১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার: মওদুদ

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-08 20:32:04 BdST

নেতাকর্মীদের মনোবলে চাঙা থাকার পরামর্শ দিয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের পতন এখন ‘সময়ের ব্যাপার’।

সরকার তাদের নিজস্ব দুর্বলতা ও ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে নিজেদের পতন টেনে আনবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ একথা বলেন।

তিনি বলেন, “এই সরকারের পতন, এটা সময়ের ব্যাপার। এটা যে কোনো সময়ে…। যে কোনো ছোট ঘটনা থেকে বড় বড় ঘটনা ঘটে, যখন সরকারের পক্ষে আর সেগুলো সামাল দেওয়া সম্ভবপর হবে না। যেমন দুর্নীতি, এই দুর্নীতি সরকারের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভবপর হবে না। ২-৪ জন বা কয়েকজনকে সাজা দিলে দুর্নীতি থেকে মুক্ত হতে পারবে না।

“দেশের মানুষ আন্দোলন করবে এবং তাদের পতন আনবে। এই সরকার তাদের নিজস্ব দুর্বলতা, নিজস্ব ব্যর্থতার কারণে তাদের পতন টেনে আনবে। আমরা এই আন্দোলনের মাধ্যমে সেটাকে সফল করার চেষ্টা করব।”

নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে মওদুদ আহমদ বলেন, “আপনাদের মনে অনেক শঙ্কা, ভয়-ভীতি এবং মনে করেন যে, এই সরকারের আর পতন হবে না, এই সরকার বোধ হয় …। কারণ আমরা আন্দোলন করতে পারছি না, রাস্তায় নামতে পারছি না সেজন্য এই সরকারের বোধ হয় পতন হবে না। কিন্তু আমি নিরাশ নই, হতাশ নই। আমি একজন প্র্যাকটিসিং পলিটিশিয়ান। অতীতে যে ধরনের আন্দোলন করে একটা সরকারের পতন ঘটাতে হয়েছে, সেই ধরনের আন্দোলনে সব সময় পতন হয় না, প্রয়োজনও পড়ে না।

“আমি মনে করি, বর্তমান সরকার তাদের নিজেদের দুর্নীতির কারণে নিজেদের পতন টেনে আনবে। কারণ দুর্নীতির যে শিকড়, যে সুড়ঙ্গ তারা তৈরি করেছে সেই সুড়ঙ্গ থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারবে না। এই খালেদ, শামীম আর সম্রাট- যাদেরকে ধরেছেন, আপনারা ভাবছেন এদের বিচার করেই আপনারা পার পেয়ে যাবেন? এটা যথেষ্ট নয়। এটা ‘টিপ অব দি আইসবার্ক’। এই দুর্নীতি সরকারের শাখা-প্রশাখায় একেবারে গভীর সুড়ঙ্গ সৃষ্টি করেছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই তাদের পতন ঘটতে বাধ্য এবং তাদের পতন ঘটবে। মানুষের জাগরণ হবে, অবশ্যই হবে।”

জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার নাম না আসায় দুঃখ প্রকাশ করেন মওদুদ।

তিনি বলেন, “গতকাল প্রধানমন্ত্রী অনেকের স্মৃতিচারণ করেছেন। জাসদের নেতা বাদল (মঈন উদ্দীন খান বাদল) মারা গেছেন, তার জন্য কথা বলেছেন কিন্তু ক্ষণিকের জন্য তিনি সাদেক হোসেন খোকার নাম উচ্চারণ করেননি। আমরা লজ্জা পেয়েছি যে, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি এতজনের কথা বললেন কিন্তু খোকার কথা বললেন না।

“কেন করেননি? সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। শুধু কি এটাই কারণ যে, একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে খোকা প্রধানমন্ত্রীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন নির্বাচনে- এই কারণেই কি তার কথাটা তার মনে আসেনি? আমরা তো প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে চাই, একজন বিরাট মনের মানুষ হিসাবে। তার মনে তো এ রকম হীনমন্যতা থাকার কথা নয়। তার উচিত ছিল সর্বপ্রথম সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু বক্তব্য রাখা। সাদেক হোসেন খোকা আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যতদিন থাকবে ততদিন তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।”

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, “বলা হচ্ছে, স্বাধীনতা তো চুরি হয়ে গেছে; দেশে কোনো রাজনীতি নাই, জনগণের স্বাধীনতাও নাই। আমি মওদুদ ভাইকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, হিটলার-মুসলিনিসহ পৃথিবীতে কোনো ব্যক্তির নামে ক্যান্টনমেন্ট আছে কি না? উনি বললেন, নাই। ক্যান্টনমেন্ট কি করে একজন ব্যক্তির নামে হয়?

“সাদেক হোসেন খোকার শৌর্য-বীর্য, সাহস অনেকে এখানে আছেন তারা দেখেন নাই। ঢাকা শহরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে খোকা অনেকগুলো অপারেশন করেছেন, ঢাকা শহরে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি ও সেক্টর কমান্ডারদের নামে যে রাস্তা বা সড়কের নামকরণ- এটা খোকার সময়ে করা। এই সরকার যে কত বোকা, এটা গতকালকে তার (সাদেক হোসেন খোকা) যে জানাজা তাতে প্রমাণিত হয়েছে। খোকা বোকা নয়, আপনারাই বোকা।”

‘আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল’

বিএনপি ও তার জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে হিন্দুদের ওপর হামলা, নির্যাতনের অভিযোগ বিভিন্ন সময় উঠলেও মওদুদ আহমদ আওয়ামী লীগকে ‘সাম্প্রদায়িক দল’ বলেছেন।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কত মন্দির, আমাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখল করেছে- এটা হিসাব যদি আমরা দেই তাহলে দেখব যে, আওয়ামী লীগ একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। কারণ তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন সংখ্যালঘুদের উপরে…।

“আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন দুই হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছিল কিন্তু তাদের সময়ে এসে এটা কমে গেছে। কারণ হিন্দুরা সিকিউরড ফিল করেন না। যদিও আমরা বলি- তারা ভোট ব্যাংক, আসলে তারা মনে-প্রাণে আওয়ামী লীগকে সাংঘাতিকভাবে ভয় পায়।”

খালেদা জিয়ার মুক্তি ‘জামিনে না হলে রাজপথে হবে’ বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।

ঢাকার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন মৃত্যুতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। গত ৪ নভেম্বর নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খোকা।

সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বি্শেষ সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা বিলকিস জাহান শিরিন, নিপুণ রায় চৌধুরী, কাজী মনিরুজ্জামান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।