১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ওয়ার্কার্স পার্টিই আবুল বাশারকে ভুলতে বসেছে, আক্ষেপ মেননের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-08 23:27:22 BdST

bdnews24

ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি আবুল বাশার তার মৃত্যুর মাত্র নয় বছরের মধ্যে খোদ দলের ভেতরেই ‘বিস্মৃত’ হয়েছেন বলে আক্ষেপ করেছেন পার্টির বর্তমান সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

আবুল বাশারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার পল্টনে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত এক স্মরণসভায় মেননের এমন মন্তব্য আসে।

তিনি বলেন, “আমাদের পার্টিতেই বিস্মৃত হয়েছেন কমরেড আবুল বাশার। আমরা অনেকেই তার সম্পর্কে সঠিকভাবে জানি না। পার্টিতে তার সম্পর্কে সেভাবে আলোচনা হয় না।”

স্বাধীনতা-পূর্ব ও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও বাম ঐক্যের অন্যতম পুরোধা আবুল বাশারকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে দলের নেতাদের উদ্দেশে মেনন বলেন, “তিনি শ্রমিক আন্দোলনকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রেখেছেন, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের আন্দোলনে যে ভূমিকা রেখে গেছেন, তা যার যার স্মৃতিতে রয়েছে তা এই স্মারকগ্রন্থে লিখুন।”

১৯৩৪ সালে লক্ষ্মীপুরে জন্ম নেওয়া আবুল বাশার ষাটের দশকে চট্টগ্রামের শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ন্যাপের রাজনীতি থেকে পরে তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক হন। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন পূর্ব পাকিস্তান মজদুর ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

শ্রমিক আন্দোলন করতে গিয়ে বহুবার জেলও খাটতে হয়েছে আবুল বাশারকে। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশ গঠন করে শ্রমিক আন্দোলনকে বেগবান করেন।

১৯৮৫ সালে মজদুর পার্টি ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি একীভূত হলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন বাশার। ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুর সময়ও তিনি পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন।

আবুল বাশার মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে কীভাবে কৃষক-শ্রমিককে একতাবদ্ধ করেছিলেন, সে প্রেক্ষাপট অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মেনন।

তিনি বলেন, “পূর্ব পাকিস্তানে যে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাদের নেতারা শাসক-গোষ্ঠী বা মালিক পক্ষের স্বার্থ দেখতেন। সেখান থেকে শ্রমিক আন্দোলনকে বের করে নতুন দিশা দিয়েছিলেন কমরেড আবুল বাশার।

“অর্থনীতিবাদের আন্দোলন থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত অর্থে শ্রেণি সংগ্রাম যাকে বলে, তার রূপ দিয়েছিলেন আবুল বাশার। শ্রমিক আন্দোলনের রাজনীতিকরণ করেছিলেন তিনি।”

পাকিস্তানি সামরিক শাসনের যাতাকলে পিষ্ট বাংলার শ্রমিক-কৃষকের মধ্যে আবুল বাশার রাজনীতির ‘নতুন চেতনা’ সৃষ্টি করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন মেনন।

তিনি বলেন, “ষাটের দশকে পাটকল শ্রমিক আন্দোলন যে নতুন গতি পেয়েছিল, তাতে আবুল বাশার ছিলেন পথের দিশারী।

“শ্রমিক-কৃষকদের একতাবদ্ধ করে একদিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ধারায় সম্পৃক্ত করেছেন তিনি। অন্যদিকে বাম ধারায় স্বাধীনতার মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে অগ্রবর্তী হয়েছেন।”

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগ এখন শ্রমিক আন্দোলন ‘নিয়ন্ত্রণ করছে’ মন্তব্য করে মেনন বলেন, “২০১২ সালে তাদের নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা ছিল ৫ লাখ। এবার যে হিসাব এসেছে, তাতে তাদের নেতার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার।

“এই যে বাস্তবতা আন্দোলনের, তাতে দেখা যায় … শ্রমিক লীগই এখন শ্রমিক আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই দিনে বোঝা যায়, আজকে শ্রমিক আন্দোলন কোথায়!”

শনিবার ঢাকায় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতির এমন মন্তব্য নিয়ে শ্রমিক লীগ নেতাদের বক্তব্য জানা যায়নি।