বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে লক্ষ্য ছিল নব্য পাকিস্তান সৃষ্টি: আমু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-08-15 16:33:13 BdST

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করে নব্য পাকিস্তান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু।

শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভীড় এড়াতে দুপুরে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ।

পরে আমু বলেন, “পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

“বঙ্গবন্ধুকে যে অপশক্তি হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি, তারা জানত বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এ কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা স্বাধীন বাংলাদেশকে শেষ করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল।

“বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়েই সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হত্যা করা এবং একটি নব্য পাকিস্তান সৃষ্টি করার জন্য এ হত্যাকাণ্ড।”

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এই দেশ স্বাধীন হতো না। ইতিহাসের সেই মহামানব বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের নেতা বঙ্গবন্ধুকে ১৫ই আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু যখন বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সব কিছুতে স্বাভাবিক করেছিলেন। সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল।

“বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব নেতা, যেখানে গেছেন সেখানেই বঙ্গবন্ধুকে সমাদ্রিত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর দুইটা স্বপ্ন ছিল, একটা স্বাধীনতা আরেকটা সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা। একটা তিনি করে গেছেন। আরেকটা তিনি করে যেতে পারেন নাই।

“সেই কাজটি সমাপ্ত করার পথে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার হাতে ১৯৮১ সালে আমরা আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে দিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজের সমাপ্ত পথে এগিয়ে চলেছেন।”

কর্নেল জামিলের সমাধিতে শ্রদ্ধা

১৫ অগাস্ট নিহত তৎকালীন সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী।

এরপর আওয়ামী লীগ নেতারাও কর্নেল জামিলের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের দিকে ছুটে আসছিলেন বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব তৎকালীন কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। তিনি সোবহানবাগ মসজিদের কাছে পৌঁছালে তাকে থামায় পিজিআর কনভয়। কারণ জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, সামনে সেনা ইউনিট রয়েছে ও গোলাগুলি চলছে।

সামনে এগোনোর জন্য তিনি সেনাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তিনি জিপে চেপে বসেন এবং নিজেই গাড়ি চালিয়ে ৩২ নম্বর রোডে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। জিপে বসার পরপরই গুলি করা হয় তাকে। নীতি ও কর্তব্যের প্রতি অবিচল থেকে সাহসিকতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন দায়িত্বশীল এই বীর সৈনিক। 

কর্ণেল জামিলের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০০৯ সালে তাকে বীর-উত্তআম খেতাবে ভূষিত করে সরকার। সেনাবাহিনীও তাদের এই বীর সেনাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করে।