জবাবদিহি নেই সরকারের, তাই সমাজে নৈরাজ্য: ফখরুল

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-07-20 23:49:01 BdST

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে জোর করে’ ক্ষমতায় বসে থাকায় এই সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই, আর সে কারণেই সমাজে ‘নৈরাজ্য সৃষ্টি’ হয়েছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণে নিরপেক্ষ সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: সুমন বাবু

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: সুমন বাবু

তিনি বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন তত্ত্বাবধান বাদ দিয়ে হজ তত্ত্বাবধান করতে যাচ্ছেন। মানে তিনি নির্বাচন তত্ত্বাবধানে ব্যর্থ হয়েছেন। এই নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে হবে।

“এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এই কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনে তো অতীতে কোনো সমস্যা হয়নি।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে কেয়ারটেকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তারা সম্পূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচনের উপর এখন আর মানুষের কোনো আস্থা নেই। উপজেলা নির্বাচনে ১৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের মানুষের কাছে যেতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার, বাঁচার অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীন থাকার অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই দুঃশাসনকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সুমন বাবু

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সুমন বাবু

দেশে ‘মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুটপাট’ চলছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “বাজেটের পর প্রত্যেক জিনিসের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। তারা ঢোল বাজাচ্ছে দেশে উন্নয়নের নহর বয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো লুটপাট করে শেষ, শেয়ার বাজারে ধস। এটা বড়লোকের বাজেট।”

“সরকার জনগণকে ভয় পায় বলে জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। ৭২ এ তারা ক্ষমতায় আসার পর একইভাবে বাকশাল গঠন করেছিল। তখনও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। আজও একই কায়দায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হত্যা, মামলা ও নিপীড়ন করা হচ্ছে।”

খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা’ মামলায় হয়রানির জন্য আটকে রাখা হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, “তিনি ঠিকমতো চলতে পারেন না। খেতে পারেন না। অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় আছে। চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থা করছে না।

“এটা জনগণের সরকার নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাই কোনো জবাবদিহি নেই। সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এটা অস্বাভাবিক সরকার। যেহেতু তারা নির্বাচিত নয়, অস্বাভাবিক তাই তাদের সব কিছুই অস্বাভাবিক।

“আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৫ হাজার মামলা, ৭০ লাখ আসামি। কিন্তু বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো। এদেশের মানুষের মন থেকে বিএনপিকে মুছে ফেলা যাবে না “

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: সুমন বাবু

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: সুমন বাবু

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হলে শেখ হাসিনার সরকার টিকবে না। অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তারা ক্ষমতা নিয়েছে। তাই গায়ের জোরে দেশ চালাচ্ছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “যারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথে বাধা হবে তাদের ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। যদি সরকারের পতন ঘটাতে পারি তাহলে উনি মুক্তি পাবেন।

“আমরা শেখ হাসিনার কাছে মুক্তি চাই কেন? যার মশা মারার মুরোদ নেই। কিন্তু আড়ালে-প্রকাশ্যে মানুষ মারে তার কাছে কেন মুক্তি চাই?”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া তাদের জন্য বিপদজনক। কারণ তিনি শেয়ার মার্কেট লুট করতে দেবেন না, ব্যাংক লুট করতে দেবেন না, বা-মা’র ইজ্জত লুট করতে দেবেন না।”

‘রাজনৈতিক চাপের’ কারণে চেষ্টা করেও খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ।

নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, মীর মো. নাছির উদ্দিন ও আবদুল আউয়াল মিন্টু।

নগর সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জয়নাল আবেদিন ফারুক, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, গোলাম আকবর খোন্দকার, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাহবুবুর রহমান শামীম, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, এ এম নাজিম উদ্দিন, আবু সুফিয়ান প্রমুখ।