অন্যান্য রোগ থেকেও সাবধান

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-13 22:24:57 BdST

bdnews24

শুধু করোনাভাইরাস নয়, এই মৌসুমে অন্যান্য রোগ থেকেও নিজেকে রক্ষা করুন।

অনেক দেশে মহামারীর পরিস্তিতি স্বাভাবিক হওয়া শুরু হলেও আমাদের দেশে আজও বেসামাল। তারপরও প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন। মাস্ক পরা নিয়ে অনীহা এখনও বিদ্যমান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখা হচ্ছে না।

এই অবস্থায় ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা শুধু করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্যই জরুরি নয়, আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি আছে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ইটদিস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হলো বিস্তারিত। 

মৌসুমী রোগ

‘কোভিড-১৯’য়ের প্রাদুর্ভাবে বহু আগে থেকেই সাধারণ সর্দিজ্বর আর ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা’র ঝুঁকি পুরো পৃথিবী জুড়েই বিদ্যমান। আর এই রোগগুলো উপসর্গ অনেকটাই ‘কোভিড-১৯’য়ের সঙ্গে মিলে যায়।

তাই কাশি, শরীর ব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকেই বলে দেবেন কারও ‘কোভিড-১৯’ পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন আছে কি-না।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’র মতে, “ফ্লু’, ‘কোডিভ-১৯’ ইত্যাদিসহ অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগের উপসর্গগুলো অনেকটা একইরকম হওয়ায় শুধু উপসর্গ থেকে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। আর সেজন্যই পরীক্ষা করানো জরুরি।”

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস

ঘরের বাইরে বেশি থাকার কারণে মশাবাহী রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মশার মাধ্যমে মানুষের মাঝে ছড়ায় এমন অন্যান্য ভাইরাসের মধ্যে ‘ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস’ অন্যতম।

আর মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি তো আছেই।

তাই ঘরে কিংবা বাইরে, মশা থেকে সাবধান থাকতে হবে। ঘরের আশপাশে পানি জমে থাকে এমন স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।

ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জি

জীবাণু সংক্রমণ না হলেও ঘরের বাইরে লম্বাসময় মাস্ক ছাড়া থাকার কারণে ফুলের রেণু, ঘাস, গাছ, ফুল, ধুলা ইত্যাদি অসংখ্য বিষয় আছে যা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।

‘যুক্তরাষ্ট্রের ‘মায়ো ক্লিনিক’য়ের তথ্যানুসারে, “অ্যালার্জির কারণে শরীর ব্যথা, জ্বর হওয়া সম্ভব নয়। তবে কিছু বিরল ক্ষেত্রে স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি হারাতে পারে যাকে সাধারণ মানুষ ‘কোভিড-১৯’য়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখবে। তবে অ্যালার্জি থেকে হাঁচি, কাশি হওয়াটা সাধারণ ঘটনা।”

লাইম ডিজিজ

মশার মতো আরও অনেক পোকামাকড় রোগজীবাণু ছড়ায়।

‘সিডিসি’য়ের মতে, “টিকস’ একটি পোকা যা মানুষের ত্বকের ব্যাক্টেরিয়া ছড়িয়ে দেয়, যা থেকে সৃষ্টি হতে পারে ‘লাইম ডিজিজ’, ‘রকি মাউন্টেইন স্পটেড ফিভার’, ‘অ্যানাপ্লাজমোসিস’, ‘বেবসিয়োসিস’ ইত্যাদি রোগ।

‘অ্যান্টিবায়োটিক’ ওষুধের সাহায্যে এই রোগগুলো চিকিৎসা করা হয়। তবে তার চাইতে জরুরি বিষয় হল শরীরের কোথায় ‘টিকস’ কামড়ে আছে সেটা চিহ্নিত করা ও তা অপসারণ করা। পোকা কামড়ানোর সাতদিনে মধ্যে যদি জ্বর আসে তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

‘হিটস্ট্রোক’ ও পানিশূন্যতা

তাপমাত্রা যখন বেশি, তখন ঘরের বাইরে ‘হিটস্ট্রোক’য়ের ঝুঁকিও বেশি। বিশেষত, যাদের বয়স ৫০ বা তার ওপর।

আবার একই কারণে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া সম্ভাবনাও প্রবল।

তাই তৃষ্ণা অনুভূত হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে দিনে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে। বাইরে গেলে সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আরও পড়ুন

জ্বর জ্বর লাগলে  

সর্দিজ্বরের সঙ্গে ‍যুদ্ধ করতে  

সিজনাল ফ্লু