১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

আ. লীগ এমপির বিরুদ্ধে জামায়াত প্রীতির অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-01-11 21:19:26 BdST

bdnews24

বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতন এবং জামায়াতে ইসলামীর লোকজনকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বরগুনার পাথরঘাটা থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বিলকিস আরা রানী বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তার দলের এমপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন।

বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য রানী বলেন, পাথরঘাট-বামনা-বেতাগী নিয়ে বরগুনা-২ আসনের সাংসদ রিমন ‘কখনও আওয়ামী লীগ করেননি’।

“তার বাবা খলিলুর রহমান ছিলেন একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তৎকালীন পটুয়াখালী মহকুমার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। ওই আসনের সাংসদ গোলাম সবুর টুলু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

“তখন রিমন একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ হন তিনি।”

শওকত হাচানুর রহমান রিমন

শওকত হাচানুর রহমান রিমন

এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ হন রিমন। বর্তমানে তিনি বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বলেও জানান বিলকিস আরা রানী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “রিমন এমপি হওয়ার পর বরগুনার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে জামায়াতের লোকজন বসিয়েছেন, আর প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানির মামলা দিয়েছেন।”

এই এলাকায় কখনও ‘প্রকৃত আওয়ামী লীগাররা’ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি মন্তব্য করে মহিলা আওয়ামী লীগের এই নেত্রী বলেন, “স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও এই এলাকার মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি। এখনও এই এলাকার মানুষ পরাধীনতার খাঁচায় বন্দি।”

এমপি রিমনের ‘হয়রানি-নিপীড়ন’ থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ চান তিনি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সাংসদ রিমন পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারীকে মারধর করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক দীর্ঘ দিন কর্মস্থলে না এসেও বেতন-ভাতা নেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ‌্যে তিনি অফিস সহকারী নুরুল ইসলামকে মারধর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন।

এই সাংসদের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রীতির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বেশ কয়েকবার তার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।