২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

বিএনপির ভয়; ইসির অভয়

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-07-15 18:35:12 BdST

নিজেদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দলীয় সদস্যপদ ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বিএনপি রাখলেও তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে ইসি আটকে দিতে পারে বলে ভয় পাচ্ছে দলটি।

রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, তাদের এরকম কোনো উদ্যোগ নেই।

সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, “সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কূটিল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

“তাদের মূল উদ্দেশ্য হল বিএনপি গঠনতন্ত্রে যে ধারা বিলুপ্ত করেছে, তার সঙ্গে মিল রেখে অনুরূপ একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্র তৈরি করা। এরপর ওই ধারার দোহাই দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া  ও তারেক রহমানকে দলের নেতৃত্ব থেকে সরানোর পদক্ষেপ নেবে তারা।”

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার জন্য কি আরপিও সংশোধন করা হবে বলে মনে করছেন- এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নে ফখরুল বলেন, “সেই আশঙ্কাই তো আমরা করছি।”

ফখরুলের এই সংবাদ সম্মেলনের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যোগাযোগ করলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আরপিও সংশোধনের কোনো উদ্যোগ এখন নেই।”

নির্বাচন ভবন

নির্বাচন ভবন

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারাটির সংশোধন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি বিষয়।

ওই ধারার একটি উপধারায় উল্লেখ ছিল- দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তি বিএনপির কমিটিতে সদস্য হতে কিংবা দল থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে পারবে না।

কিন্তু দুর্নীতির মামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের ঠিক আগ মুহূর্তে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্রের ওই ধারায় সংশোধন আনার কথা ইসিকে জানায়।

ওই সংশোধনের ফলে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত খালেদা কিংবা তারেকের দলীয় পদে এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বাধা কাটে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের এই সংশোধনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, এর মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার দল দুর্নীতির পক্ষে অবস্থান নিল। সংসদে বাজেট অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়টি ধরে বিএনপির সমালোচনা করেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, “তার বক্তব্য প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অসত্য, বানোয়াট অপপ্রচার। আমরা মনে করি এই বক্তব্য দুরভিসন্ধিমূলক ও সুদুরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ।”

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তন ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলেই হয়েছিল, যা ইসিতে জমা দেওয়া হয় পরে।

এর মধ্য দিয়ে বিএনপির ‘দুর্নীতিবিরোধী’ অবস্থানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

সমালোচনার জবাবে ফখরুল বলেন, “সর্বোচ্চ আদালত থেকে দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের সাজা পেয়েও আদালতকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে আওয়ামী অবৈধ সরকারের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এখনও সংসদে। মন্ত্রিসভা এবং আওয়ামী লীগে তার সদস্যপদ এখনও বহাল। মহীউদ্দীন খান আলমগীর এখনও তার সদস্যপদ বহাল রেখেছেন।

“এগুলোতে কোনো দোষ নেই, কোনো পাপ নেই, কোনো অন্যায়  নেই। একমাত্র ত্রুটি হচ্ছে বিএনপি ও তার নেত্রীকে একটি সাজানো মামলা সাজা আপনারা দিয়েছেন। সেজন্য তাকে কী করে রাজনীতি থেকে দূরে সরানো যাবে, সেই প্রক্রিয়ায় আপনারা নেমে পড়েছেন। ওয়ান-ইলেভেনে ষড়যন্ত্রটা ছিল মাইনাস টু থিওরি, এখন উনারা মাইনাস ওয়ান করার চেষ্টা করছেন।”

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে ‘ভাঙতে’ না পেরে এখন ভিন্ন কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যম ‘বিভ্রান্তিকর ও অলীক’ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

“আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। আমার কাছে সেই কাগজ আছে। এটা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার আগে একটি বিশেষ সংস্থা সাংবাদিক ভাইদের অনেককে ডেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই কাগজটি সরবরাহ করেছে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার আগেই আমরা সেই কপি পেয়েছি।”

“সরকারের কোনো অশুভ নীল-নকশার অংশ না হওয়ার জন্য আমি বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি,” বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুলের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, শামসুজ্জামান সুরুজ, আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।