্যা থাকলে প্রাথমিক অবস্থাতেই ধরা পড়বে। আর সমাধান করাও সহজ হবে।”

“মনে রাখতে হবে, সমস্যা হওয়ার আগেই যদি সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তাহলে অনেক বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা সম্ভব”। বললেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।