২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

তাহলে উন্নয়নটা কোথায়, প্রশ্ন ফখরুলের

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-05 19:41:12 BdST

ডেঙ্গুর পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তাহীনতা, জীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরে সরকারে উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

“কোথায় উন্নয়ন? যেখানে আমি হাসপাতালে আমার রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারি না, যেখানে আমি মশক নিধনের জন্য ওষুধ আনতে পারি না, যেখানে আমি একটা নিরাপদ সড়ক তৈরি করতে পারি না, যেখানে মানুষের জীবনেরে কোনো নিরাপত্তা নেই, সেখানে উন্নয়ন কোত্থেকে?”

গত ১০ বছরের শাসনে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করাসহ অর্থনীতির নানা সূচকে অগ্রগতি দেখিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সোমবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে কে এম হেমায়েত উল্ল্যাহ আওরঙ্গের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর আরেকটি আলোচনা সভায় বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটা রাষ্ট্রে বাস করছি, যে রাষ্ট্রে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই। এই সরকার তাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য দুর্নীতি করছে। সেই দুর্নীতির টাকা দিয়ে বাইরে তারা বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছে।”

আইনজীবী শাহদীন মালিকের এক বক্তব্য উদ্ধৃত করে ফখরুল বলেন, “তিনি কয়েকদিন আগে বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিকের কোনো সুরক্ষা নেই। তার ওই বক্তব্যের উপর আজকে যুগান্তর পত্রিকায় একটি জরিপে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে শতকরা ৯৩ জন এই কথাকে সমর্থন করেছে।

“অর্থাৎ প্রত্যেকটি মানুষ মনে করছে, এ রাষ্ট্র নিরাপদ নয়। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, গলা কেটে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, প্রকাশ্যে দিবালোকে আদালতের ভেতরে খুন করা হচ্ছে। কোথায় রাষ্ট্র?”

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে খালেদা জিয়ার মুক্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

“কারণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছাড়া এসব সম্ভব না। সংসদে যারা যাবেন, তাদের জনগণের প্রতিনিধি হতে হবে। তা না হলে এই সুরক্ষা করা সম্ভব না, ডেঙ্গু নির্মূলও সম্ভব না, মানুষের নিরাপত্তা দেওয়াও সম্ভব না।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘নাকে তেল’

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানিয়ে এক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে দায়ী করেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল।

তিনি বলেন, “এখন সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে যে আমরা বাঁচব কি বাঁচব না, ডেঙ্গু আক্রান্ত হব কি হব না। আমাদের সাহেবরা যারা আমাদের মাথার উপর বসে ছড়ি দিয়ে দেশ চালাচ্ছেন, তারা তো বলছেন ‘ঠিক আছে, সব কিছু নিয়ন্ত্রণে আছে’।

“আজকে পত্রিকায় আছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৫ হাজার ৭৬০ জনের (আক্রান্ত হওয়ার)। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন। উনি তো জানেনই না, কতজন মারা গেছেন।

“আমাদের মেয়র দুজন প্রথমে বললেন গুজব। এখনও তারা যেসমস্ত কথা-বার্তা বলছেন, তাতে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এদের কোনো দায়িত্বশীলতা নেই। আসলে এদের কোনো লজ্জা নেই, শরম নেই। একথায় বলা যায় বেহায়া, বেশরম।”

ফখরুল বলেন, “সংসদে তো কোনো কিছুই নাই। ওখানে একটা তথাকথিত তাদের পছন্দমতো বিরোধী দল দাঁড় করিয়ে রেখেছে।”

আইনমন্ত্রী ‘মিথ্যাচারে’

জেনিভায় মানবাধিকার বিষয়ক সম্মেলনে গুমের কথা অস্বীকার করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘মিথ্যাচার’ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে জেনিভাতে মানবাধিকারের ওপরে একটা কনভেশন হয়েছে।  সেখানে বাংলাদেশ সরকারকে প্রায় ২০ বছর আগে বিভিন্ন সময়ে জবাবদিহিতা চেয়েছিল। এই সরকার ১০/১২ বছর দায়িত্বে আছে, তারা কোনো জবাবদিহি করেনি। ১০/১২ বছর পরে বাধ্য হয়ে মানবাধিকারের কমিটি নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশকে ডেকেছে, তাদের কাছে মানবাধিকারের প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছে এবং দেশে যে নির্যাতন হয়, সে সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য কী?

“অবলীলায় আমাদের আইনমন্ত্রী বলছেন, বাংলাদেশে কোনো গুম হয় না, কোনো গুমের কথা তাদের জানা নেই। অথচ পত্রিকায় ২/১ দিন ধরে আমরা দেখছি, একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক গুম হয়ে গেছেন। আমাদের এম ইলিয়াস আলী এমপি ছিলেন, চৌধুরী আলম কাউন্সিলর ছিলেন, পারভেজ এমপি ছিলেন, তারাও ৭/৮ বছর হয়ে গেছে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের প্রায় ৫শ’র উপর নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছে। আমরা এমন একটা রাষ্ট্রে বাস করছি, যে রাষ্ট্রে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই।”

নয়া পল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু বক্তব্য রাখেন।

প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ মো. আবু জাফর, জামাল শরীফ হিরু, শহীদুল ইসলাম বাবুল, হেলেন জেরিন খান, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, শাহজাহান মিয়া সম্রাট, এসএম জাহাঙ্গীর, কে এম আলমগীর ও প্রয়াত আওরঙ্গের স্ত্রী তাহমিনা আওরঙ্গ।