২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কার চায় মিঠাপুকুর আ. লীগের একাংশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-02-20 20:29:18 BdST

bdnews24

জাতীয় নির্বাচনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ‘ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে’ কাজ করার অভিযোগ এনে তার বহিষ্কার দাবি করেছেন ওই শাখার সভাপতিসহ দলের একটি অংশ।

মিঠাপুকুর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক মিটু মিয়ার নেতৃত্বাধীন ওই অংশটি এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছে।

তবে জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ স্থানীয় এমপি এইচএন আশিকুর রহমানের ‘ছত্রছায়ায় থাকা নেতারা’ তার বিরুদ্ধে এসব ‘অপপ্রচার’ করছেন বলে জাকিরের দাবি।

গত ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো অভিযোগ বলা হয়, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ আসনে দলীয় প্রার্থী এইচ এন আশিকুর রহমান এমপির নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোনো দায়িত্ব পালন করেন নাই জাকির হোসেন। পক্ষান্তরে তার মামা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সোলায়মান আলমের পক্ষে তিনি নিজে এবং তার নিকট আত্মীয়-স্বজনরা ভোট করেছেন।”

ওই চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের পর মিঠাপুকুর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় জাকির হোসেনের ‘দলীয় গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ বিষয়ে আলোচনার হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ‘সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত’ হয়।

ওই চিঠির অনুলিপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এবং রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্নীতিরও অভিযোগ করেন সভাপতি মোজাম্মেল হক মিটু মিয়া।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “তিনি (জাকির হোসেন) গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাঁচবারের নির্বাচিত এমপির বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। প্রার্থী হতে না পেরে তিনি এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে কাজ করা শুরু করেন।”

সভাপতি মিটু মিয়ার অভিযোগ, সাধারণ সম্পাদক জাকির দলীয় কার্যক্রমে একেবারে অনিয়মিত। বর্তমান কমিটির ২২টি সভার মধ্যে ১৪টিতেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা কেউ তার পক্ষে নন।

এক মেয়াদ আগে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় জাকির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মিটু মিয়া।

গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থী কে তা চূড়ান্তই হয়েছে একেবারে শেষে, যখন নির্বাচনের প্রচার বন্ধ। তাহলে আমি কীভাবে তার পক্ষে প্রচার চালাব!”

তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনেও তার মামা সোলায়মান আলম নির্বাচন করেছেন। আর ওই নির্বাচনে তিনি নিজে ছিলেন আওয়ামী লীগের আশিকুর রহমানের নির্বাচনী এজেন্ট।

“আশিকুর রহমান সাহেব নায়বার নির্বাচন করেছেন। গত নির্বাচন বাদে সবগুলোতে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম আমি। আমার মামা জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে এসেছেন। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নাই।”

সভায় অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করলে জাকির বলেন, “মিঠাপুকুরে এমপি মহোদয় পকেট কমিটি বানিয়েছেন। সেই পকেট কমিটিকে কেন্দ্র ও জেলা অনুমোদন দেয়নি। কেন্দ্র ও জেলা অনুমোদিত কমিটিও তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। উনারা মিটিং করার কথা বলছেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক না ডাকলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সভাইতো হতে পারে না।”

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে। আগামী ২৪ মার্চ এ উপজেলায় ভোট করার তফসিল দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে হেরে যান জাকির। এবারের উপজেলা তিনি এবারও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। 

আবার মিটু মিয়া দাবি করেছেন, চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা কমিটি থেকে ‘সর্বসম্মতভাবে’ তার নামই জেলায় পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা কমিটির সভাপতি মিটু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জাকির ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  মোতাহার হোসেন মওলার নাম মনোনয়নের সুপারিশ হিসেবে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে জেলা কমিটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু বলেন, “তাদের মধ্যে বিরোধের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নাই। একটি চিঠির অনুলিপি আমার কাছেও এসেছে। আমরা জেলা কমিটি পরবর্তী সভায় এটা নিয়ে আলাপ করব।”

আর মিঠাপুকুর কমিটির একাংশের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সভাপতিসহ কয়েকজন অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা অভিযোগ পর্যালোচনা করছি। কোনো সিদ্ধান্ত নিলে জানানো হবে।”