সময়ের কাজ সময়ে করার উপায়

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-19 23:20:55 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স।

যারা সময় মেনে চলে তাদের থেকেই শিখে নেওয়া যায় অপচয় রোধের কৌশল।

সময় অমূল্য সম্পদ একথা প্রতিটি মানুষ ছোটবেলা থেকেই শেখে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে সময়ের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক।

সময়ের কাজ সময়ে করতে পারা, অন্যকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সময় মতো রক্ষা করা, নিজের সময়ের সঠিক ব্যবহার সব কিছু মিলেই সময়ানুবর্তীতা।

সময় মেনে গুছিয়ে কাজ করতে পারেন এমন কিছ ‍ব্যক্তিকে নিয়ে জীবনযাপন-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রেডবুক’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে সেসব মানুষের সময় ব্যবস্থাপনার কৌশলগুলো তুলে ধরা হয়।

পরনের পোশাক নির্ধারণ করে রাখা

দিনের শুরুতে কর্মক্ষেত্রে রওনা দেওয়া আগে, কোথাও বেড়াতে কিংবা দাওয়াতে যাওয়ার আগে প্রতিদিনই কিছু সময় ব্যয় হয়ে যায় পোশাক নির্বাচন করতে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নারী-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ওয়ান্ডার উইমেন আই অ্যাম নট’য়ের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হিল প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনে আগামী এক সপ্তাহের পোশাক নির্ধারণ করে রাখেন।

তিনি বলেন, “একটি ‘হ্যাঙ্গার’য়ে একদিনের পরিধেয় সকল পোশাক একসঙ্গে রাখি, একদম পরার জন্য প্রস্তুত করে। সাতদিনের পোশাকের মধ্য থেকে যেদিন যা পরতে ইচ্ছা করে সেদিন সেটা পরে ফেলি। কোনটার সঙ্গে কোনটার ‘ম্যাচিং’, অন্তর্বাস কোনটা পরতে হবে সেই চিন্তাগুলো শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে রাখি না।”

একাধিক কাজের তালিকা

‘ফ্র্যাজলড হোমমেকার’ ওয়েবসাইটে ‘সিংগেল প্যারেন্টিং’ নিয়ে লেখেন ব্লগার ক্যাথি র‌্যাটক্লিফ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনটি দিনপঞ্জিকা ও দৈনন্দিক কাজের তালিকা মেনে চলেন।

তিনি বলেন, “প্রতিদিন কাগজে কলমে একটি কাজের তালিকা সবসময় আমার সঙ্গে থাকে, ‘গুগল ক্যালেন্ডার’ বিভিন্ন দৈনিক ও মাসিক কাজের ব্যাপারে আমাকে আগেভাগেই সতর্ক করে। আর বাসার ‘ফ্রিজ’য়ের গায়ে থাকে আরেকটি ‘ক্যালেন্ডার’, যাতে আমিসহ পরিবারের সবাই তাদের দৈনন্দিন কাজগুলো লিখে রাখে। এতে করে পরিবারের সবাই সবার কাজ সম্পর্কে অবগত থাকে, কারও কোনো কিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।” 

প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ গোছানো

একটা নির্দিষ্ট বস্তু যখন প্রয়োজন নেই, তখন চোখের সামনেই পড়ে থাকে। তবে প্রয়োজনের সময় সেই বস্তুটাই খুঁজে পাওয়া যায় না।

অসংখ্য মানুষ অসংখ্যবার এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন। জিনিসপত্র অগোছালো থাকাই এর কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের শখের লেখিকা শ্যারন রাউলির ছয় সন্তান।

তিনি বলেন, “আমার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। একেক খেলার সরঞ্জাম একেক রকম। এজন্য সকল খেলার সরঞ্জাম একসঙ্গে না রেখে প্রতি ধরনের খেলার সরঞ্জামের জন্য আলাদা বাক্স রাখা হয়েছে। আর যে বাক্স থেকে যা বের হবে, কাজ শেষে তা যেন সেই বাক্সেই ফিরে- এই ব্যাপারে সন্তানদের দেওয়া আছে শক্ত নির্দেশ।”

“শুধু খেলা নয়, তাদের লেখাপড়ার সরঞ্জাম, আমার এবং স্বামীর অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রান্না, কেনাকাটা ইত্যাদি সকল কাজের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় বস্তুর জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারণ করা আছে। হয়ত মনে হতে পারে এত কিছু অনেক ঝক্কির। তবে জরুরি কাজে বের হওয়ার মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কিছু যখন খুঁজে পাবেন না তখনই এর মর্ম বুঝতে পারবেন।”

মূল কাজের মাঝে অন্য কাজ

যুক্তরাষ্ট্রের সময়-ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শদাতা পিটার টারলা বলেন, “মানুষ কোথাও যাওয়ার আগে ঠিক কতক্ষণ আগে রওনা দিতে হবে সেই হিসাব করতে গিয়ে অনেক সময় নিয়মিত কাজে গুবলেট পাকিয়ে বসেন। অফিসের জন্য বেরিয়ে গিয়ে টের পাওয়া মানিব্যাগ ফেলে এসেছি, গাড়িতে বসে অনুধাবন করা যে গাড়ির চাবিটা ঘরেই থেকে গেছে, সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পথে মনে পড়ে যে পানির বোতলটা বাড়িতেই রয়ে গেছে।”

“এমন উদাহরণ বলে শেষ করা যাবে না। আবার রাস্তাতেও সময় নষ্ট হওয়ার অনেক কারণ থাকে যার জন্য হাতে বাড়তি সময় নিয়ে বের হতে হয়।”

“এই সম্ভাব্য বিষয়গুলোর জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখা উচিত। হয়ত এগুলো প্রতিদিন ঘটবে না, তবে যদি সময় ধরে রাখা হয় তবে তাড়াহুড়া কাজ করবে না। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমাবে।”

অনলাইনে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কত সময় নষ্ট হয় তার কোনো হিসাব নেই।

‘টেক ব্যাক ইউর টাইম’ বইয়ের রচয়িতা শারি ম্যাকগুয়্যার বলেন, “ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেইল ইত্যাদির জবাব পাঁচ মিনিটেই দিয়ে দেওয়া যায় ঠিক, তবে জবাবটা ভাবতে সময় কিন্তু ঠিকই যায়। আর এখানে ওখানে পাঁচ মিনিট করে সময় দিতে গিয়ে অনেকটা সময় কখন পেরিয়ে যায় খেয়াল থাকে না।”

যুক্তরাষ্ট্রের এই লেখিকার পরামর্শ, “তাই অনলাইনে কতক্ষণ থাকবেন তার সময় বেঁধে নিন নিজের মতো করে।”

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

পরিণত বয়সে পা দেওয়ার পর একজন মানুষের দৈনন্দিন চিন্তার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস বিল, ক্রেডিট কার্ডের বিল, ঋণের ‘ইএমআই’, সন্তানের স্কুলের বেতন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধের ভাবনায়।

এরমধ্যে কিছু বিল কখন আসবে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব যেমন- ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি।

সেগুলো এমন সময়ে নিয়ে আসতে পারেন যখন আপনার হাতে পর্যাপ্ত টাকা থাকে।

অন্যান্য দিনগুলো মনে রাখার জন্য মোবাইল ফোনে ‘রিমাইন্ডার’ রাখতে পারেন। কিংবা দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারে লিখে রাখতে পারেন।

পরিবারের সদস্যদের কাজে লাগান

ঘরের কাজগুলো আপনি করেন বলেই যে কারও সাহায্য নিতে পারবেন এমন তো কোনো নিয়ম নেই। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাতে তুলে দিতে পারেন গৃহস্থালী কিছু টুকিটাকি কাজ।

যারা নিয়মিত ঘর সামলান তাদের অনেকেই হয়ত বলবেন, অন্যদের দিয়ে করাতে গেলে তারা কাজ আরও বাড়িয়ে দেয়, কমায় না।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শুরুতে ভুল হবেই, তবে একবার শিখে গেলে আর ঘরের কাজে হাত লাগানোর অভ্যাসটা হয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে আপনার ওপরেই চাপ কমবে।

নারী-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য কনফিডেন্ট মম’য়ের প্রতিষ্ঠাতা সুজ্যান হেইড বলেন, “আমার বাচ্চারা নিজেরাই তাদের সকাল ও দুপুরের খাবার তৈরি করতে শিখে গেছে।”

“আগে আমার বড় সন্তান ছোটটাকে সাহায্য করতো। এখন ছোটটার বয়স আট। সেই নিজেই ‘টোস্টার’ ব্যবহার করে পাউরুটি থেকে টোস্ট বানাতে পারে, নিজের জন্য ওটমিল বানাতে পারে, ওভেনে ডিম সেদ্ধ করতে পারে। ফলে সকালে স্কুলের জন্য বের হওয়ায় তাড়াহুড়ো অনেকটা কমে।”
এসব কর্মকৌশলগুলো আয়ত্তে এনে সময়কে বাঁধুন নিজের মতো করে।