সরকার উৎখাতের হুঙ্কার শুধুই শব্দ দূষণ: ইনু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-19 21:43:36 BdST

bdnews24

‘একটি মহল’ সরকারকে ‘উৎখাত’ করতে বিভিন্নভাবে চক্রান্ত চালিয়ে গেলেও ‘ব্যর্থ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলীয় জোটের এক সভায় তার এমন বক্তব্য আসে।  

তিনি বলেন, "সাম্প্রতিককালে চামড়াকাণ্ড, ভোলাকাণ্ড, পেঁয়াজকাণ্ড ও বুয়েটের হত্যাকাণ্ড- এই কাণ্ডগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। কথায় কথায় সরকার উৎখাতের হুঙ্কার শুধু শব্দ দূষণই করবে।"

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ১৪ দলের মুখপাত্র আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেন, "আমাদের যেটা উদ্বেগ, পেঁয়াজের মজুদ যেখানে আছে, সেখানে কী কারণে দাম বাড়ানো হল?

“এখন যখন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে, তখন রাতারাতি দাম কমে যাচ্ছে। পচা পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, শুকানো হচ্ছে, তার মানে কী? এরা চিহ্নিত ব্যক্তি। অশুভ একটি মহল যারা মানুষের ক্ষুধাকে কেন্দ্র করে অতীতেও চক্রান্ত করেছে, এখনও করছে।’‘

যারা গুদামে পেঁয়াজ রেখে পচিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।  

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, “চালের দাম বাড়ানোরও চেষ্টা হচ্ছে। রাজনীতিতে একটা বড় খারাপ দৃষ্টান্ত হল, মানুষের খাবার নিয়ে রাজনীতি ও চক্রান্ত করা। দয়া করে আপনারা সমন্বিতভাবে কাজ করেন। কারণ এই মহল অত্যন্ত অশুভ একটি মহল।"

নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস-ট্রাক ধর্মঘটে মানুষকে ‘জিম্মি’ করা হচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, "নতুন সড়ক আইনটি নিয়ে যদি মালিক, শ্রমিক কারও কথা থাকে তাহলে কথা বলেন। কিন্তু ধর্মঘট করে মানুষকে জিম্মি করা আমরা সমর্থন করি না।"

সড়ক আইন বাস্তবায়নে দেশবাসীকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

বুয়েটে আবরার হত্যার প্রসঙ্গ টেনে নাসিম বলেন, "তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে চিহ্নিত খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মীরাও আছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি।

“তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, বুয়েটে এখনও অপ্রয়োজনীয় কতগুলি দাবি উত্থাপন করে অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে। এটি কীসের আলামত?”

শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জে, খুলনায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা লক্ষ্য করছি একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে।

“তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তারপরও মনে হয় একটা শেষ হলে আরেকটায় শুরু করার চেষ্টা হচ্ছে। তার অর্থই হল শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে কোনো লাশ ফেলাতে হবে যাতে রাজনৈতিকভাবে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়।"

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, "যারা মাঠের রাজনীতিতে পরাজিত হয়েছে, নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তাদের এখন উদ্দেশ্যই হলো কোনোভাবে মানুষের ক্ষুধা নিয়ে রাজনীতি করা, যাতে এই সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়। বিএনপি-জামায়াত করতে পারে না, এমন কাজ এ দেশে নেই।"

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুই দিন আগে দেওয়া বিএনপির চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের হাসানুল হক ইনু সাহেব নিজে ১৪ দলের পক্ষ থেকে উত্থাপন করেছিলেন, ভারত বাংলাদেশের সমঝোতা চুক্তি নিয়ে কোন কথা আছে কি না? কিন্তু কেউ বলেননি। কোন তথ্যই দিতে পারেনি।

“গত এক মাসেও কেউ কথা বলতে পারেননি। হঠাৎ করে দেখলাম চিঠি দিলো। আমরা সংসদে পাঁচ দিন ছিলাম, উনারাও ছিলেন, কিন্তু সেখানে একটি উক্তিও করল না যে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আমরা কথা বলব।"

বিএনপি ‘ইস্যু’ তৈরি করতেই প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছে মন্তব্য করে নাসিম বলেন, "এখন তো কোনো ইস্যু নেই। একটা নিউজ করার জন্য এই কথা বলেছেন। এই নিউজ করা হচ্ছে বিএনপির একটা অভ্যাস।"

গুজব ছড়িয়ে পরিবেশ ‘অশান্ত’ করার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “ভোলায় একটি ভুয়া নিউজ দিয়ে ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য পরে প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল।”