পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড: খুনিদের মারতে লিবিয়া যেতে চেয়েছিলেন মৌলভি সৈয়দ

  • মুহাম্মদ শামসুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-08-14 22:18:55 BdST

bdnews24
বঙ্গবন্ধুর সাথে চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা, উপরের সারির তিন নম্বরে মৌলভি সৈয়দ।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যে প্রতিবাদ হয়েছিল তা অনেকাংশেই নানাভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছে।

১৯৯৬-২০০১ এর জুলাই পর্যন্ত এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় বাদে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করেছে বঙ্গবন্ধু হত্যার সুবিধাভোগীরা।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার দাবি এবং শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হলে এমনকি এখনও কিছু লোক বঙ্গবন্ধুর মতো অবিসংবাদিত নেতার হত্যাকাণ্ডের পর কোনও প্রতিবাদ-প্রতিরোধ হয়নি বলে উল্লেখ করে বোঝাতে চান যে, ১৯৭৫ সাল নাগাদ বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা অত্যন্ত কমে গিয়েছিল। এমনকি নিজ দলের নেতা-কর্মীরাও তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর টু শব্দ পর্যন্ত করেননি।

এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডকে প্রচ্ছন্নভাবে ‘যৌক্তিক’ ও ‘সময়ের দাবি’ হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টা চালায়।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে সমালোচকদের এমন মন্তব্য আদৌ সঠিক নয়। কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির অবস্থান ও সামরিক কর্মকাণ্ডের আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষের মতো অনেক নেতা-কর্মীর মধ্যে প্রথমেই বিভ্রান্তি দেখা দিলেও দেশের অনেক জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছিল। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা না পাওয়া এবং বৃহত্তর পরিসরে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে না ওঠার কারণগুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যেমন- ১৫ অগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির পরের দিন ছিল নবগঠিত জাতীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সম্মেলন ও পরিচিতি অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ের প্রায় শীর্ষ নেতা অবস্থান করছিলেন ঢাকায়। অর্থাৎ সাংগঠনিকভাবে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ডাক দেওয়ার মতো লোকজন জেলা পর্যায়ে ছিলেন না। যেহেতু এরকম ঘটনার কোনো পূর্বাভাস সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ছিল না তাই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো সমন্বিত আগাম সশস্ত্র কিংবা মানসিক প্রস্তুতিও কারও ছিল না। এর অন্যতম কারণ বঙ্গবন্ধুকে বাঙালিদের কেউ হত্যা করতে পারে, সে ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর নিজের এবং সাধারণ মানুষের অবিশ্বাস।

প্রতিবাদ আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত এবং এ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার ও কারানির্যাতিত অনেকের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত ঘেঁটে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন হয়েছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম, বরগুনা ও কিশোরগঞ্জে।

দীর্ঘমেয়াদী সশস্ত্র আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন টাঙাইলের কাদের সিদ্দিকী ও চট্টগ্রামের মৌলভি সৈয়দ আহমদ, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী (প্রয়াত সিটি মেয়র), এসএম ইউসূফ ও তাদের অনুসারীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে মিছিল সমাবেশ, দেয়াল লিখন ও পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, বাকশালভুক্ত ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া, শেরপুর, পাবনা, ভৈরব, মুক্তাগাছায় প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত হয়েছে।

অন্যদিকে ১৯৭৭ সাল থেকে কবি-সাহিত্যিকেরা এগিয়ে আসেন তাদের প্রতিবাদী ছড়া-কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সংকলন প্রকাশের মাধ্যমে।

চট্টগ্রামের তৎকালীন ছাত্র-যুব নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মৌলভি সৈয়দ আহমদ, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী (প্রয়াত সিটি মেয়র) ও এসএম ইউসূফ তাদের অনুসারীদের সংগঠিত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধমূলক নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও যুবনেতা ইনামুল হক দানু, শিশির দত্ত, গোলাম রব্বান, শামসুদ্দিন আহমদ, এম এ জাফর, এম এ মান্নান, মোহাম্মদ ইউনুছ, শফর আলী, সুলতানুল কবির চৌধুরী, রেজাউল করিম চৌধুরী, জসীম উদ্দিন খান, সৈয়দ মাহমুদুল হক, জামাল আহমদ ওরফে ফকির জামাল, অমল মিত্র, আবু সাঈদ সরদার, কাজী আবু তৈয়ব, আকম শামশুজ্জামান, আনোয়ারুল আজিম, রফিকুল ইসলাম, খোকন নন্দী, চন্দন লালা, চৌধুরী মাহবুবুর রহমানসহ আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্র-যুব নেতা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

কেন্দ্র থেকে তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন দেন সাজেদা চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, এসএ মালেক, ওবায়দুল কাদের, বাহলুল মজনু চুন্নু, খ ম জাহাঙ্গীরসহ আরও কিছু যুব ও ছাত্রনেতা।

চট্টগ্রামে সিরাজুল হক মিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এম এ মান্নান প্রমুখ নেতার সঙ্গেও প্রতিবাদকারীদের নানাভাবে যোগাযোগ ও মতবিনিময় হতো বলে জানা গেছে। 

তবে প্রতিবাদীদের রণকৌশলে কিছুটা ভিন্নতা ছিল বলে জানা যায়। কারও কারও লক্ষ্য ছিল, হত্যাকারী ও তাদের মদতদাতা সামরিক কর্র্র্তৃপক্ষকে সশস্ত্র উপায়ে হটিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত অনুসারী নেতাদের নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাসম্পন্ন শক্তিকে ক্ষমতায় পুনর্প্রতিষ্ঠা করা। আর কারও কারও লক্ষ্য ছিল গোপনে সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, দেয়াল লিখন ইত্যাদির মাধ্যমে জনমত সৃষ্টি করা- যাতে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা জনমনে জাগিয়ে রেখে দলকে পুনরায় সংগঠিত করে ক্ষমতায় পুনর্প্রতিষ্ঠা করা। এমনকি মৌলভি সৈয়দ কমান্ডো গ্রুপ নিয়ে লিবিয়া গিয়ে সেখানে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হত্যার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছিলেন বলে তার সহযোগিরা জানিয়েছেন।

এজন্য প্রয়োজনে প্রতিবেশি দেশের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য আগরতলা, কলকাতা ও ত্রিপুরায়ও অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের অনেকে।

চট্টগ্রামের প্রতিরোধ ইতিহাস

ঘটনার প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে বিদ্রোহের সূচনা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়। ১৫ থেকে ১৭ অগাস্ট এম এ জাফরের চট্টগ্রামের গোলাপ সিংহ লেন ও ডা. ফয়েজ আহমদের নন্দন কাননের বাসায় পরপর দুটি বৈঠকে বিস্তারিত আলাপ হয়। কিন্তু প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে ডা. ফয়েজ সেদিন নিরস্ত্র অবস্থায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সম্মত না হওয়ায় উদ্যোগটি বাতিল হয়।

তার মত ছিল, পর্যাপ্ত অস্ত্র ও জনবলসহ নিজেদের ক্ষমতা ও সামর্থ্যরে বাইরে কিছু করতে যাওয়া ঠিক হবে না। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ১৫-২০ জনের একটি মিছিল বের করা হয়।

স্লোগানসহ মিছিলটি রিয়াজউদ্দিন বাজার আমতল এলাকায় গেলে পুলিশি আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছাত্র-যুব নেতাকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি মিছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে বের হয়ে আন্দরকিল্লা এলাকায় এলে পুলিশি আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় (মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ)।

আন্দোলনের কৌশল নিয়ে বিভিন্ন সময় বৈঠক হয় শেখ মুজিব রোড ভাণ্ডার মার্কেটের পেছনে বাকশাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্মসম্পাদক মৌলভি সৈয়দ আহমদের আস্তানায়, ধলঘাট পূর্ণেন্দু কানুনগোর বাড়িতে, রেজাউল করিম চৌধুরীর (বর্তমানে নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনীত) বহরদার হাটের বাড়ি, ফিরিঙ্গীবাজার এলাকার একটি বাঁশের দোকান, চন্দনপুরা গুল-এজার বেগম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে গোলাম রব্বানের বাসা, দামপাড়া এম এ মান্নান ও জহুর আহমদ চৌধুরীর বাসা (দুজনই প্রাক্তন মন্ত্রী), জামাল আহমদের (ফকির জামাল) বাকলিয়ার বাড়ি, পটিয়ার খায়ের আহমদের বাড়ি ও খরণা নূরুল আবছারের বাড়িসহ আরও কয়েক স্থানে। কিন্তু সামরিক বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে প্রকাশ্যে কিছু করা সম্ভব হয়নি।

পটিয়া, ধলঘাট, কেলিশহর বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়। পটিয়া এলাকায় রাতের বেলায় এরকম পোস্টারিংয়ে অন্যদের সঙ্গে এ লেখক ছিলেন অংশীজন ও সাক্ষী। সরকার বিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম থেকে বেশ কজন মুক্তিযোদ্ধা যুব ও ছাত্রনেতা ত্রিপুরা ও আগরতলা গেলেও পরবর্তী সময়ে সেখানকার কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে তাঁরা ফিরে আসতে বাধ্য হন। অনেকে অনাকাক্সিক্ষতভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পুশব্যাকের শিকার হয়ে গ্রেপ্তার ও অমানবিক নির্যাতন ভোগ করেন। এরকম নির্যাতনের শিকার হয়ে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা মৌলভি সৈয়দ।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দিন থেকেই সামরিক সরকার এ ধরনের প্রতিবাদ প্রক্রিয়া যে ঘটবে তা আঁচ করতে পেরে দেশব্যাপী নেতা-কর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্যাতন শুরু করে। তারা গ্রেপ্তার ও পলাতকদের কারও কারও বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলা’-১, ২, ও ৩ নামে মামলা দায়ের করে এবং ভারতের সহযোগিতায় সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছে মর্মে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর চাপ দেয়।

ইতিমধ্যে সামরিক সরকার অধ্যাপক পুলিন দে, আতাউর রহমান কায়সার, মানিক চৌধুরী, সুলতানুল কবির, এম এ মান্নান, এহছানুল হক চৌধুরী বাবুলসহ চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আরও অনেক নেতা কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। অনেককে গ্রেপ্তার এড়িয়ে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত হুলিয়া মাথায় করে এখানে সেখানে আত্মগোপনে থেকে দুঃসহ জীবন কাটাতে হয়েছে।

লিবিয়া গিয়ে খুনিদের হত্যা করতে চেয়েছিলেন মৌলভি সৈয়দ

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের অন্যতম সৈনিক মৌলভি সৈয়দ আহমদের খালাতো ভাই আগ্রাবাদ বঙ্গবন্ধু সড়কের বাসিন্দা সৈয়দ মাহমুদুল হক ছাত্রজীবন থেকে মৌলভি সৈয়দের সান্নিধ্যে ছিলেন। তার মেজ ভাই সৈয়দ আবদুল গণিও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

সৈয়দ মাহমুদুল হক ১৯৭২ সালে আগ্রাবাদ জিআরকে উচ্চবিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী এবং মৌলভি সৈয়দের সহযোগী হিসেবে ১৯৭৬ সালের ৭ নভেম্বর নিজ বাড়ির আঙিনায় অবস্থিত ভান্ডার মার্কেট থেকে গ্রেপ্তার হন এবং অবর্ণনীয় নির্যাতন ও প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করার পর ১৯৮০ সালের ৩১ মার্চ মুক্তি পান। 

তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রাম শহর গেরিলাবাহিনী প্রধান (মতান্তরে উপ-প্রধান) মৌলভি সৈয়দ আহমদ স্বাধীনতার আগে ছিলেন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সভাপতি (সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী)। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে (১৯৭২-৭৩ সালে) আওয়ামী যুবলীগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি এবং ১৯৭৫ সালে বাকশাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্মসম্পাদক হন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনির ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সময় তিনি ছিলেন ঢাকায়।

সেখানে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিশোধের আগুন বুকে নিয়ে দুইদিন আত্মগোপনে থেকে তিনি চট্টগ্রামে এসে ‘ভান্ডার মার্কেট’-সংলগ্ন তাঁর খালু সৈয়দ আবু সিদ্দিকের বাড়িতে উঠেন (সৈয়দ মাহমুদুল হকের পৈতৃক বাড়ি)।

বাড়ির ছাদের ওপর থাকা একটি বেড়ার ঘরকে গোপন আস্তানা বানিয়ে তৎকালীন সমমনা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে খুনি মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রস্তুতি নেন।

সিদ্ধান্ত হয় ৭ নভেম্বর থেকে সশস্ত্র প্রতিরোধ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে তাঁর তৎপরতার কথা জানাজানি হলে তিনি অন্য এক গোপন জায়গায় গিয়ে তৎপরতা শুরু করেন।

১৯৭৬ সালের মার্চ মাসে তিনি এবং এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সহযোগীদের নিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়ে প্রতিরোধ সংগঠনের জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ মাহমুদুল হকও।

সেখান থেকে মাহমুদুল হকসহ অনেকে দেশে ফিরে প্রতিরোধ আন্দোলনে যুক্ত হন। এরই মধ্যে মৌলভি সৈয়দ একাধিকবার ভারতে আসা-যাওয়া করেন। ৭৬ সালের শেষের দিকে শেষবার ভারতে যাওয়ার পর তার আর দেশে ফেরা হয়নি।

সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, “আমরা জানতে পারি ১৯৭৭ সালে জুলাই মাসে ভারতে মোরারাজী দেশাই সরকার ক্ষমতায় এলে তারা তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের কোনো রকম সহযোগিতা দিতে অস্বীকার করে। সমঝোতা অনুযায়ী ১৯৭৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে মৌলভি সৈয়দসহ তার সহযোগীদের ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। কথা ছিল পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সরকার জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে বসবাসের সুযোগ করে দেবে। কিন্তু সরকার কথা রাখেনি।”

“দেশে ঢোকার পর প্রথমে মৌলভি সৈয়দকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিকটস্থ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পে রাখা হয়। তারপর তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এরকম আরও অনেককে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে।”

“ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নেওয়ার পর মৌলভি সৈয়দের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। তখনো তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি। এক পর্যায়ে তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী থেকে তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে ঢাকায় নিয়ে কৌশলে পুত্র সৈয়দকে সনাক্ত করা হয়। ১৯৭৭ সালের ১১ আগস্ট এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর লাশ বাঁশখালীতে নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন করে কয়েক দিন পাহারা দিয়ে রাখা হয়। এভাবেই বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম প্রতিবাদকারী নিজের রক্ত দিয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রমাণ রেখে গেছেন।”

গ্রেপ্তার ও নির্যাতন চিত্র

নিজের গ্রেপ্তার হওয়ার প্রক্ষাপট ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, “১৯৭৬ সালের ৫ নভেম্বর মৌলভি সৈয়দের গ্রুপ নগরের নিউ মার্কেট, দামপাড়া পুলিশ লাইন ও ঈদগাহসহ চার জায়গায় গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। আমার দায়িত্ব ছিল মুসলিম হাই স্কুল চত্ত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে নিউ মার্কেটের বিস্ফোরণ হয়েছে কি না পর্যবেক্ষণ করে মৌলভি সৈয়দকে জানানো। সকাল বেলা বিস্ফোরণের পর আমি যথাসময়ে তাকে খবর পৌঁছাই। সামরিক কর্তৃপক্ষ  মৌলভি সৈয়দের কর্মকাণ্ডের খবর জানতে পেরে ৭ নভেম্বর সকালে আগ্রাবাদ কর্ণফুলি মার্কেট ঘেরাও করে শাপলা টেইলার্স থেকে আমার মেঝো ভাই মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল গণিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকেসহ দোকানের এক কর্মচারীকে নিয়ে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ভান্ডার মার্কেটসংলগ্ন মৌলভি সৈয়দের গোপন আস্তানা তথা আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে মৌলভি সৈয়দের সহযোগী হিসেবে আমার বাবা সৈয়দ আবু সিদ্দিক ও আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই সঙ্গে ঈদগাহের মৌলভি সৈয়দের মালিকানাধীন দীপালী সাইকেল স্টোর থেকে সৈয়দ মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া,  আমার জানা মতে, একের পর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে জামাল আহমদ, অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন হারুন, দীপেশ চৌধুরী, মো. ইউনুছ, অ্যাডভোকেট শ্যামল প্রসাদ সেন, সুভাষ আচার্য, শফিকুল ইসলামসহ অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কারও কারও বিরুদ্ধে ‘চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলা’ শিরোনামে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা শুরু হয় বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালে। এই মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন মৌলভি সৈয়দ, ২ নম্বর আসামি ছিলেন প্রয়াত সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও ৩ নম্বর আসামি ছিলেন হাটহাজারীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুস।

মাহমুদুল হক বলেন, “আমাদের গ্রেপ্তার করে মেজর রবের নেতৃত্বে একদল সৈন্য। গ্রেপ্তারের পর প্রথমে আমাদের ডবলমুরিং থানায় নিয়ে মৌলভি সৈয়দ সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্ন করা হয়।”

“থানা থেকে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন স্টুডিও ঘুরে সন্ধান করা হয় মৌলভি সৈয়দের ছবি। সৈনিকদের একজন সুবেদার অলিউল্লাহ মৌলভি সৈয়দের কথা জিজ্ঞেস করতে করতে আমার বাবাকে মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি বাবার দাঁড়ি ধরে টানাহেচড়া করলে আমি প্রতিবাদ করি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকেও বেদম প্রহার করেন। এক পর্যায়ে থানা থেকে চোখ বেঁধে আমাদের ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৭-৮ দিন রেখে প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা করে টর্চার সেলে ঢুকিয়ে এমন নির্যাতন করা হয়, যা মনে পড়লে এখনো শরীর শিহরে ওঠে। নির্যাতনের মধ্যে ছিল, দুহাত-দুপা উপর দিকে করে রশি দিয়ে বেঁধে প্রহার, কানের লতি ও পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুলে বৈদ্যুতিক তার বেঁধে শক দেওয়া, মোটা তার দিয়ে প্রহার, মেঝেতে ফেলে রোলার দিয়ে পায়ের তালুতে আঘাত করা ইত্যাদি। অন্যান্য জায়গা থেকেও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী অনেককে ধরে আনা হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টে। একইভাবে নির্যাতন করা হয় তাদের ওপরও। অবশ্য প্রত্যেককে রাখা হয়েছিল আলাদা সেলে।”

“কয়েকদিন পর আমাদের কোতোয়ালী থানায় এনে একদিন রেখে মামলার প্রস্তুতি শেষ করে পাঠানো হয় কারাগারে। কারাগারে গিয়ে দেখি, আতাউর রহমান খান কায়সার, অধ্যাপক পুলিন দে, এম এ মান্নান, গোলাম রাব্বান, আনোয়ারুল আজিম, ইনামুল হক দানুসহ আরও অনেককে। সবার নাম এখন মনে পড়ছে না। অধ্যাপক পুলিন দে (পরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য) আমাদের পরম স্নেহে আদর করে নিজ হাতে গোসল করিয়ে দেন।”

“পরে জেনেছি, আমাদের গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তা মেজর রব আমার পাগলপ্রায় মাকেও চরম অপমান করেছেন। আমাদের ধরে নেওয়ার পর আমার মা রেজোয়ানা বেগম আমাদের ছাড়িয়ে আনার জন্য নানা জনের কাছে ছুটে যান। এক পর্যায়ে লালদিঘির পার এলাকার ফজল আহমদ নামের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মেজর রবের বাসায় গিয়ে তার পা ধরে অনুনয় করে কেঁদে ওঠেন  আমার মা। কিন্তু এতে পাষণ্ড রবের মনতো গলেনি, বরং আমার মাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন।”

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলায়’ গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিদের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চোখ বেঁধে ঢাকার তেজগাঁও বিমান বন্দরের কাছে কোনও এক আন্ডারগ্রাউন্ড জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে আগের মতো দফায় দফায় প্রশ্ন ও নির্যাতন চালানো হয়। সেখানে অ্যাডভোকেট শ্যামল প্রসাদ সেনের পুরুষাঙ্গ ও কানের লতিতে শক দেওয়া হয়।”

“এক পর্যায়ে সবাইকে বলা হয় জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবিত নতুন দলে যোগ দিতে। এতে রাজি না হলে অভিযুক্তরা ভারতের সহায়তায় রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত উল্লেখ করে একটি সাদা কাগজে সই দিতে বাধ্য করা হয় এবং বিটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ উল্লেখ করে প্রচার করা হয়।”

নির্যাতনের শিকার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমদ জানান, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় ৭৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে তাকে পটিয়া ক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দিন তিনিসহ ছাত্র ও যুবলীগের অনেকে ঢাকা ছিলেন। তাঁরা দ্রুত চট্টগ্রাম এসে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করা এবং হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রতিক্রিয়ায় এম এ জাফর, চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, কাজী আবু তৈয়ব, মোহাম্মদ আলী, আবুল বশরসহ অনেকেই ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর শামসুদ্দিনকে বলা হয়, তারা নাকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দেশ স্বাধীন করেছেন।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে তাঁরা কী কী পরিকল্পনা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে কারা কারা ভারতে গেছেন, তাঁদের কাছে কী ধরণের অস্ত্র আছে ইত্যাদি। প্রশ্নকারীদের কথামতো স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য রিমাণ্ডে নিয়ে শরীরের ওপর ভারি লোহার রোলার দিয়ে পিঠ থেকে পা পর্যন্ত চাপ দিয়ে মাংস থেঁতলে দেওয়া হয়। দুপায়ের বুড়ো আঙ্গুল বেঁধে পায়ের তালুতে আঘাত করতে করতে ওদের লাঠি ভেঙেছে, তবুও ক্ষান্ত হয়নি। আঙ্গুলের ভেতর সূঁচ ঢুকিয়ে এমন খোঁচা দিত, যাতে মনে হতো, এই বুঝি প্রাণ বের হয়ে যাবে। প্রশ্রাব করতে দিত নারকেলের খোসায়। সঙ্গে অকথ্য ভাষায় দিত গালাগাল। তখনকার জেলা প্রশাসক ওমর ফারুক যাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করতেন তাঁদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ছিল বেশি। নির্যাতনের ব্যথা এখনো উঠে মাঝে মধ্যে। এতে ঘুম হয় না। মাথায় ও হাড়ে অস্থিরতা দেখা দেয়।

পঁচাত্তর পরবর্তী প্রায় পাঁচ বছর মাথায় হুলিয়া নিয়ে আত্মগোপনে থাকা প্রাক্তন ছাত্র, যুব ও কৃষক লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু তৈয়ব বলেন, “তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৭ অগাস্ট সকালে চট্টগ্রাম ফিরে আসার আগে এম এ জাফর, চৌধুরী মাহবুবুর রহমানসহ আরও কিছু নেতা-কর্মী রেডিওর চট্টগ্রাম কেন্দ্র দখল করতে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।”

চৌধুরী মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি এম এ জাফর ও বোয়লখালীর এম এ মান্নানসহ কয়েকজন ডাক্তার ফয়েজ আহমদের কাছে গিয়ে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র  দখল করার প্রস্তাব দিলে ডাক্তার ফয়েজ ‘হুজুগের বশে’ এ কাজ ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন।

পরে ঢাকার সাথে কথা বলতে চাইলে তার ফোন নষ্ট থাকায় রাগের মাথায় আছাড় মেরে ফোন সেট ভেঙে ফেলেন চৌধুরী মাহবুব।

তিনি জানান, তারা পরিচিত সেনা সদস্যের সঙ্গেও আলাপ করেছিলেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাড়া না পাওয়ার বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।    

প্রতিবাদ আন্দোলনে যুক্ত অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৭ অগাস্ট থেকে কয়েকজন এম এ জাফরের নন্দনকানন গোলাপ শাহ লেনের বাসা থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তারা দিনের বেলা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে রাতের বেলা জাফরের বাসায় যোগাযোগ ও পরামর্শ করতেন কী করা যায়। সারা দেশে ধরপাকড় আর নজরদারির কারণে অনেকে এক জায়গায় আসতে বা বসতেও পারছিলেন না।

সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে পটিয়া ক্লাবের সামনে থেকে  শামসুদ্দিন আহমদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর একে একে পটিয়ার মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ, কমান্ডার আহমদ নবী প্রমুখ  গ্রেপ্তার হন। আগস্টের শেষের দিকে তৎকালীন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি (বর্তমানে নগর আওয়ামী লীগ নেতা) রেজাউল করিম চৌধুরীর বহদ্দার হাটের বাড়িতে বৈঠক হয়। এতে তৈয়বসহ উত্তর জেলার মাঈনুদ্দিন, বোয়ালখালীর মান্নান, আনোয়ারুল আজিম, গোলাম রব্বান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে এস এম ইউসুফও এতে হাজির হন। তখন তার ছদ্মনাম ছিল ‘শামীম ভাই’।

তার নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন থানা এলাকার সহযোগীদের নিয়ে সেপ্টেম্বরের মামামাঝি সময়ে ফিরিঙ্গিবাজার কর্ণফুলি নদীর পাড়ের একটি বাঁশের দোকানে বৈঠক করেন। এতে এস এম ইউসুফও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদী বক্তব্য সংবলিত, প্রচারপত্র বিলি এবং দেয়ালে চিকা মারার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। অক্টোবরের প্রথম দিকে ঢাকা থেকে এস এম ইউসুফের একটি চিঠি পেয়ে একটি দল জরুরি বৈঠকে বসে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারতে  যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই বৈঠকে তৈয়ব ছাড়াও জসীম উদ্দিন খান (সাবেক জিপি), আনোয়ারুল আজিম, গোলাম রব্বান, খালেকুজ্জামান (সিটি কলেজের সাবেক ভিপি), গৈড়লার চন্দন লালা, ফটিকছড়ির মো. রফিক, রাঙামাটির রহুল আমিন, কুষ্টিয়ার আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজী আবু তৈয়ব, চন্দন লালা, রফিক, রুহুল আমিন ও অন্য একজন ফটিকছড়ি ও রামগড় হয়ে সাবব্র“ম বিএসএফ ক্যাম্পে যান। তবে সেখানে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। পরে সবাই ফিরে আসতে বাধ্য হন। অক্টোবরে গোলাম রব্বান চন্দনপুরা গুল-এজার বেগম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে একটি বাসা নেন। আনোয়ারুল আজিম, জসীম খান, রুহুল আমিন, কামালউদ্দিন (কক্সবাজার), আ ক ম শামসুজ্জামান, মান্নান, এসএম সেলিম (বোয়ালখালী), রেজাউল করিম চৌধুরী প্রমুখের উপস্থিতিতে ওই বাসায় এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রলীগের কর্মীদের দিয়ে প্রতিবাদী লিফলেট ও পোস্টার তৈরি করা হয়। পটিয়া, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলা এসব লিফলেট ও পোস্টার লাগানো হয়। চিকাও মারা হয় অনেক জায়গায়। পোস্টার ও চিকার ভাষা ছিল, ‘এক মুজিব লোকান্তরে-লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে’, ‘মুজিব হত্যার পরিণাম-বাংলা হবে ভিয়েতনাম’ ইত্যাদি।

এছাড়া কেলিশহরে কমিউনিস্ট নেতা পূর্ণেন্দু কানুনগোর বাড়িতেও বৈঠক হয়। এতে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা প্রয়াত হরিসাধন দেব বর্মণ।

আবু তৈয়ব জানান, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির লোকজনও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে কিছু করার চিন্তা করছিলেন। মিরসরাইয়ের ডা. রায়হানের নন্দনকানন গোলাপ সিং লেনের বাসায় ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টিসহ এক যৌথ বৈঠকে প্রতিবাদী কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানানো হয়। ৭৫ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত হুলিয়া মাথায় করে এখানে সেখানে আত্মগোপনে থেকে দুঃসহ জীবন কাটাতে হয়েছে কাজী আবু তৈয়বসহ আরও কয়েকজনকে।

বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ও দালাল হত্যা

প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা হাটহাজারীর মোহাম্মদ ইউনূস ছিলেন চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলার ৩ নম্বর আসামি। তিনি মৌলভি সৈয়দ, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও এসএম ইউসূফের নেতৃত্বে বিদ্রোহ প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, “আমরা একাধিক স্থানে গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহরের স্টেডিয়াম আনসার ক্যাম্প, চট্টেশ্বরী রোডের কাবুলি খালেকের বিল্ডিংয়ে অবস্থিত রেলওয়ে রিজার্ভ পুলিশের ব্যারাক, নিউ মার্কেট ও নতুনপাড়া এমপি পোস্টের কাছেসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং ঝটিকা মিছিলের দাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে নিজেদের সক্রিয় থাকার বিষয়টি জানান দিচ্ছিলাম।”

“মুসলিম লীগের দালালসহ সরকারের দালাল হিসেবে সন্দেহভাজন কিছু লোককে চিহ্নিত করে হত্যাও করা হয়। ইতিমধ্যে সামরিক সরকারও চারদিকে ধরপাকড় ও নির্যাতন শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যে ইসহাক মন্টু, আবু জাফর মো. মহসীন, জাফর কন্ট্রাকটর, তার ভাই নাসির, ছালেহ আহমদ লালু, শেখ মো. আইউব বাঙালি, নুরুল আলম চৌধুরী (সাবেক এমপি), আবদুল ওয়াহাব, ওয়াহিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে গ্রেপ্তার হন। আমি গ্রেপ্তার হই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বের হওয়ার সময়। আমাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নয় দিন, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে তিন দিন ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে ২৮ দিন আটক রেখে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ১৯৮০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত  কার ভোগ করার পর পয়লা এপ্রিল মুক্তি পাই। ”

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের একজন পশ্চিম পটিয়ার (বর্তমান কর্ণফুলি থানার) বাসিন্দা সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন খান ১৯৭৬ সালের নভেম্বরে গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৭৭ সালের শেষের দিকে জামিনে মুক্ত হন।

জসিম উদ্দিন খান বলেন, “১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সবাই ছিলেন আতঙ্কে দিশাহারা অবস্থায়। আমাদের মতো তরুণ-যুবকেরা প্রতিবাদ-প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বড়দের অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ হবে, অদূরদর্শী হবে ইত্যাদি বলে পাশ কাটানোর চেষ্টা করে। তবে চট্টগ্রামে আমরা আবু ছালেহ, এমএ মান্নান, সিরাজুল হক মিয়া, আখতারুজ্জামান বাবু ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজন নেতার সাহায্য ও পরামর্শ পেয়েছিলাম।”

“১৫ অগাস্টের পর এসএম ইউসূফ ভাইয়ের সঙ্গে খ ম জাহাঙ্গীর, ওবায়দুল কাদের, বাহলুল মজনু চুন্নুদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। ৩ নভেম্বরের আগে ইউসূফ ভাইয়ের নির্দেশে আমি ঢাকা যাই এবং এক সপ্তাহ থাকি। শেষের দিন অমর বাংলা পত্রিকার সম্পাদকের বাসায় নিয়ে সেখান থেকে কাদের ভাই ওবায়দুল কাদের এক বান্ডিল লিফলেট দিয়ে আমাকে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেন।”

“লিফলেটগুলো বিভিন্নস্থানে বিলির ব্যবস্থা করি আমরা। ঢাকা থেকে আসার পর আমরা আইনজীবীদের পক্ষ থেকে মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের মাঠে অরাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ৭৬ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি শহীদ দিবস পালন করি। আমাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহমদ (পরবর্তী সময়ে বিচারপতি ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান), অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কবির, শিল্পী কামরুল হাসান। অধ্যাপক আবুল ফজলের সাথে পরামর্শক্রমে অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটিতে উমরতুল ফজলকে চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক হাসনাত আবদুল হাইকে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে আমরা প্রকাশ্যে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিলাম।”

“জহুর আহমদ চৌধুরীর কবরে মিলাদুন্নবী (স:) আয়োজনের মধ্য দিয়েও আমরা সমনারা একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলাম। সিরাজুল হক মিয়া এতে চাল-ডাল দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। ইতিমধ্যে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের লক্ষ্য স্থির হয়, আন্দোলনের ফাঁকে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও চেইন অব কমান্ড ঠিক করতে হবে।”

“জহুর আহমদ চৌধুরীর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে গ্রেপ্তার করে মেজর রব নামে এক সামরিক কর্মকর্তা ও তার দল। আমাকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে আমার মেহেদীবাগের বাসায় নিয়ে বাসার দেয়ালে টাঙানো বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় মেজর রব। আমি অস্বীকার করলে আমাকে জোরে থাপ্পড় মারে। পরে সেই ছবিসহ আমাকে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাক্রমে থানার এক সিপাই ছবিটি থানার দেয়ালে টাঙিয়ে দেয়। এদিকে আমাকে জেলে প্রায় ১৮-১৯ দিন রেখে নির্যাতন করে-মান্নান ভাই বোমা বিস্ফোরণে নেতৃত্ব দেন আর বাবু ভাই ভারতে অবস্থানরত প্রতিবাদীদের জন্য টাকা পাঠান মর্মে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য। জেলে এক মাস রাখার পর  রেলে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। রেল থেকে নামিয়ে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নানা রকম হুমকি দেওয়া হয়। মেজর রব আমার কাছ থেকে একটি লিখিত স্টেটমেন্টে সই নেয়। ৭৭ সালের শেষ দিকে জামিনে মুক্তি পেলেও তখনকার সামরিক সরকারের নিষ্ঠুরতার কারণে আমরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারতাম না।”

মৌলভি সৈয়দের লিবিয়া গিয়ে খুনিদের হত্যার পরিকল্পনা

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারীদের অন্যতম সংস্কৃতি সংগঠক, পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক ও বর্তমানে বিটার (বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব থিয়েটার আর্টস) প্রধান নির্বাহী শিশির রঞ্জন দত্ত। শিশির দত্ত নামেই তিনি পরিচিত। তিনি বলেন,  “মৌলভি সৈয়দকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের রূপকার বলা যায়। বাস্তবতা বিবেচনা করে তিনি ভারতে গিয়ে সেখানকার সরকারের সহায়তায় বৃহত্তর আঙ্গিকে প্রতিরোধ সংগঠনের লক্ষ্যে আমিসহ কয়েকজন বিশ্বস্ত সহকর্মী নিয়ে ১৯৭৫ সালের নভেম্বরেই ভারতের আগরতলা যান। সেখান থেকে তিনি আমাকেসহ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর কাছে গিয়ে তার সাথে কথা বলেন। দেশের ভেতর থেকে পাকিস্তানপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগঠন ছাড়াও তার অন্য একটা গোপন লক্ষ্য ছিল যা আমরা কয়েকজন ছাড়া অনেকেই জানতেন না।”

“সেটি হলো কয়েকজন অতি বিশ্বস্ত সহযোদ্ধার সমন্বয়ে কমান্ডো গ্রুপ তৈরি করে তাদের নিয়ে তিনি লিবিয়া যাবেন এবং সেখানে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হত্যার মাধ্যমে বদলা নেবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় কমান্ডো প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং অস্ত্র ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যাপারে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছিল।”

“আমাদের আর একটি পরিকল্পনা ছিল পঁচাত্তরের আগে মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম থেকে ‘আন্দোলন’ নামে যে পত্রিকাটি বের করতেন সেটি আগরতলা থেকে আবার বের করা। এটির দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে। আমাদের আশা ছিল, সে সময় ভারতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের পর চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। কিন্তু মোরারজী দেশাইর সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে আমাদের পুশব্যাক করে। তার আগে মহিউদ্দিন চৌধুরী কলকাতায় চলে যান।”

“১৯৭৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাদের সিদ্দিকীর ক্যাম্প থেকে ময়মনসিংহর ওপারে ভারতের তুরা ও বাংলাদেশের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে আমাদের পুশব্যাক করার সময় মৌলভি সৈয়দের সঙ্গে আমিও ছিলাম। আমাদের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং প্রায় তিন মাস আটকে রাখা হয় আলাদাভাবে। সম্ভবত পরিকল্পনাকারী নেতা হিসেবে মৌলভি সৈয়দকে বেশি টার্গেট করা হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে শুনি তাঁকে ঢাকায় নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল। আমাকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় প্রতি সপ্তাহে হাজিরা দেওয়ার শর্তে জামিন দেওয়া হয়।”

লেখক: সম্পাদক-ইতিহাসের খসড়া, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাকর্মী। প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি।