অপহৃত আইনপ্রণেতাকে মুক্তি দিয়েছে মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা

  • নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-01-22 13:28:37 BdST

bdnews24
প্রশিক্ষণে আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যরা। ছবি: ট্রাইবাল অ্যাকশন গ্রুপ

দুই মাস জিম্মি রাখার পর এক আইনপ্রণেতাকে মুক্তি দিয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিদ্রোহীরা।

লড়াই কবলিত রাখাইনে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির এই পার্লামেন্ট সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী ও বিদ্রোহীরা জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ৩ নভেম্বর কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে নদীতে ভ্রমণ করার সময় আইনপ্রণেতা হাউয়ি টিনকে বহনকারী নৌকায় হামলা চালিয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির (এএ) বিদ্রোহীরা। ওই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়। বাকিদেরও ধরে নিয়ে যায় বিদ্রোহীরা, কিন্তু দ্রুতই তাদের মুক্তি দেয়।

চিন নৃগোষ্ঠীর সদস্য টিনের বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতার তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাচার করার অভিযোগ এনেছিল এএ।   

রাখাইনে আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত এএ-র প্রতি টিনকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছিল মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।

চিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের মুখপাত্র সালাই লিয়ান জানিয়েছেন, মুক্তি পাওয়ার পর হাউয়ি টিন এখন বাড়িতে আছেন। লড়াইয়ের মাঝে পড়ে যাওয়া চিন নৃগোষ্ঠীর অন্যান্য বেসামরিকদের দিকে লক্ষ্য রাখার জন্যও এএ-র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

“তারা দুপক্ষের মাঝে পড়ে গেছে আর উভয়পক্ষই, সেনাবাহিনী ও এএ, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে,” বলেছেন তিনি।

স্থানীয় নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে তারা হাউয়ি টিনকে মুক্তি দিয়েছে বলে এএ-র এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন। 

রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর চালানো নিষ্ঠুর দমনাভিযানের পর থেকে অঞ্চলটি অস্থিতিশীল হয়ে আছে। ২০১৭ সালের ওই দমনাভিযান চলাকালে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এএ-র প্রতিষ্ঠা ২০০৯ সালে হলেও অনেকদিন তাদের তৎপরতা সীমিত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু গত বছর চারটি পুলিশি থানায় হামলার মাধ্যমে তৎপরতা জোরদার করে তারা। 

রোহিঙ্গাদের নিয়ে অস্থিতিশীলতার মধ্যে রাজ্যটিতে বিদ্রোহীদের তৎপরতা জোরদার হওয়ায় দেশটির অং সাঙ সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।