বিএনপি-জামায়াতের শাসনে গ্যাসক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি:প্রতিমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-17 17:05:51 BdST

bdnews24

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে দেশের গ্যাসক্ষেত্রসহ অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর নিয়ন্ত্রিত ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে শনিবার রাতে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ছাতক গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকে দায়ী করে সম্প্রতি রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। বাংলাদেশের কাছে ওই ঘটনার জন্য বিলিয়ন ডলারের জরিমানা হস্তান্তরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নিজ বাসা থেকে আলোচনায় যুক্ত হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রামাণিক তথ্যসহ একাগ্রচিত্রে কাজ করলে অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায়। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত সালিশি আদালতে (ইকসিড) প্রমাণ করা গেছে যে, ছাতক গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের জন্য নাইকোই দায়ী।

“বিএনপি-জামাত সরকারের গ্যাস ফিল্ড ও বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে যদি দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস পেতাম তবে তা আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে পারতো। এটা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি।”

২০০৩ সালে নাইকো-বাপেক্স যৌথ উদ্যোগে একটি চুক্তির মাধ্যমে ছাতক গ্যাসক্ষেত্রটি উন্নয়নের দায়িত্ব পায় নাইকো। ২০০৫ সালে ৭ জানুয়ারি ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নাইকো কর্তৃক খনন কার্যক্রাম পরিচালনার সময় বিস্ফোরণ ঘটে যা ওই গ্যাসক্ষেত্র ও তার সন্নিহিত এলাকার পরিবেশ ও জনজীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

২০১০ সালে ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের জন্য তারা দায়ী নয় মর্মে ঘোষণা চেয়ে এবং গ্যাস বিক্রয়ের অর্থ দাবি করে নাইকো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত সালিশি  আদালত (ইকসিড) দুটি সালিশি মামলা দায়ের করে।

১০ বছরের জটিল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইকসিড ট্রাইব্যুনাল ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের জন্য যৌথ উদ্যোগ চুক্তির অধীন শর্তগুলো ভঙ্গের জন্য নাইকোকে দায়ী করে তাদের অভিযুক্ত করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেয়।

নাইকো দক্ষতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায়, যৌথ বিনিয়োগ চুক্তির শর্ত না মানায় এবং পেট্টোলিয়াম শিল্পের আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে বলে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়ে ২০১৬ সালের মার্চে নাইকোর কাছে বাপেক্সের জন্য ১১৮ মিলিয়ন ডলার ও বাংলাদেশের জন্য ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ইকসিডে দাবি উত্থাপন করে। রায়ে নাইকোর কাছ থেকে প্রত্যক্ষ ক্ষতিপূরণ ছাড়াও জনসাধারণের পুনর্বাসন, বিস্ফোরণের ফলে জনসাধারণের স্বাস্থ্যহানি, ভূমির ক্ষতিসহ পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ চেয়ে  দাবি উত্থাপন করার নির্দেশনা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ল অ্যান্ড পলিটিক্স রিভিউ শনিবার রাতে ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করে।

“নাইকো আর্বিট্রেশন ২০২০- রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ”- শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান সম্পাদক আজহার উদ্দিন ভূঁইয়া ও ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্নির সঞ্চালনায় আলোচনায় নাইকো আর্বিট্রেশন মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন গণি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক রুমানা ইসলাম বক্তব্য দেন।