পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মার্কা পেলেই আর ‘কিছু মানবেন না’ মান্নার কর্মীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-12-04 21:15:33 BdST

নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়ার শিবগঞ্জের বিএনপি নেতাদের নিয়ে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, তার নির্বাচনী কর্মীরা বাইরে বের হলেই পুলিশ ‘গ্রেপ্তার করছে’, তবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হলে তারা আর কোনো বাধা মানবেন না।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী এলাকা’ শিরোনামে তার এই সংবাদ সম্মেলনে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান মতিন এবং বগুড়া জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বাসেত উপস্থিত ছিলেন।

মতিনের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ তুলে মান্না অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় ‘বাধা সৃষ্টি করতেই’ ওই এলাকায় কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ মতিনের বিরুদ্ধে এই ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা দেওয়া হয়েছে।

তবে এই মামলা-হয়রানি করে নির্বাচনে তাদের জয় আটকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন মান্না।

তিনি বলেন, “আমরা এই নির্বাচনটাকে লড়াই মনে করছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াইটা করব। জনগণ সাথে আছে, আমরা জিতব আশা করি।”

২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আওয়ামী লীগের পদ হারানোর পর নাগরিক ঐক্য গড়ে তোলেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

এবার বিএনপিকে নিয়ে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সদস্য সচিবের দায়িত্বে আছেন তিনি। জোটসঙ্গী হিসেবে বিএনপির প্রত্যয়ন নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

এর আগে কয়েক দফায় আওয়ামী লীগের হয়ে বগুড়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মান্না এবার ভোটের লড়াইয়ে জয়ী হতে ভর করতে হচ্ছে তার আগের প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর। 

এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মান্না বলেন, “সব জায়গায় হয়ত একই রকম নেই, আমার এলাকা শিবগঞ্জে মাঠে জনগণ পাবেন। বগুড়ার বহু জায়গায় পাবেন। কিন্তু কোনো কোনো জায়গা আছে কর্মীরা ঢুকলে পুলিশ ধরে ফেলছে। আমরা এখন বিকল্প পদ্ধতি করছি, যেমনি হোক যাব, মানে এটা নয় যে, এই কারণে রাগ করে নির্বাচন ছেড়ে চলে যাব। যেটা সরকার চায়।

“আমরা যদি দিনে যেতে না পারি তাহলে রাতে যাব। আমরা যদি এই রাস্তা দিয়ে না যেতে পারি তাহলে অন্য রাস্তা দিয়ে যাব। কিন্তু যাব, তার মানে লড়াইটা ছাড়ছি না।”

প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে তখন বাধা দিয়ে কেউ আটকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

“আমার লোকাল নেতারা বলছেন, মার্কা বের হলে আর কোনো কিছু মানবেন না। আমার বক্তব্য না, কিন্তু এটাই হবে মার্কা বের হলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করার অনুমতি পাব, তখন বাধা দিয়ে আটকাতে পারবে না, সারা দেশেই, এটা আমাদের বিশ্বাস।”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করার’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করার স্বার্থে যে কোনো প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমর্থন সরকারের কাছে চাইলে সরকার সেটা দিতে বাধ্য থাকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সরকারের প্রতি কোনো রকম চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং সর্বোচ্চ চাপে রেখে একতরফা একটা নির্বাচন করার যে নীলনকশা ধরে সরকার এগিয়ে চলছে, অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে নির্বাচন কমিশন সেই নীল নকশা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করে যাচ্ছে।”

‘নীল নকশার’ অংশ হিসাবেই সারা দেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও গায়েবি’ মামলা দিয়ে ‘অসংখ্য মানুষকে’ গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ করে মান্না বলেন, “অনেককে গুম করা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারের তালিকায় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে।

“একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে হোটেল রুম থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার সংবাদও আমরা পেয়েছি। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো কথা বলছে না।”

তার বিরুদ্ধে ‘সাইবার প্রোপাগান্ডা’ চালানো হলেও নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, “ইলেকশন কমিশন তিন দিন আগে বলেছে- সাইবার প্রোপাগান্ডা হয়, নির্বাচনের কাজে যদি ক্ষতি করে তাহলে তারা বিশেষভাবে সতর্ক আছে, ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ‘সময় এখন ডটকম’ নামে একটি নিউজ পোর্টাল হেডিং করেছে-‘শিবগঞ্জে ২০০ ধারালো হাসুয়া আটক, ঢাবিতে লাশ ফেলতে চাওয়া মান্নাকে সন্দেহ’।

“পুলিশের কোনো রিপোর্টে এমন বলা হয়নি। গ্রেপ্তার করেছে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের। অন্যান্যদের নামে মামলা দিয়েছে, কিন্তু মামলায় আমার জড়িত থাকার বিষয় নেই। আমি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এই ব্যাপারে যেন পদক্ষেপ নেয়।”

লিখিত বক্তব্যে ঐক্যফ্রন্টের নেতা মান্না বলেন, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের একাকার হয়ে যাওয়া জনগণের মনে এই শঙ্কা তৈরি করছে যে, সরকার একটি নীল নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় থেকে যেতে চাইছে।”

মাঠে ‘শক্ত কর্মসূচি’ না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শক্ত কর্মসূচি বলতে আপনি বা আপনারা অনেকে যেমন করে বুঝবেন, সেটা সব সময় নাও হতে পারে। আপনার এক জায়গায় গিরাটাই দুর্বল রইলো তখন শক্ত করবেন কেমনে? আমাদের প্রার্থীর বিষয়টা তো সেটেল করতে হবে, সেটা সেটেল না করে রাস্তায় একটা কর্মসূচি দিলাম, তা ঠিকমত না হতে পারে। আমরা সেটেল করেই নামব।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।