বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খালেদার মুক্তি চেয়ে আইনজীবী আকন্দের আর্জি

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-10 17:13:09 BdST

bdnews24
ফাইল ছবি

দুর্নীতির দুই মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

মঙ্গলবার ডাকযোগে আবেদনটি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছেন এই আইনজীবী।

আবেদনের অনুলিপি আইন এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ইউনুছ আলী আকন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং সংবিধানের ১১, ২১, ৩১, ৪৮ (৩), ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো স্পর্শকাতর জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কারও জন্য ক্ষমা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারেন।

“আমি বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। উনি বয়স্ক এবং অসুস্থ। মুক্তি পাওয়াটা তার সাংববিধানিক অধিকার। ইউএন চার্টার অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলে দেশে মানবাধিকার ফিরে আসবে।”

২০১০ সালে রাষ্ট্রপতি ২০ জনের দণ্ড মওকুফ করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির ক্ষমায়ও বেগম খালেদা মুক্তি পেতে পারেন। বিশ্বের অনেক দেশেই বিশেষ দিনে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। ঠিক সেইভাবে মুজিব শতবর্ষে খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে মুক্তি দিলে সমগ্র জাতি সরকারের পদক্ষেপে খুশি হবে এবং বাংলাদেশের ভাবমুর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।”

‘বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই’

এদিকে ইউনুছ আলী আকন্দের এই আবেদনের সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগ নেই বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সকালে নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “আকন্দ সাহেবের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। আমরা আপনার কাছে এটা প্রথম শুনলাম। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

“এটা অন্য কোনো পরিকল্পনা কিনা তাও জানি না। এটা (আবেদন) আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।”

দুই মামলায় সাজা নিয়ে দুইবছর ধরে কারাবন্দী খালেদা জিয়া এক বছর ধরে আছেন হাসপাতালে। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তার মুক্তি দাবি করে আসছে বিএনপি।

গত শনিবার হাসপাতালে খালেদাকে দেখে এসে বোন সেলিনা ইসলামের শঙ্কা প্রকাশের পরদিন তার মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর আসে গণমাধ্যমে।

তবে ওইদিনও মির্জা ফখরুল পরিবারের আবেদনের বিষয়টি না জানার কথা বলেছিলেন।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের করা আবেদন গৃহিত হবে বলে দেশবাসী করে।

“অন্তত সুচিকিৎসার জন্য হলেও অতিদ্রুত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সুচিকিৎসার জন্য দেশনেত্রীর মুক্তির আবেদন করা হয়েছে।

“দেশবাসী আশা করে তাদের সেই আবেদন গৃহিত হবে এবং দেশনেত্রীর মতো একজন বিশিষ্ট নাগরিক বিনা চিকিৎসায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।