চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন নওয়াজ শরীফ

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-19 15:03:25 BdST

bdnews24
একটি উড়োজাহাজের আসনে বসে আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড ভোগকারী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী থাকা এ মুসলিম লীগ নেতা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় জটিলতাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বেশকিছু সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শনিবার লাহোর হাইকোর্ট নওয়াজের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে পাকিস্তান সরকার সোমবার সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন যাওয়ার আবেদনে সাড়া দেয়।

জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার ২০ দিন পর মঙ্গলবার নওয়াজ লাহোর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে ডন নিউজ জানিয়েছে।

দুর্নীতির দায়ে সাত বছর কারাদণ্ড হয়েছে তার। 

বিবিসি লিখেছে, ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বর্তমান সরকার নওয়াজের মুক্তিতে রাজি ছিল না। সাত বছর দণ্ড পাওয়া কোনো রাজনীতিকের সাজাভোগের মেয়াদ এক বছরের কম হলে তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে চার কোটি ৪০ লাখ ডলারের জামিনপত্রে স্বাক্ষরের বিধানও করেছিল তারা।

শনিবার লাহোর হাইকোর্ট নওয়াজকে ওই জামিনপত্রে স্বাক্ষর করা ছাড়াই বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়।

গত মাসে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ ১৬ হাজারে নেমে এসেছিল বলে এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানিয়েছিলেন। সুস্থ মানুষের রক্তে প্লাটিলেটের স্বাভাবিক পরিমাণ দেড় লাখের কাছাকাছি থাকে।

৬৯ বছর বয়সী নওয়াজ হৃদযন্ত্রের সমস্যা, বহুমূত্ররোগ ও কিডনি সংক্রান্ত রোগেরও ‍ওষুধ নিচ্ছেন।

পাকিস্তানে উপযুক্ত সরঞ্জাম নেই জানিয়ে সরকারি-বেসরকারি উভয় মেডিকেল বোর্ডই সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়।

নওয়াজকে অত্যাধুনিক একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কাতারের দোহা হয়ে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে; ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং অপারেশন থিয়েটার আছে বলে নওয়াজের ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন।

১৯৯০ থেকে ১৯৯৩, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ এবং ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পাকিস্তানের সরকারপ্রধান থাকা নওয়াজ দেশটির অন্যতম ধনী শিল্পপতি।

ফাঁস হওয়া পানামা পেপার্সে লন্ডনে নওয়াজের পরিবারের মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলে তা নিয়ে তুলকালাম বেঁধে যায়।

২০১৮ সালে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন নওয়াজ, মেলে ১০ বছরের কারাদণ্ড। দুই মাসে পর আদালত ওই রায় স্থগিত করে দিলে মুক্তি মেলে মুসলিম লীগ-নওয়াজের এ নেতার।

সৌদি আরবের একটি স্টিল কারখানায় নওয়াজ পরিবারের দুর্নীতির অভিযোগের বিচারে ওই বছরের ডিসেম্বরেই সাত বছরের সাজা পান পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

নওয়াজ অবশ্য শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সামরিক বাহিনী তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসে ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

লন্ডন যাওয়ার আগে নওয়াজ চার সপ্তাহের মধ্যে কিংবা চিকিৎসকরা যখনই তাকে সুস্থ বলেন তখনই দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে রাজি হয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

এ সংক্রান্ত আদালতের এক নথিতে নওয়াজের ভাই শাহবাজ স্বাক্ষরও করেছেন।

“নওয়াজ শরিফ সুস্থ হওয়ার পরও বিদেশে অবস্থান করছেন, যদি কোনো সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এমন কোনো তথ্য হাজির হয়, তাহলে সেখানকার পাকিস্তান হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধি চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে ওই তথ্য যাচাই করতে পারবেন,” আদালতের নথিতে এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নওয়াজের সফরসঙ্গী হয়ে শাহবাজও ভাইয়ের সঙ্গে লন্ডন যাচ্ছেন।