স্বাস্থ্য খাতে সরকারের নজর নেই: রিজভী

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-21 19:30:04 BdST

bdnews24

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার দলীয় এক ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি বলেছেন, এটা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ‘সরকারের অবেহলার’ বহিঃপ্রকাশ।

রিজভী বলেন, “এই যে মহামারীর কবলে গোটা বাংলাদেশ, আজকে যে ভয়াবহ অবস্থা, এখানে সরকারের অগ্রাধিকারের যে খাতগুলো, তার মধ্যে ৭ নম্বরে রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতকে।

“গতবছর ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, এ বছর রাখা হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকার একটু বেশি। অর্থাৎ এখনো এই স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপারে সরকারের কোনো নজর নেই।”

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় গত মঙ্গলবার ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য খাতে ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট এডিপির ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

খাতগুলোর মধ্যে বরাদ্দের নিরিখে স্বাস্থ্য সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। আগের মতোই সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে যোগাযোগ খাতে।

কোভিড-১৯ মহামারীকালে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্য ফুটে ওঠায় নতুন বাজেটে এখাতে বরাদ্দ অনেক বাড়ানোর দাবি ‍থাকে তা ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে তা নাকচ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান।

সেদিন এইসি সভার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যাকে টাকা দেব, সে কোথায় কীভাবে খরচ করবে?

“তারা একটা গ্রহণযোগ্য বিশ্বাসযোগ্য ভালো মানের প্রকল্প নিয়ে আসুক। তার (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের) দক্ষতার প্রশ্ন আছে, তার ব্যবহার করার সক্ষমতার প্রশ্ন আছে।”

পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনায় রিজভী বলেন, “তাহলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত, বাংলাদেশের মেডিকেল হাসপাতাল, বাংলাদেশের সব কিছু অক্ষমরা চালাচ্ছে এবং এই সরকারের কারণেই অক্ষমদের হাতে আছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত। এরকম পরিস্থিতি চলতে পারে না।”

সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়ে কথা বলি না, তথ্যমন্ত্রী প্রতি সময়ে বিষোদ্গার করছেন। আপনারা তো কোনো কিছুর সমাধান করতে পারেননি। আজকে হাসপাতালে ভেন্টিলেটর নাই, অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই… এগুলো কি ব্যর্থতা নয়?”

‘ব্যর্থতার’ সমালোচনা করলেই সরকার ‘রাগান্বিত’ হয় মন্তব্য করে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “যারা এসব বিষয় নিয়ে ফেইসবুকে লেখেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে, গ্রেপ্তার করে।… মামলা-মোকদ্দমায় তারা সিদ্ধহস্ত। কে কোন বিষয়ে কি লিখছেন তারা সরকারের নজরদারি রয়েছে, অথচ করোনাকে প্রতিরোধ করার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই ব্যাপারে তাদের কোনো নজর নাই।”

দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এবং দুঃস্থদের জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ ‘ক্ষমতাসীনরা লুটপাট করছে’ বলেও অভিযোগ করে তিনি।

মহানগর উত্তর সভাপতি এম এ কাইয়ুমের উদ্যোগে এই ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মহানগর উত্তর কমিটির সহসভাপতি আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল হক, ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রাশেদ আলম মনু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

পরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে দুঃস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন রিজভী।

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম সে সময় উপস্থিত ছিলেন।