‘ত্রাসের রাজত্ব’ সৃষ্টি করেছে সরকার: ফখরুল

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-12 15:36:35 BdST

সারা দেশে সরকার ‘ত্রাসের রাজত্ব’ সৃষ্টি করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার দুপুরে নিঁখোজ এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে একেবারেই অচেনা-অজানা যে রাজনৈতিক দলটি দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছে গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকারের জন্য সেই দলটির হাতেই গত এক যুগ ধরে এদেশের মানুষ যেভাবে অত্যাচারিত-নির্যাতিত হচ্ছে-এটা ধারণার বাইরে। সারাদেশে একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “নো বডি সেইফ ইন দিস কান্ট্রি। এদেশে কেউ নিরাপদ নয়। এখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এমন পর্যায় চলে গেছে যে, সেখানে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা এটা একেবারে…, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের তো বটেই, সাধারণ মানুষ কিন্তু আপনার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

“আমরা বারবার বলেছি, আবারো বলছি- সরকার এগুলো বন্ধ করুক। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয়, আসলে কী আওয়ামী লীগ দেশ চালায়? এটা আমার কাছে একটা বড় প্রশ্ন। আমি খুব সিনসিয়ারলি এই কথাটা বলছি- কে দেশ চালায়?”

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের ৯ বছর পার হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশে একটা দুইটা নয়, আমাদের রাজনৈতিক নেতা যারা সিনিয়র লিডারস তারপরে ছাত্র নেতা, যুব নেতা তারাও গুম হয়ে গেছেন। আমাদের হিসাব অনুযায়ী ৫১৭ জন গুম হয়ে গেছেন, নাই, উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের পরিবার আশেপাশের সবাই বলেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা নিয়ে গেছে, সাদা পোশাকের লোকেরা নিয়ে গেছে। তারা এখন পর্যন্ত ফিরে আসেননি। এই রাজনৈতিক কারণে একটি পরিবারকে ধবংস করে দেয়া এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখের, কষ্টের।”

ইলিয়াসের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ কন্ঠে তিনি বলেন, ‘‘এই যে ইলিয়াসের দুই ছেলে একজন ব্যারিস্টার হয়েছে। ইলিয়াস যখন নিখোঁজ হয়ে যায় তখন ওরা দুই ছেলে ছোট, মেয়েটা ছোট ছিল। ওদের মা.. এরা জানে না ওরা কি করবে? বাবার জন্য কী কোনো কুলখানি করবে, কোনো কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করবে। তারা তো জানে না বাবা কোথায়?”

ঈদ উপলক্ষে ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলীর পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে দুপুরে বনানীর বাসায় যান বিএনপি মহাসচিব। তিনি ইলিয়াসের সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা, দুই ছেলে আবরার ইলিয়াস ও লাবিদ সারার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ উপহারও তাদের হাতে তুলে দেন।

এই সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও যুব দলের সাবেক সহসভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

দুই ছেলে ও এক মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালকে নিয়ে বনানীর বাসায় থাকেন ইলিয়াসের সহধর্মিনী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তাহমিনা রুশদীর লুনা।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস নিজের বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পরপরই ড্রাইভারসহ নিখোঁজ হন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তার ও গাড়ি চালক আনসার আলীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এই গণতন্ত্রের নেত্রীকে তারা (সরকার) তিন বছর যাবৎ আটক করে রেখেছে। যাকে দেশের প্রত্যেকটি মানুষ সন্মান করে, শ্রদ্ধা করে। শুধু প্রত্যেকটা মানুষ না, বিদেশের নেতা-নেত্রীরা তারা পর্যন্ত দেশনেত্রীকে অত্যন্ত সন্মান করেন, এখনো করেন।

“তিনি অসুস্থ হয়েছেন তার খবর কিন্তু তারা সবাই নিচ্ছেন। এই নেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তারা তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। উদ্দেশ্য কী? একটাই উদ্দেশ্য । দেশে একদলীয় বাকশাল তৈরি করা। তারা শাসন করবে, তারাই করবে।”