পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

যেভাবে কফি গ্রহণে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে

  • লাইফস্টাইলডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-08-02 20:38:30 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স।

দিনের শুরুতে এক কাপ কফি বেশ মন-প্রাণ জুড়ায়। তবে সঠিক তাপমাত্রায় গ্রহণ করা জরুরি।

দিনের শুরুতে চা বা কফি পান করেন না এরকম মানুষ কমই আছেন। কেউ গরম, কেউ হালকা গরম কেউ বা ঠাণ্ডা করেই এই পানীয় পান করতে পছন্দ করেন।

যারা অল্প গরম বা ঠাণ্ডা করে পান করছেন তারা হয়ত বেঁচে গেলেন। কারণ সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল হল, অতিরিক্ত গরম কফি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

২০১৯ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’য়ে ৪৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সি ৫০,০৪৫ জনের ওপর ১০ বছর পর্যবেক্ষণ করে ফলাফল প্রকাশিত হয়।

গবেষকরা দেখেছেন যে, যারা ২৩.৭ আউন্স চা দিনে ১৪০ ডিগ্রি ফারেন্টহাইট (৬০ ডিগ্রি সেলসিয়ান) তাপমাত্রায় পান করেন তাদের ৯০ শতাংশের খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

আর যারা কুসুম গরম বা ঠাণ্ডা অবস্থায় পান করেন তাদের এই ঝুঁকি কম থাকে। 

যদিও গবেষণার প্রধান নজর ছিল চা ও কফি পানকারীদের নিয়ে। তবে পর্যবেক্ষণে বের হয়ে এসেছে পানীয়র তাপমাত্রার বিষয়টি। তারপরও রোগের ঝুঁকি কফি ও চান পানকারীদের জন্যই প্রযোজ্য।

চা বা কফি ঠাণ্ডা করে পান করা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়া কফি পান করতে চাইলে খুব বেশি গরম অবস্থায় পান না করে বরং খালিনটা ঠাণ্ডা করে পান করা উচিত।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. ফরহাদ ইসলামী (এমডি)’ বিবৃতি অনুসারে, বেস্টলাইফ ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বেশি গরম পানীয় খাদ্যনালীর জন্য ক্ষতিকর।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি’র এই বৈজ্ঞানিক পরিচালক বলেন, “খুব গরম চা বা কফি পান করলে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই পান করার আগে গরম পানীয় ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।”

চা বা কফি সামনে নিয়ে অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য্য না থাকলে বরং এতে সাধারণ বা ঠাণ্ডা তাপমাত্রার দুধ যোগ করা যেতে পারে। এতে হজম ও ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পাবে।

চিনি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

কফিতে চিনি যোগ করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

পানীয়তে বাড়তি ক্যালরি যোগ করলে রক্তে নানান রকমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানা যায়, ২০১৭ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এপিডেমিওলজি’তে প্রকাশিত সমীক্ষা থেকে।

খাদ্যে থাকা সুক্রোজ খাদ্যনালীর ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

অনেকেই মনে করেন যে, গরম কফির তুলনায় ‘আইসড কফি’ খাওয়া নিরাপদ।

তবে ‘ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড (ডব্লিউসিআরএফ)’ অনুযায়ী, চিনি যুক্ত বরফ ঠাণ্ডা পানীয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী।

নিয়মিত মিষ্টি ‘আইসড কফি’ খাওয়া ওজন বাড়ায় যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। এছাড়াও হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী বলে জানায়, ডব্লিউসিআরএফ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার, র‍্যাচেল থম্পসন, পিএইচডি।

তবে শুধু কফি পান অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

কফি পান শরীরকে চাঙ্গা রাখে। বাড়তি চিনি ছাড়া এই পানীয় পান করা দেহের জন্য উপকারী।

২০১৬ সালে ‘ক্যান্সার এপিডেমিয়োলজি বায়োমার্কার্স অ্যান্ড প্রিভেনশন’য়ে প্রকাশিত সমীক্ষা থেকে জানা যায়, দিনে দুয়েক কাপ কফি পান করা ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

 

আরও পড়ুন

কফি পানের সঠিক অভ্যাস  

স্বস্তির কফি যখন অস্বস্তির কারণ  

‘ইন্সট্যান্ট কফি’র উপকারিতা