১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

গাজীপুরের সাবেক মেয়র করিমের বিএনপিতে যোগদান

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-17 15:04:17 BdST

বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন গাজীপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আবদুল করিম।

শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে খালেদা জিয়ার দলে যোগ দেন তিনি।

ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই যোগদান অনুষ্ঠানে করিমের সঙ্গে তার অনুসারী শতাধিক জনেরও বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এক সময়ের জাতীয় পার্টির নেতা করিম গাজীপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন। এরপর সিটি করপোরেশন হওয়ার পর নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির মহানগর শাখার সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকার এই যোগদান  অনুষ্ঠানে ছিলেন।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে করিম বলেন,  “দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, বিগত দিনে যে যে গণতন্ত্র ছিল, সেই গণতন্ত্রকে আবার পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আজকে আমি এই দলে যোগ দিয়েছি।

“আপনারা (বিএনপির নেতা-কর্মী) এই দুঃসময়ে দলকে যে ধরে রেখেছেন, তা কিসের জন্য? মানুষকে বাঁচানোর জন্য, দেশকে বাঁচানোর জন্য। এজন্য আমার পক্ষ থেকে আপনাদের অভিনন্দন জানাই।”

গাজীপুর কোতয়ালি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন ভুঁইয়ার পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতা সিরাজুল হক মোল্লা ও মাহবুব আলমও বক্তব্য রাখেন।

গাজীপুর মহানগর নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বসির উদ্দিন বাচ্চু, রাশেদুল ইসলাম কিরণ, জিয়াউল হাসান স্বপন, জাবেদ আহমেদ সুমন, আখতার হোসেন, বসির উদ্দিন, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, আবদুর রহিম খান কালা, সাইফুল ইসলাম টুটুল, আজিজুল হক রাজু মাস্টার, মনিরুল ইসলাম বাবুল, ফারুক হোসেন খান, আবদুল হালিম, হারুন-অর রশিদ, তাইজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম বাবুল।

অনুষ্ঠানে গাজীপুরের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “সংগঠনের বিকল্প কিছু নেই। সংগঠন থাকলেই আপনি আন্দোলনে সফল হতে পারবেন, সংগঠন থাকলে আপনি নির্বাচনে সফল হতে পারবেন। এই বিষয়টা মনে রাখতে হবে।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “উনি মুক্ত না হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা যাবে না।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

‘রাজনীতিশূন্য করার চেষ্টা’

আওয়ামী লীগ তাদের আধিপত্য একচ্ছত্র করে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার পরিকল্পনা করেছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল।

তিনি বলেন, “এই সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে রাজনীতিশূন্য করে তুলেছে, বিরাজনীতিকরণ করছে। যেন রাজনীতি করতে না পারে বাংলাদেশের মানুষ।”

ফখরুল বলেন, “তাদের (সরকার) মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- দেশে এক দল থাকবে, আর কোনো দল থাকবে না। আগে বাকশাল করেছিলো, এখন তারা সেটা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখতে চায়।”

বাকশাল শাসনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা অনেকেই ভুলে গেছি- সেই সময়ে বিরোধী দল করত বলে তরুণ যুবককে তার বাবাকে দিয়ে কুড়াল দিয়ে গলা কাটিয়েছে, সেই মাথা নিয়ে তারা ফুটবল খেলা করেছে। এটা ইতিহাস।”

বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে বাংলাদেশের কোথাও ভালো অবস্থা নেই। কোথাও সুশাসন নেই, আছে দুঃশাসন। অর্থনীতিকে শেষ করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো পুরোপুরিভাবে দেউলিয়া করে ফেলা হচ্ছে।”

এবারের কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে অস্থিরতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকে তাদের কারণেই, তাদের সমস্ত দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের কারণেই সিন্ডিকেট তৈরি করে চামড়া শিল্প ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের চামড়া শিল্প উপরের দিকে উঠছিল, এখন চামড়া শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে।”