পরিষ্কার থাকার অভ্যাসগুলোও হতে পারে নোংরা

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-29 12:31:26 BdST

bdnews24

মোবাইল ফোন বাথরুমে ব্যবহার বা দাঁতের ব্রাশ খোলা অবস্থায় রেখে দিচ্ছেন কি?

এই ধরনের অভ্যাসগুলোর দিকে তেমন একটা নজর দেওয়া হয় না।

‘পারসোনাল হাইজিন’ বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা অভ্যাসগত কাজ। আর সেগুলো কতটুকু যথেষ্ট, তা নিয়ে একেকজনের ধারণা একেকরকম।

তবে সেসব ধারণা যে অধিকাংশেরই ভুল তা বারবার প্রমাণিত হয় জীবাণু সংক্রমণের কারণে হওয়া রোগ থেকে।

‘দ্য ল্যানসেট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল ইনফেকশন সার্ভিস, পাবলিক হেল্থ’য়ের এক গবেষণার ফলাফল বলে, “শৌচাগার ব্যবহারের পর নিজেকে ভালোভাবে পরিষ্কার না করার কারণে ‘ই.কোলি’ ব্যাক্টেরিয়াতে সংক্রমিত হওয়ার যে সম্ভাবনা আছে তা খাবার খাওয়া ও রান্নায় অপরিচ্ছন্নতা-জনীত সম্ভাবনা থেকে কয়েকগুন বেশি।”

শৌচাগারে মোবাইল

‘ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনা’র ‘মাইক্রোবায়োলজিস্ট’ ড. চার্লস গেরবা’র মতে, “অসংখ্য মানুষ শৌচাগারে মোবাইল নিয়ে যান। শৌচকাজ করার সময় তা ব্যবহার করেন। আর মোবাইল প্রচুর পরিমাণে জীবাণু বহন করতে সক্ষম। এমনকি যে ‘কমোড’য়ে আপনি বসে আছেন সেখানকার তুলনায় বেশি জীবাণু আপনার মোবাইলে আছে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”

যুক্তরাজ্যের ‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিন’ তাদের এক গবেষণার ভিত্তিতে দাবি করে, “গবেষণার আওতায় থাকা ৯২ শতাংশ মোবাইলে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আর প্রতি ছয়টি মোবাইলের মধ্যে একটিতে অস্তিত্ব থাকে মলের জীবাণু।”

তাই শৌচাগারে শৌচ কাজেই যান, মোবাইল ঘরেই থাকুক।

কান খোঁচানো

কান খুঁচিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা অনেকের কাছে অবসর কাটানোর কাজ।

‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অটোল্যারিঙ্গোলজি’র তথ্যানুসারে, “একজন মানুষের কনুইয়ের চাইতে ছোট আকারের কোনো কিছুই কোনো কারণেই মানুষের কানে প্রবেশ করানো উচিত নয়।”

এই সংস্থার শীর্ঘস্থানীয় বিশেষজ্ঞ সেথ আর. শোয়ার্জ বলেন, “আমাদের কাছে আসা রোগীদের অনেকেই কান খোঁচানোর আগে ভাবতেন যে, তারা কানের ভেতরে ময়লা জমা বন্ধ করছেন। মোটামুটি সচেতন মানুষ এই কাজে ‘কটন বাড’ ব্যবহার করেন।”

“তবে কত ধরনের বস্তু যে মানুষ কানে খোঁচাতে ব্যবহার করে তা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। সমস্যা হলো ‘ইয়ার-ওয়্যাক্স’ পরিষ্কার করতে গিয়ে মানুষ তা আরও ভেতরের দিকে ঠেলে দেয় যা কানের ভেতরের সংবেদনশীল অংশের ক্ষতি করে। আর কানের ভেতর প্রবেশ করানো যায় এমন যেকোনো বস্তু কানের পর্দা ও নালীর জন্য ক্ষতিকর এবং হতে পারে স্থায়ী দুর্ঘটনার কারণ।”

তাই কানে কটনবাড ঢোকানোর আগে দুবার চিন্তা করুন।

নখ ও ‘নেইলকাটার’ অবহেলায় রাখা

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবে হাত পরিষ্কারে আমরা এখন অনেক সচেতন। তবে হাতে নখ বরাবরই অবহেলিত রয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’র মতে, হাতের নখের মাধ্যমে অসংখ্য জীবাণুর সংক্রমণ হওয়া সম্ভব, এরমধ্যে ‘পিনওয়ার্ম’ বিশেষ মারাত্মক।”

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিম্পটোমস কেয়ার’য়ের চিকিৎসক ও গবেষক এস্তেবান কোজাক বলেন, “হাতের নখ কিছুদিন পরপরই ছোট করে ফেলা উচিত। বেশিদিন অপেক্ষা করলে কাটার সময় নখ ভেঙে যাওয়া সম্ভাবনা বাড়ে। আর তা বড় হয়ে গেলে সেখানে ময়লা ও জীবাণু জমে থাকার সুযোগ তো আছেই।”

অপরদিকে নখ কাটার যন্ত্রটাও জীবাণু আখড়া হতে পারে। তাই ব্যবহারের পর নেইলকাটার ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা জরুরি।

দাঁতের ব্রাশ শৌচাগারে রাখা

‘কমোড’ কিংবা ‘প্যান’ যাই হোক না কেনো, শৌচাগারের কাজ শেষে তাতে পানি ঢালা কিংবা ‘ফ্লাস’ করলে শৌচাগার থেকে জীবাণু বাতাসে উঠে আসে প্রতিবার।

শৌচাগারের বাতাসে তা ঘুরতে থাকে এবং সেখানে থাকা প্রায় সবকিছুতেই জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় দাঁতের ব্রাশ যদি শৌচাগারে অনাবৃত থাকে সেখানেও মলমূত্রের জীবাণু ছড়াবে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম স্কুল অফ ডেন্টিস্ট্রি’র ‘অ্যাডভান্সড এডুকেশন প্রোগ্রাম ইন পেরিডন্টোলজি’র সহযোগী অধ্যাপক মিয়া এল. গাইজিঙ্গার বলেন, “দাঁতের ব্রাশ এমন স্থানে রাখা উচিত যাতে তা ব্যবহারের পর পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে পারে। বাথরুমে না রাখাই ভালো। যদি রাখতেই হয় তবে কোনো বাক্সে রাখা উচিত।”

প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করা

মাথার ত্বক জৈবিক তেল তৈরি করে যা চুলের জন্য উপকারী। প্রতিদিন যদি চুলে শ্যাম্পু করা হয় তবে চুলে থাকা ময়লা ও বাড়তি তেল তো ধুয়ে যায়ই, সঙ্গে এই জৈবিক উপকারী তেলও ধুয়ে যায়। ফলে মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, চুল পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘টনি অ্যান্ড গাই’ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফিলিপ হগ, ‘গ্ল্যামার’ ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “লম্বা চুলের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি। কারণ ছোট চুল বেশি শক্ত থাকে। পাশাপাশি জৈবিক এই তেলের অভাব চুলের রং হালকা হয়।”

ঘরের রিমোটগুলো পরিষ্কার না করা

ঘরের সবচাইতে বেশি ব্যবহার হওয়া বস্তু সম্ভবত রিমোট। বাসার সকলেই তা স্পর্শ করেন, কেউ পরিষ্কার হাতে কেউ আবার অপরিষ্কার হাতে।

চিকিৎসাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ওয়েবএমডি’র মতে, “যেকোনো বস্তু যা একাধিক মানুষ অসংখ্যবার স্পর্শ করে, তাতে জীবাণু থাকতে বাধ্য।”

তাই যখন যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করছেন, তখন সেই যন্ত্রটির রিমোট পরিষ্কার করে নিতে পারেন স্যানিটাইজার দিয়ে।

তোয়ালে না ধুয়ে ব্যবহার

যারা পাতলা গামছা ব্যবহার করেন তাদের প্রায় সকলেই গোসলের পর গামছা পানিতে ধুয়ে নেন। তবে তোয়ালে যেহেতু সহজে শুকায় না, তাই না ধুয়ে অনেকদিন একই তোয়ালে গোসলের পর ব্যবহার করা হয়।

ফলে ওই তোয়ালে হয় জীবাণুর এক ভয়ংকর আস্তানা।

একাধিক তোয়ালে রাখতে হবে। একটি তোয়ালে এক থেকে দুই দিন ব্যবহারের পর তা ধুয়ে ফেলতে হবে সাবান কিংবা ‘ডিটারজেন্ট’ দিয়ে। তা শুকাতে যে সময় লাগবে সেসময় অন্য তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

ঘরে যেখানে জীবাণুর মাত্রা ভয়ঙ্কর  

রান্নাঘর পরিষ্কারে যে জিনিস ব্যাক্টেরিয়া ছড়ায়  

জীবাণু বিস্তার রোধে শৌচাগারে করণীয়  

যেসব গৃহস্থালী পণ্যে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থাকে না  

হয়ত তোয়ালেগুলো ঠিক মতো পরিষ্কার করছেন না