কোভিড-১৯: ভারতে একদিনে শনাক্ত ২ লাখ ৭৩ হাজার, ১৬১৯ মৃত্যু

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-04-19 11:45:21 BdST

bdnews24

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল ভারতে একদিনে রেকর্ড দুই লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৬১৯ জনের; জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এই নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো দেশটিতে দুই লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হল।

এতে ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের মোট সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়ে এক কোটি ৫০ লাখ ৬১ হাজার ৮০৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডে দেখা গেছে। আক্রান্তের এ সংখ্যা নিয়ে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে দেশটি।

এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৯ মৃত্যু নিয়ে এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পর বিশ্বে চতুর্থ স্থানে আছে ভারত।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও কর্নাটকে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী বেড়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। 

মহারাষ্ট্রে ৬৮ হাজার ৬৩১ জন, দিল্লিতে ২৫ হাজার ৪৬২ জন এবং কর্নাটকে ১৯ হাজার ৬৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বেঙ্গালুরুতেও দৈনিক রোগী বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড হয়েছে, শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৭৯৩ জন। 

সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিহার, রাজস্থান, তালিম নাডু ও মনিপুর নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে।

বিহারে রাত ৯ থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউয়ের পাশাপাশি ১৫ মে পর্যন্ত বিপণিবিতান, স্কুল, সিনেমা হল ও ধর্মীয় প্রার্থনার স্থানগুলো বন্ধ থাকবে।

তামিল নাডুতে রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। এর পাশাপাশি সমুদ্র সৈকত, পার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে এবং আন্তঃরাজ্য বাস চলাচল সীমিত থাকবে।

রাজস্থানে সোমবার থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারির ঘোষণা আসছে বলে খবর গণমাধ্যমের।

কোভিড-১৯: ভারতে একদিনে ১৫০১ মৃত্যু, আড়াই লাখের বেশি শনাক্ত

কোভিড: দিল্লিতে হাসপাতাল শয্যা ও অক্সিজেনের জন্য হাহাকার  

মনিপুরে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজ্যটিতে বড় ধরনের জনসমাবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেশ কমে এসেছিল। ওই সময় দৈনিক শনাক্ত ২০ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু মার্চে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। এখন সংক্রমণ লাগামহীন হয়ে গেছে।

দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু যত বাড়ছে মোদী প্রশাসনের উপর চাপও তত বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতের এ চরম সংকট মোদী প্রশাসন যেভাবে অবহেলা করছে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

দেশটিতে যখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তখনও সেখানে নানা ধর্মীয় উৎসব আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব আয়োজনে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে লাখ লাখ মানুষ ভিড় করছেন।

অন্যদিকে চলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। যেখানে খোদ মোদী এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেরাই বড় বড় সমাবেশের আয়োজন করছেন। যেসব সমাবেশে ন্যূনতম স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে না।