পাটকল বন্ধ হওয়ায় কাঁচাপাট পাচার বাড়বে: বাম জোট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-13 23:22:45 BdST

bdnews24
রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ না করে আধুনিকায়নের দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে ডেমরার লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের পথে পদযাত্রায় বাম গণতান্ত্রিক জোট।

পাটের মৌসুমে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে কাঁচাপাট ‘পাচার বাড়বে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা।

তার বলছেন, কল বন্ধ হওয়ায় পাটের দাম মণ প্রতি প্রায় ‘৪০০-৫০০ টাকা’ কমে গেছে, তাতে ‘লাভবান’ হচ্ছে ভারত।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। পরে তারা ডেমরা লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে গিয়ে সমাবেশ করে।

জোটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকার এমন সময়ে পাটকল বন্ধ ঘোষণ করল যখন পাটের সৌসুম। ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণার পর পাটের দাম মণ প্রতি প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা কমে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের ৪০ লাখ পাট চাষী।

“এমনিতেই আমাদের কাঁচা পাট ভারতে পাচার হয়, রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ হওয়ায় কাঁচাপাট পাচার বাড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারতকেই লাভবান করবে।”

বাম জোটের নেতাদের উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকার লোকসানের অজুহাতে ২৬টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ লোকসানের প্রকৃত কারণ কী তা চিহ্নিত করে দূর করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। … লোকসানের জন্য শ্রমিকরা দায়ী নয়, দায়ী সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুল নীতি। এর দায় জনগণ নেবে কেন?”

চলতি জুলাই মাসের শুরুতে সরকার লোকসানে থাকা ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে প্রায় ২৫ হাজার কর্মীকে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের’ মাধ্যমে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানায়। এর পর থেকে বাম জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে আসছে।

সরকার বলছে,আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ‘দ্রুত’ এ পাটকলগুলো সচল করা হবে।

এর বিরোধিতা করে বাম নেতারা সমাবেশে বলেন, সরকার পিপিপির নামে জনগণের সম্পদ ‘ব্যক্তি মুনাফার হাতে’ তুলে দিতে চাচ্ছে। আগেও বহু কারখানা ব্যক্তিখাতে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলো এখন বন্ধ, কেউ কেউ চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “লোকসানের মূল কারণ পুরোনো যন্ত্রপাতি, অদক্ষ ও মাথাভারী প্রশাসন, সময়মতো অর্থ ছাড় না করা, পাট পণ্যের বহুমুখীকরণ না করা এবং দুর্নীতি, ও লুটপাট। ফলে আধুনিকায়ন করে লোকসানের কারণসমূহ দূর করে পাটকল লাভজনক করা সম্ভব।”

অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো চালু না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বাম নেতারা। পরে তারা আগামী ২০ জুলাই সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত মানবপ্রাচীর গড়া এবং দেশব্যাপী মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সিপিবির উপদেষ্টা ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিল সিবিএর সাবেক সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাল আল কাফি রতন, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দী, ইউসিবিএলের নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুঁইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহিদুল ইসলাম সবুজ সমাবেশে অংশ নেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।