ভাষার দিনে বিএনপির ‘শপথ’ খালেদাকে মুক্ত করা

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-21 12:30:15 BdST

bdnews24

দেশ ‘গণতন্ত্রহীন অবস্থায়’ চলছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র ‘ফেরানোই’ তাদের একুশে ফেব্রয়ারির শপথ।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আজকে এই মহান দিবসে, যেদিন আমাদের সমস্ত জাতি এই দিবসকে স্মরণ করছে, তখন আমরা এটা বলতে বাধ্য হচ্ছি, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই্, আজকে দেশের মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং আইনের শাসন নেই। এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই।

“এই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবার জন্যে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করবার জন্য, আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিচ্ছি।”

দুর্নীতি মামলায় দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু সেখানে তার ‘উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না’ অভিযোগ করে হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন খালেদার আইনজীবীরা।

সে কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “এদেশের সংবিধান অনুযায়ী যা তার ন্যূনতম প্রাপ্য জামিন, সেই জামিনও তাকে দেওয়া হচ্ছে না।”

ভাষা আন্দোলনের স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যের বিষয় যে চেতনাকে ভিত্তি করে সেদিন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন হয়েছিল, স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই গণতান্ত্রিক চেতনা আজকে ৬৮ বছর পরেও…

“বর্তমান দখলদার সরকার জনগনের সমস্ত অধিকারগুলো হরণ করে, ভোটের অধিকার তাকে হরণ করে, তাদের বেঁচে থাকবার অধিকার হরণ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি করবার জন্য সবরকমের অপকৌশল করছে।”

একুশে ফেব্রুয়ারির ভোরে বলাকা সিনেমা হলের কাছে সমবেত হয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের মহাসচিবের নেতৃত্বে প্রথমে আজিমপুর কবরাস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।

এরপর প্রভাতফেরি করে সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা শ্যামা ওবায়েদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শামীমুর রহমান শামীম, সেলিম রেজা হাবিব, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক হারুন আল রশিদ, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, জাসাস সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, শায়রুল কবির খান, জাকির হোসেন রোকন, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, শেখ রবিউল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানসহ বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।