প্রতিদিন অ্যাসপিরিন সেবনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-23 21:58:58 BdST

bdnews24

সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা কিংবা শরীর মেজমেজ করলেই টপাটপ ওষুধ গেলার আগে একটু থামুন।

কারণ বহুল প্রচলিত অ্যাসপিরিন নিয়মিত সেবন করার ভালো দিকের চেয়ে ক্ষতিকর দিক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের চার্লস্টন’য়ের, দক্ষিণ ক্যারোলিনা’র ‘ইমার্জেন্সি মেডিসিন ফিজিসিয়ান’ কেনেথ পেরি বলেন, “‘অ্যাসপিরিন, বা ‘অ্যাসিটলস্যালিসালিক অ্যাসিড’ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হিসেবে তৈরি হয়। জ্বর কমানো, ব্যথা সারানো, এমনকি ‘হার্ট অ্যাটাক’য়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়। যত দিন যায় ততই যেন এর নিত্য নতুন ব্যবহার আবিষ্কার হয়।”

‘ইটদিস, নট দ্যাট’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিকিৎসক আরও বলেন, “অ্যাসপিরিন’ সহজেই পাওয়া গেলেও তা বেশ শক্তিশালী ওষুধ, আর সঙ্গে আছে শক্তিশালী কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও।”

প্রদাহ কমাতে: ‘প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন্স’ নামক এনজাইমকে প্রভাবিত করে অ্যাসপিরিন। প্রদাহ আর ব্যথা শুরু ও বন্ধ হওয়ার চাবি হিসেবে কাজ করে এই এনজাইম। আর সেই কারণেই বহু বছর ধরে ওষুধটি জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবহার হয়ে আসছে।

প্রদাহ এবং তা থেকে হওয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সারাতে আজও চিকিৎসকরা এই ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

পেটে আলসার হতে পারে

কড়া ওষুধ হওয়া কারণে সবার শরীরে তা সইতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত চিকিৎসক লিঅ্যান পস্টন বলেন, “দীর্ঘদিন ‘অ্যাসপিরিন’ সেবন করার কারণে পাকস্থলীর ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ব্যথা ও আলসার হতে পারে।

যাদের বয়স ৬৫ বা তার বেশি এবং পেটে আলসার হওয়ার ঘটনা আগে ঘটেছে, এক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। যারা মদ্যপান করেন কিংবা ‘ব্লাড থিনার’ গ্রহণ করছেন, তাদেরও একই পরিমাণ ঝুঁকি আছে।

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে

অ্যামেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’য়ের মতে, “যাদের ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছে তাদেরকে চিকিৎসক প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবনের পরামর্শ দিতে পারে। যাদের হৃদরোগের ইতিহাস আছে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার একটি অংশ এই অ্যাসপিরিন। তবে চিকিৎসক সেবন করতে বললেই কেবল তা নেওয়া যাবে, নিজের সিদ্ধান্তে নয়।”

রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বাড়ায়

‘অ্যান্টি-কোয়াগ্যালেন্টস’ হিসেবে অ্যাসপিরিন সমাদৃত। অর্থাৎ এটি রক্ত পাতলা করে।

এর ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ভারতীয় বংশদ্ভূত পাকস্থলী-অন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল আগারওয়াল, বলেন, “শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা আঘাত লাগলে সেখানে রক্তের অনুচক্রিকা গিয়ে জমা হয়ে রক্ত জমাট বাঁধায়। ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। যারা নিয়মিত ‘অ্যাসিপিরিন’ সেবন করেন তাদের রক্ত পাতলা হওয়ার কারণে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়।”

“সেইসঙ্গে আরও অনেক ওষুধের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক অন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডা. ব্যারি গরলিতস্কি “মারাত্বক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হল ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেসটাইনাল ব্লিডিং’ বা পাকস্থলী ও অন্ত্রের ভেতরে রক্তক্ষরণ।”

কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে

জেএএমএ অনকোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক ‘মেটা-এনালাইসিস’ অনুযায়ী, “যারা ছয় বছর বা তারও বেশি সময় ‘অ্যাসপিরিন’ গ্রহণ করেছেন, তাদের ‘কলোরেক্টাল ক্যান্সার’য়ের ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে ১৯ শতাংশ আর ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেসটাইনাল ক্যান্সার’য়ে ঝুঁকি কমেছে ১৫ শতাংশ।”

করতে পারে যকৃতের ক্ষতি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডকস স্পাইন+অর্থোপেডিকস’য়ের ডা. খায়ার সিদ্দিকি বলেন, “অতিরিক্ত অ্যাসপিরিন সেবনের একটি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হল যকৃত নষ্ট হওয়া।”

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক’য়ের তথ্যানুসার, যকৃত নষ্ট হওয়ার উপসর্গ হল জন্ডিস। এই রোগে আক্রান্ত হলে চোখের সাদা অংশ হলুদ বর্ণ ধারন করে।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

প্যারাসিটামলে গর্ভের কন্যা সন্তানের ক্ষতি  

গর্ভাবস্থায় যেসব ওষুধ খাওয়া যাবে না  

ওষুধ খাওয়ার ভুলে অসুস্থতা  

পানি ছাড়া ওষুধ খাওয়াতে ক্ষতি