সঙ্কটে মানুষের পাশে আ. লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-23 22:30:15 BdST

করোনাভাইরাস সঙ্কটে খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার নিয়ে রাজধানীর কর্মহীন, অসহায় শ্রমজীবী ও ভাসমান মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকেই তারা কর্মহীন অসহায় শ্রমজীবী মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। এখন এই দুর্যোগের দিনে ঈদ আসায় খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি ঈদ উপহারও তারা বিতরণ করছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন থানা ও ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে।

দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন ঈদ সামনে থাকায় আমরা খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ বিতরণ করছি।”

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৭৫টি ওয়ার্ডে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯ শ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

“এছাড়া ১ কোটি ৭৫ লাখ ২ হজার ৪০০ টাকা আমরা নগদ দিয়েছি। এর বাইরে থানা ও ওয়ার্ডে অসহায়দের জন্য ঈদ উপহার পাঠাচ্ছি।”

উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য তারা সুরক্ষা উপকরণ দিয়েছেন।

“আর ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রত্যেকটি থানা ও ওয়ার্ডের প্রায় ৬ লাখ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি। এছাড়া নগদ অর্থ সহায়তা হিসেবে দিয়েছি ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। আমরা ঈদ উপহারও দিচ্ছি।”

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ফ্রি এম্বুলেন্স সার্ভিস, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, অসহায়, কর্মহীন ও ভাসমান মানুষকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংগঠনের নেতারা।

তারা বলছেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলে সামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

এছাড়া যুবলীগের আরেক নেতা সৈয়দ আলাউল আহমেদ সৈকত ‘মানবতার ডাক’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ খুলে বন্ধুবান্ধব ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে মোটর সাইকেলে ঘুরে ঘুরে মানুষকে সহায়তা দিচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সভাপতি নির্মল রন্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন।

আফজালুর রহমান বাবু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর সময় রাজধানীতে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছি। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে আমরা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। এখন ঈদ উপহারও বিতরণ করছি।”

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরাও প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন বলে জানান বাবু।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভ্পাতি কামরুল হাসান রিপন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রায় ১৫ হাজার অসহায় কর্মহীন ও ভাসমান মানুষের মধ্যে তারা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এর বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী এবং ১২ হাজার মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

“ঈদ উপলক্ষে আলাদাভাবে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছি আমরা।”

রাজধানীর অসহায় মানুষের পাশাপাশি ভাসমান সবজি বিক্রেতাদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন কৃষক লীগের নেতারা।

এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীর চন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। করোনাভাইরাস সংকটে কৃষকের প্রাণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ভাসমান সবজি বিক্রেতারা। আমরা রাজধানীজুড়ে খুঁজে খুঁজে তাদের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।“ 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ করে যাচ্ছে। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতারা প্রত্যেক থানা, ওয়ার্ডে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন বলে জানান সংগঠনের নেতারা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ আমাদের অব্যাহত আছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আমরা খাদ্য সামগ্রী ও ইফতার বিতরণ করছি।

“ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা করোনাভাইরাস সংকটে সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে আছে।“

এর বাইরেও এসব সংগঠনের অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।